সিসিসিতে অভিযান: ২ প্রতিষ্ঠানের কর নির্ধারণে ‘অনিয়ম পেয়েছে দুদক’
“কর কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানের মালিকরাও জড়িত, কারণ তারা সুবিধাভোগী,” বলেন দুদক কর্মকর্তা সায়েদ আলম।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে (সিসিসি) অভিযান চালিয়ে দুটি প্রতিষ্ঠানের কর নির্ধারণে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর টাইগার পাসে অস্থায়ী নগর ভবনে অভিযান চালায় দুদকের একটি দল।
সিসিসির রাজস্ব সার্কেল-৮ এর নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া দুদক উপ-পরিচালক সায়েদ আলম।
কর নির্ধারণে অনিয়ম পাওয়া প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তিনি বলেন, “একটা হলো এছাক ব্রাদার্স; আরেকটা ইনকনট্রেড। প্রথমটির ভ্যালুয়েশন ২৬ কোটি টাকা ছিল। পরে তা ঘষামাজা করে ৬ কোটি টাকা করা হয়। ইনকনট্রেডের ২৫ কোটি টাকা ভ্যালুয়েশনকে ঘষামাজা করে ৫ কোটি টাকা করা হয়েছে। সেটার উপরে পৌরকর নির্ধারণ করা হয়।
“আমরা এখানে ফিল্ড বুক, ট্যাক্স অ্যাসেসমেন্ট তালিকা, পাবলিশড ডকুমেন্ট এবং যে তদন্ত প্রতিবেদন, তা দেখেছি। রাজস্ব সার্কেলটির কর কর্মকর্তা, উপ কর কর্মকর্তা ও হিসাব বিভাগের কর্মচারীরা সম্পৃক্ত। এটা তো ফৌজদারি অপরাধ। আমরা আজ নথিপত্র নিয়ে যাব। ফাইন্ডিংস কমিশনকে জানাব। সেখান থেকে যে নির্দেশনা আসবে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিব।”
তিনি বলেন, “কর কর্মকর্তা এবং প্রতিষ্ঠানের মালিকরাও জড়িত, কারণ তারা বেনিফিশিয়ারি। তাদের যোগসাজশ রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতিপন্ন হয়েছে।”
এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে জানতে চাইলে সায়েদ আলম বলেন, “এটা সিটি করপোরেশনের শিডিউলভুক্ত অপরাধ না। তারা হয়ত তালিকা করে প্রতিষ্ঠান দুটিকে ব্ল্যাক লিস্টেড করতে পারে। এটা যেহেতু দুদকের শিডিউলভুক্ত অপরাধ, তাই দুদক দুদকের মতো কাজ করবে।”
অন্যদিকে সিসিসির নিজস্ব তদন্তে কর নির্ধারণে অনিয়মের প্রমাণ মেলায় বুধবার কর কর্মকর্তা নুরুল আলম ও উপকর কর্মকর্তা জয় প্রকাশ সেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
অনিয়মে সহায়তার অভিযোগে তিন হিসাব সহকারী মঞ্জুর মোর্শেদ, রূপসী রাণী দে ও আহসান উল্লাহকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে সিটি করপোরেশনের সচিবালয় বিভাগে সংযুক্ত করা হয়েছে।
সিসিসি কর্মকর্তারা জানান, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এছাক ব্রাদার্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ও ইনকনট্রেড লিমিটেডের কর নির্ধারণে বার্ষিক মূল্যায়ন করা হয়। কিন্তু পরে আপিল রিভিউ বোর্ডের শুনানিতে উপস্থাপনের সময় ফরম থেকে নির্ধারিত পৌরকরের শুরুর অংক ‘২’ মুছে দেওয়া হয়।
এতে দুটি প্রতিষ্ঠানেরই কর ২০ কোটি টাকা করে কমে যায়। আপিল রিভিউ বোর্ডে ইনকনট্রেড লিমিটেডের শুনানি ২০২০ সালের ২৪ ডিসেম্বর এবং এছাক ব্রাদার্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের শুনানি হয়েছিল ২০২১ সালের ১৩ জুন।
বৃহস্পতিবার দুদকের অভিযান শেষে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন সাংবাদিকদের বলেন, “যে তিনজন হিসাব সহকারী ছিলেন, তারা বলেছেন ডিটিও এবং টিও এর নির্দেশে তারা কাজটি করেছেন। প্রতিবেদন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
“কেন তারা কাজটি করেছেন সেটা তদন্তে আসেনি। মেয়র মহোদয় এ বিষয়ে খুব কঠোর। তিনি বলেছেন, প্রতিটা বিষয় যেন স্বচ্ছভাবে হয়। দুদক তদন্ত প্রতিবেদন চেয়েছে, সেটা দেওয়া হয়েছে।”
এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের গঠিত তদন্ত কমিটি গত সপ্তাহে প্র্রতিবেদন জমা দেয়।
