Published : 27 Oct 2025, 10:29 PM
‘দায়িত্বে অবহলোর’ অভিযোগে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশানের (সিসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছেন মেয়র শাহাদাত হোসেন।
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে মেয়রের অভিযোগ, তিনি কর নির্ধারণে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে অবহেলা করেছেন।
সোমবার দেওয়া নোটিসে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে উদ্দেশ করে বলা হয়েছে, “কর নির্ধারণে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে ২০২৩ সালের ২৮ মে। আপনি ওই সময় থেকে চলতি বছরের ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের ব্যবস্থা করাসহ দোষীদের শনাক্ত করা এবং সংশ্লিষ্ট দুটি প্রতিষ্ঠানের গৃহকর পুনঃনির্ধারণে কোনো পদক্ষেপ নেননি।”
এ কারণে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে এবং দোষী ব্যক্তিদের যথাসময়ে কোনো শাস্তির আওতায় আনা সম্ভব হয়নি তুলে ধরে নোটিসে বলা হয়, “এতে স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন ২০০৯ এর ৬২ (২) ধারা অনুসারে আপনার দায়িত্ব অবহেলার বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়।”
নোটিস পাওয়ার ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে ‘দায়িত্ব অবহেলার’ বিষয়ে কারণ দর্শাতে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেন মেয়র।
এ বিষয়ে মেয়র শাহাদাত হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “যখন এ বিষয়ে অভিযোগ ওঠে, তখন থেকে তিনি দায়িত্বে ছিলেন। আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর বিষয়টি তিনি আমাকে জানানি।
“জানুয়ারি মাসে আমি জানতে পেরে পুনরায় এ বিষয়ে তদন্ত করতে তদন্ত কমিটি গঠন করি। কিন্তু গত ৮-৯ মাসেও তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়নি। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে এর দায়-দায়িত্ব ওনারই।”
মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, “তিনি প্রশিক্ষণে যাওয়ার পর সচিব যখন ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পেলেন, তারপরই তদন্ত প্রতিবেদন পেলাম। এরপর আমরা জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি।”
এদিকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম গত ৬ সেপ্টেম্বর প্রশিক্ষণের জন্য ছুটিতে যান। সেসময় ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পান সিটি করপোরেশনের সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন।
প্রশিক্ষণ শেষে গত ২২ অক্টোবর সিটি করপোরেশনের মেয়র বরাবরে যোগদানপত্র জমা দেন শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম। কিন্তু তা গ্রহণ করা হয়নি।
এ বিষয়ে মেয়র শাহাদাত হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “তিনি জয়েন করতে এসেছিলেন। কিন্তু যোগদানপত্র গ্রহণ করা হয়নি। যেহেতু এই বিষয়ে ওনার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাচ্ছে, তাই দায়িত্ব দিতে পারছি না। বিষয়টি সুরাহা হলে তারপর দেখা যাবে।”
অভিযোগের বিষয়ে শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নোটিস দেয়ার বিষয়টি আমি শুনেছি। অফিসিয়ালি এখনও চিঠি পাইনি। ঘষামাজার ঘটনা হয়েছে ২০১৭-১৮ সালে। তখন আমি দায়িত্বে ছিলাম না। আমি যোগ দিয়েছি ২০২২ সালে। বিষয়টি জানার পর তখন আমি তদন্ত কমিটি করে দিয়েছি।
“সেসময়ের আইন কর্মকর্তা, যিনি একজন অতিরিক্ত জেলা জজ পদমর্যাদার কর্মকর্তা, ওনাকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি করা হয়েছিল। এক্ষেত্রে আমার কোনো গাফিলতি নেই। তদন্ত শেষ করতে কয়েকবার তাগাদাও দিয়েছি। তিনি আইনের বিষয়ে অভিজ্ঞ লোক। সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহসহ নানা কারণে বিলম্ব হতে পারে। সেটা উনি ভালো বলতে পারবেন।”
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, “নথি ঘষামাজার অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে, তাদের একজন কীভাবে পদোন্নতি পেলেন, সেই প্রশ্নও তো থাকে। যাই হোক, নোটিস হাতে পেলে বিস্তারিত বলতে পারব।”

এর আগে বৃহস্পতিবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি দল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে (সিসিসি) অভিযান চালিয়ে দুটি প্রতিষ্ঠানের কর নির্ধারণে অনিয়মের প্রমাণ পায়।
সেদিন দুদক উপ-পরিচালক সায়েদ আলম বলেন, “একটা হলো এছাক ব্রাদার্স; আরেকটা ইনকনট্রেড। প্রথমটির ভ্যালুয়েশন ২৬ কোটি টাকা ছিল। পরে তা ঘষামাজা করে ৬ কোটি টাকা করা হয়। ইনকনট্রেডের ২৫ কোটি টাকা ভ্যালুয়েশনকে ঘষামাজা করে ৫ কোটি টাকা করা হয়েছে। সেটার উপরে পৌরকর নির্ধারণ করা হয়।
“কর কর্মকর্তা এবং প্রতিষ্ঠানের মালিকরাও জড়িত, কারণ তারা বেনিফিশিয়ারি। তাদের যোগসাজশ রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতিপন্ন হয়েছে।”
অন্যদিকে সিসিসির নিজস্ব তদন্তে কর নির্ধারণে অনিয়মের প্রমাণ মেলায় বুধবার কর কর্মকর্তা নুরুল আলম ও উপকর কর্মকর্তা জয় প্রকাশ সেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
অনিয়মে সহায়তার অভিযোগে তিন হিসাব সহকারী মঞ্জুর মোর্শেদ, রূপসী রাণী দে ও আহসান উল্লাহকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে সিটি করপোরেশনের সচিবালয় বিভাগে সংযুক্ত করা হয়েছে।
সিসিসি কর্মকর্তারা জানান, ২০১৭–১৮ অর্থ বছরে এছাক ব্রাদার্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ও ইনকনট্রেড লিমিটেডের কর নির্ধারণে বার্ষিক মূল্যায়ন করা হয়। কিন্তু পরে আপিল রিভিউ বোর্ডের শুনানিতে উপস্থাপনের সময় ফরম থেকে নির্ধারিত পৌরকরের শুরুর অংক ‘২’ মুছে দেওয়া হয়।
এতে দুটি প্রতিষ্ঠানেরই কর ২০ কোটি টাকা করে কমে যায়। আপিল রিভিউ বোর্ডে ইনকনট্রেড লিমিটেডের শুনানি ২০২০ সালের ২৪ ডিসেম্বর এবং এছাক ব্রাদার্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের শুনানি হয়েছিল ২০২১ সালের ১৩ জুন।
সিসিসিতে অভিযান: ২ প্রতিষ্ঠানের কর নির্ধারণে 'অনিয়ম পেয়েছে দুদক'