Published : 23 Aug 2022, 03:00 PM
চট্টগ্রামের বায়েজিদ লিংক রোড সংলগ্ন জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অবৈধ বসতি উচ্ছেদে প্রশাসনের অভিযানের প্রতিবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছে স্থানীয়রা।
জঙ্গল সলিমপুরের হাজারখানেক লোক মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১টার দিকে মহাসড়কের ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি মোড় অবরেধ করে বিক্ষোভ শুরু করলে অল্প সময়ের মধ্যে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়ে যায়।

স্থানীয়রা প্রথমে বেলা ১২টার কিছু আগে বায়েজিদ লিংক রোডের এশিয়ান উইমেন ইউনিভার্সিটি সংলগ্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করে। পরে তারা ফৌজদারহাট এলাকায় গিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়।
পুলিশ জানিয়েছে, চার লেইনের মহাসড়কের দুই পাশই অবরুদ্ধ করে রেখেছে বিক্ষোভকারীরা। ফলে ঢাকা ও চট্টগ্রামমুখী যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, লরি, ব্যক্তিগত যানবাহন আটকা পড়েছে।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুল করিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা বিক্ষোভকারীদের সাথে কথা বলছি। তাদের সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা হচ্ছে।”
ঘটনার পরপরই পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সীতাকুণ্ডের ইউএনও শাহাদাত হোসেন বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন এবং তাদের অবরোধ উঠিয়ে নিতে বলেন।
আন্দোলনকারীদের দাবি, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় উচ্ছেদ করা বসতিতে বিদ্যুৎ সংযোগ ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি যে জমি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে, সেই জমি তাদের সরকারিভাবে বন্দোবস্ত দিতে হবে।

এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য দিদারুল আলম অবরোধস্থলে যাওয়ার জন্য রওনা হলেও যানজটে আটকা পড়েছেন বলে তার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
জঙ্গল সলিমপুরে হবে কারাগার স্টেডিয়াম, সঙ্গে ‘ছিন্নমূলদের’ পুনর্বাসনও: তথ্যমন্ত্রী
জঙ্গল সলিমপুরে টানা অভিযান, বাসিন্দাদের বিক্ষোভ
ঘটনাস্থলে উপস্থিত সীতাকুণ্ডের ইউএনও শাহাদাত হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা বিক্ষোভকারীদের সাথে কথা বলছি, দাবি বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছি। এখন তারা নিজেদের মধ্যে কথা বলছে। আশা করি দ্রুতই সুরাহা হবে।”
জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সরকারি খাস জমিতে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার, স্পোর্টস ভিলেজ, ক্রিকেট স্টেডিয়াম, আইকনিক মসজিদ, নাইট সাফারি পার্কসহ বিভিন্ন স্থাপনা করার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে।
এর অংশ হিসেবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জঙ্গল সলিমপুর এলাকার বিভিন্ন অংশে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। এরপর সরকারের মন্ত্রী এবং উচ্চ পদস্ত কর্মকর্তারা সেখানকার খাস জমি পরিদর্শন করেন।
এর ধারাবাহিকতায় ২০ অগাস্টের মধ্যে দখল করা খাস জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে। বিচ্ছিন্ন করা হয় বিদ্যুৎ সংযোগ।
স্থানীয় সাংসদ দিদারুল আলম, উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম আল মামুন, চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়, রেঞ্জ ডিআইজি আনোয়ার হোসেন, র্যাব-৭ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এমএ ইউসুফ, পুলিশ সুপার, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক রোববারও সলিমপুরে আলীনগর এলাকা পরিদর্শনে যান।