০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

অনুমতি ছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরে ছবি, ভিডিও ধারণ ও প্রচার না করতে নির্দেশনা

অননুমোদিত তথ্য প্রকাশ বা প্রচারের মাধ্যমে বন্দর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা বলা হয়েছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 06 Oct 2026, 08:40 PM

Updated : 06 Oct 2026, 08:40 PM

দেশের গুরুত্বপূর্ণ ‘ক’ শ্রেণির স্থাপনা বা ‘কি পয়েন্ট ইন্সটলেশন (কেপিআই)’ হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। এ কথা স্মরণ করিয়ে অনুমোদন ছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরের ছবি ও ভিডিও ধারণ, স্কেচ করা বা যে কোনো ধরনের দৃশ্যমান তথ্য সংগ্রহ ও প্রচার থেকে সবাইকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মঙ্গলবার এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।

অননুমোদিত তথ্য প্রকাশ বা প্রচারের মাধ্যমে বন্দর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইন, নিরাপত্তা বিধিমালা ও বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রচলিত নির্দেশনা অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) বিদেশি অপারেটরের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে সম্প্রতি অবস্থান কর্মসূচিসহ নানা আন্দোলন করছে বন্দর রক্ষা কমিটি। এছাড়া সম্প্রতি ফেইসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বন্দরের বিভিন্ন স্থানের কিছু ছবি ও ভিডিও ছড়িয়েছে।

এমন পরিস্থিতির মধ্যে বন্দর কর্তৃপক্ষের এই নির্দেশনা এল।

বন্দরের নির্দেশনায় বলা হয়, অনুমোদন ছাড়া বন্দরের সংবেদনশীল স্থাপনা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, প্রবেশ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, নজরদারি ব্যবস্থা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, জাহাজ ও কার্গো ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য সংবেদনশীল স্থাপনার ফটোগ্রাফি, ভিডিও ধারণ, স্কেচ প্রণয়ন বা যে কোনো ধরনের দৃশ্যমান তথ্য সংগ্রহ ও প্রচার থেকে বিরত থাকতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা দেওয়া হল।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও জাতীয় নিরাপত্তা বিধিমালা অনুসরণ করে বন্দরের কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায়, চট্টগ্রাম বন্দর অইএসপিএস অনুসরণকারী বন্দর হিসেবে ‘জিরো অবজারভেশন’ অর্জন করেছে। দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘ক’ শ্রেণির কেপিআই হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও সংবেদনশীল স্থাপনার সুরক্ষা জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী বন্দরের সুষ্ঠু পরিচালনার স্বার্থে এবং সর্বসাধারণের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে বন্দর সীমানার অন্তর্ভুক্ত সব স্থান ও স্থাপনা সংরক্ষিত এলাকা হিসাবে বিবেচিত। এছাড়া অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট, ১৯২৩ এর বিধান অনুসারে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট সংবেদনশীল স্থান, তথ্য, নকশা, ছবি বা অন্যান্য উপাত্তের অননুমোদিত ধারণ, প্রকাশ বা প্রচার আইনত দণ্ডনীয় হতে পারে।

কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, গণমাধ্যম বা অন্য কোনো মাধ্যমে বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সংরক্ষিত এলাকা, নজরদারি সক্ষমতা, স্থাপনার বিন্যাস, অপারেশনাল তথ্য প্রকাশ ও প্রচার সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত বলেও বর্ণনা করা হয় নির্দেশনায়। এ ধরনের তৎপরতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মনে করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

নিদের্শনায় বন্দর ব্যবহারকারী সবাইকে এ সংক্রান্ত নিরাপত্তা নির্দেশনা যথাযথভাবে প্রতিপালনের জন্য বলা হয়।