২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

৬ ঘণ্টা পর চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কন্টেইনার ডেলিভারি শুরু

পরিবহন শ্রমিকরা তাদের দাবি ব্ন্দর কর্তৃপক্ষকে স্বারকলিপি আকারে দেবে, যা বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয় আলোচনায়।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 29 Sep 2026, 01:01 AM

Updated : 29 Sep 2026, 01:01 AM

পণ্যবাহী ট্রেইলরের এক কর্মীকে মারধরের জেরে প্রায় ছয় ঘণ্টার মত ব্ন্ধ থাকার পর চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কন্টেইনার সরবরাহ শুরু হয়েছে।

গেইট পাশ নিয়ে পরিবহন শ্রমিক ও বন্দরের নিরাপত্তা কর্মীর বিতণ্ডা থেকে হাতাহাতিতে জড়ানোর এ ঘটনা নিয়ে আলোচনার পর সোমবার রাত ১০টার দিকে আবার বন্দরে কন্টেইনার পরিবহন শুরু হয়।

এর আগে বিকাল ৪টার দিকে মারামারির ঘটনার কিছু পর থেকে কন্টেইনার ডেলিভারি বন্ধ করে দেয়ে ট্রাক, প্রাইম মুভার ও ট্রেইলার চালক শ্রমিকরা।

পরে রাতে বন্দর ভবনে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের একাধিক সংগঠন, পুলিশ কর্মকর্তা ও বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের উপস্থিতি এক বৈঠক শেষে শ্রমিকরা তাদের আন্দোলন থামিয়ে কাজে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।

আন্ত: জেলা ট্রাক কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সমাজকল্যাণ সম্পাদক শামসুজ্জামান সুমন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের দাবি ও সমস্যার কথা বৈঠকে জানিয়েছি। আগামীকাল (মঙ্গলবার) লিখিত স্মারকলিপি আকারে বন্দর কর্তৃপক্ষকে দাবির বিষয়গুলো জানাব।

“এরপর চেয়ারম্যানের সাথে আমাদের সাক্ষাতের সময় নির্ধারণ করা হবে। গেইট পাসের অতিরিক্ত ফি আদায় বন্ধ করা, চালকদের পুরনো কিছু গেইট পাস কার্ড সচল করাসহ বেশ কিছু দাবি আছে। সব স্মারকলিপি আকারে দিব। তারা সেগুলো পূরণ করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।"

এছাড়া সোমবার বিকেলের ঘটনায় ট্রেইলার কর্মী আহত হওয়া ও মোবাইল ভাঙার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে বিচার করা হবে বলে বৈঠকে আশ্বাস দেওয়া হয় বলে জানান শামসুজ্জামান সুমন।

Image

ফাইল ছবি।

ওই বৈঠকে প্রাইম মুভারস ট্রেইলার শ্রমিক ইউনিয়ন, আন্ত: জেলা ট্রাক কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতি, বন্দর ট্রাক মালিক সমিতির নেতারা, বন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, বন্দর চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি, পুলিশের বন্দর জোনের ডিসি ও বন্দর থানার ওসি উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে রাত ১০টা কিছু পর থেকে আবার বন্দর থেকে কন্টেইনার ডেলিভারি স্বাভাবিক হয়েছে।

এর আগে সোমবার বিকাল ৪টা দিকে চট্টগ্রাম বন্দরের ৫নম্বর গেটে পণব্যাহী ট্রেইলরের এক কর্মীকে মারধরের এ ঘটনা ঘটে। শ্রমিককে মারধরের ওই ঘটনা পরে হাতাহাতিতে গড়ায়।

ওই ঘটনায় একজন ট্রেইলর কর্মী ছাড়াও আশিকুর রহমান নামে বন্দরের এক নিরাপত্তা কর্মী আহত হন বলে অভিযোগ করা হয়।

এরপর থেকে বন্দরের গেটগুলো দিয়ে কন্টেইনারবাহী লরি, প্রাইম মুভার চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এতে বন্ধ হয়ে যায় পণ্যবাহী কন্টেইনার ডেলিভারি কার্যক্রম।

শ্রমিকদের অভিযোগ, বন্দরের গেইটে প্রবেশ পাস দেওয়াকে কেন্দ্র করে ট্রেইলর শ্রমিক অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষের সঙ্গে বন্দর গেটে কর্মরত এক নিরাপত্তা কর্মীর প্রথমে বাগবিতণ্ডা পরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

প্রাইম মুভারস ট্রেইলার শ্রমিক ইউনিয়ন সভাপতি সেলিম খানের অভিযোগ, গেইট পাসের ফি বেশি নেওয়ার প্রতিবাদ করায় বন্দরের নিরাপত্তা কর্মীরা সংগঠনের একজনকে মারধর করে। পরে পণ্য পরিবহন বন্ধ করে দেন শ্রমিকরা।

চট্টগ্রাম বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম আগে বলেছিলেন, একটি সমম্যার কারণে কন্টেইনার বহনকারী যানবাহন চলছে না, যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।

দেশের প্রধান এ সমুদ্র বন্দর দিয়ে প্রতিদিন অন্তত পাঁচ হাজার কন্টেইনার সরবরাহ করা হয়।