Published : 03 Nov 2023, 09:29 PM
চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু টানেল দেখার অভিজ্ঞতা নিতে শুক্রবারে ছিল উপচেপড়া ভিড়। ব্যক্তিগত গাড়ির পাশাপাশি লোকজন পরিবার নিয়ে টানেল দেখতে গেছে বাসে চড়ে।
গত ২৮ অক্টোবর টানেল উদ্বোধনের পর শুক্রবারই ছিল প্রথম ছুটির দিন। এদিন দুপুর থেকে টানেল ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিতে পতেঙ্গা প্রান্তে ভিড় করে বিভিন্ন বয়সী মানুষ।
টানেলে দুই চাকা ও তিন চাকার যানবাহন চলাচলে নিষেধ থাকায় সেই সুযোগটি লুফে নিয়েছে বাস, মাইক্রোবাস ও ভাড়ায় চালিত প্রাইভেট কার।
পতেঙ্গা সৈকত সংলগ্ন টানেলের প্রবেশ মুখে বিভিন্ন যানবাহনের জট লেগে যায়। সেখান থেকে বাস, মাইক্রোবাস ও ভাড়ায় চালিত কারে উঠে টানেল পাড়ি দিতে দর্শনার্থীদের দেখা যায় হুড়োহুড়ি করতে।
বাসে করে টানেল পাড়ি দিতে দর্শনার্থীদের গুনতে হয়েছে ৫০ টাকা (আসা-যাওয়া ১০০ টাকা), আর মাইক্রোবাসে আসা-যাওয়া ২০০/২৫০ টাকা।
টানেল দেখতে আগ্রহী দর্শনার্থীদের যাতায়াতে গত ১ নভেম্বর থেকে ‘টানেল ভ্রমণ’ সার্ভিস নামে দুটি বাস চালু করা হলেও শুক্রবার ছুটির দিনে টানেল পাড়ি দিতে দেখা গেছে কয়েকশ বাসকে।
আমান উল্লাহ নামে এক বাস চালক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, তিনি পোশাক শ্রমিক বহনের পাশাপাশি পতেঙ্গা রুটে বাস চালান। ছুটির দিনে টানেলে দর্শনার্থী বেশি থাকায় বাস চালাচ্ছেন টানেলে।

প্রতিজন যাত্রীর কাছ থেকে টানেল পার হতে ৫০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, “শুক্রবার চারবার টানেলে আসা যাওয়া করেছি। প্রচুর যাত্রী মিলছে। তবে এভাবে যাত্রী প্রতিদিন পাওয়া যাবে না।”
পতেঙ্গা প্রান্তে টানেল নির্মাণকারী সংস্থা চায়না কমিউনিকেশন কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (সিসিসি) কর্মী শাহাদাৎ হোসেন জানান, উদ্বোধনের পর থেকে শুক্রবারই সবচেয়ে বেশি গাড়ির চাপ হয়েছে।
“সকাল থেকে গাড়ির চাপ ছিল। তবে দুপুরের পর থেকে তা মারাত্মক আকারে বাড়তে থাকে। সময় গড়ানোর সাথে সাথে গাড়ির চাপও বাড়তে শুরু করেছে।”
পরিবারের সাথে টানেল দেখতে এসেছিলেন রিতু দাশ নামে এক কলেজ শিক্ষার্থী। বাবা-মাসহ পরিবারের কয়েক সদস্য মিলে তারা বাসে করে পতেঙ্গা প্রান্ত থেকে টানেলের আনোয়ারা প্রান্তে যাচ্ছিলেন।

তিনি বলেন, “পরিবারের সাথে এসে প্রথমে পতেঙ্গা সৈকতে গেছি। এখন সবাই মিলে টানেল দেখতে যাচ্ছি। এ টানেল দেখাটা আমাদের জন্য অন্যরকম অভিজ্ঞতা।”
স্ত্রী, সন্তান নিয়ে বাসে করে টানেল দেখতে যাচ্ছিলেন নগরীর হালিশহর এলাকার বাসিন্দা নুরুল কাদের।
এ অবকাঠামো ‘গৌরবের’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “যোগাযোগ ব্যবস্থাটা অনেক সহজ হয়ে গেছে। দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম টানেল তাই দেখার লোভ সামলাতে পারছি না। প্রথম ছুটির দিনেই দেখতে চলে এলাম।”
টানেল পার হয়ে আনোয়ারা প্রান্তে টোল প্লাজায় দেখা গেছে গাড়ির দীর্ঘ সারি। অনেককেই টোল প্লাজার জটে গাড়ি থেকে নেমে প্রথম টানেল দেখার স্মৃতি ধারণ করছেন। ছবি তোলার সময় নিরাপত্তায় দায়িত্বে থাকা লোকজন তাদের সরিয়ে দিচ্ছিলেন।
কর্ণফুলী উপজেলার বদলপুরা ইউনিয়নের বাসিন্দা ইলিয়াছ টানেল দেখতে এসেছেন পরিবার নিয়ে। বাড়ির কাছে টানেল হওয়ার পরও তাদের সেই টানেলে প্রবেশ করতে হবে গাড়িতে করে।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আজ শুক্রবার হওয়ায় লোকজনের অনেক চাপ। তাই গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে না। এ টানেল আমাদের জন্য অনেক গর্বের। তাই সেটি দেখতে যাচ্ছি।”
টানেল দেখে যারা পতেঙ্গা প্রান্তে ফিরে আসছেন, তাদের অনেককে দেখা গেছে যানজটের কারণে টানেলের মুখে নেমে পায়ে হেঁটে মূল সড়কে আসতে। অনেককেই আবার টানেলের পতেঙ্গা প্রান্তে বঙ্গবন্ধুর মুর্যালের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছিলেন।
সন্ধ্যায় দেখা যায়, টানেল দেখতে যাওয়া দর্শনার্থীদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে আউটার রিং রোডে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের। এ রোডের অন্তত তিন কিলোমিটার এলাকা জুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
টানেলের সহকারী প্রকৌশলী (টোল ও ট্রাফিক) তানভীর রিফাত বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “উদ্বোধনের পর প্রথম সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবারে রাত ১০টা পর্যন্ত টানেলে প্রায় ১৩ হাজার গাড়ি পারাপার করেছে। টোল আদায় হয়েছে ২৯ লাখ ৩৮ হাজার টাকা।”
গত ২৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই টানেল উদ্বোধনের পরদিন রোববার সকাল ৬টায় তা যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। খুলে দেয়ার প্রথম দিন তিন হাজার ৮৯টি গাড়ি পারাপার হয়েছিল। যেখান থেকে টোল আদায় হয়েছে ৬ লাখ ৬৮ হাজার ৯০০ টাকা।