Published : 18 Apr 2026, 02:48 PM
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে সরকার বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করার কথা বলেছেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
তিনি বলেন, সরকার রাষ্ট্র ও জনগণেন স্বার্থকে প্রাধান্য দেবে।
শনিবার নগরীর সল্টগোলা ক্রসিং এলাকায় ন্যাশনাল মেরিটাইম ইন্সটিটিউটের এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নে নৌমন্ত্রী এ কথা বলেন।
শ্রমিকদের আন্দোলন চলার মধ্যে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের চার দিন আগে ৮ ফেব্রুয়ারি মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি।
নতুন সরকারের নৌমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন ছিল এনসিটি চুক্তির যে প্রক্রিয়া চলছিল সেটার বিষয়ে এখন সরকারের অবস্থান কী?
জবাবে মন্ত্রী বলেন, “সরকার রাষ্ট্র এবং জনগণের স্বার্থ বিবেচনা করছে, প্রাধান্য দিবে। যে অবস্থায় ছিল, এগিয়ে ছিল, সেই অবস্থায় এখনো আছে। আমরা এটার বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করছি।
“আমাদের স্বার্থ কীভাবে রক্ষা হবে। আমাদের পোর্টের নিরাপত্তাটা কীভাবে থাকবে। টেকনোলজি যেটা আমাদের ‘অ্যাচিভ’ করা ‘ডে বাই ডে’ দরকার, ‘অ্যাজ আ নেশন’, সেটা আমরা কীভাবে অ্যাচিভ করতে পারি, বন্দর ব্যবস্থাপনায়।”
তিনি বলেন, “আবার ওটার সুফল কী কী আছে। আবার অন্য কোন কোম্পানিকে দিয়ে দিলে আমাদের সক্ষমতায় যেটা ‘অ্যাচিভ’ করছি ‘ডে বাই ডে’, সেখানে কোনো ব্যত্যয় ঘটে কিনা-এ ধরনের বহুমুখী চিন্তা বা সমস্যাগুলি আমলে নিয়ে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
“মনে রাখবেন যাই করা হবে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সরকার ‘ব্রুট মেজরিটি’ নিয়ে জনগণের আস্থা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। দেশ এবং জনগণের স্বার্থ ধারণ করেই সিদ্ধান্ত নেবে।”
চট্টগ্রাম অঞ্চলে চলমান বড় প্রকল্প পরিদর্শনে তিনি এসেছেন তুলে ধরে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, বন্দর ব্যবস্থাপনা ভালোভাবে চলছে। তবে আরও কিছু চ্যালেঞ্জ আছে। আরো কীভাবে বন্দরকে কার্যকর করা যায়। এখানে সীমান্ত সড়ক আছে বান্দরবানে। সেটাও দেখে যেতে চান তিনি।
প্রকল্পগুলো যাতে যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হয় এবং সম্ভাবনা যাতে শতভাগ কাজে লাগে সে উদ্দেশ্য দুই দিনে চলমান বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প পরিদর্শন করার বলেছেন রবিউল আলম।
জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, “জ্বালানি ইতোমধ্যে পেট্রোল পাম্পগুলোতে এবং গ্রাহকদের কাছে চাহিদা অনুসারে সরবরাহ করেছি। তাতে কোন সংকট থাকার কথা না।
“কারণ নিয়মিতভাবে সারা বছর বা অন্য সময় যতটুকু সরবরাহ প্রয়োজন হয়ে থাকে তার চেয়ে বেশি সরবরাহ করা হচ্ছে। তারপরও সংকট কৃত্রিমভাবে তৈরি করার একটা দৃশ্য আমরা দেখছি। এর পিছনে কী আছে আপনাদেরও দেখা দরকার।”
এ বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করে ‘ব্যত্যয়টা কোথায়’ তা বের করতে সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, “আমরা সবাই মিলে এই চ্যালেঞ্জটাকে নিতে হবে। এটা বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। তারপর কিছুটা বিপর্যয়ের মধ্য দিয়েই তো ম্যানেজটা করতে হচ্ছে।
“সরকারের চেষ্টা এবং আন্তরিকতার কোন অভাব নেই।”
আপনারা বারবার বলছেন কোনো সংকট নেই, কিন্তু বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। তেল কি অন্য কোথাও যাচ্ছে কি না?”
জবাবে রবিউল আলম বলেন, “চাহিদা যেভাবে কৃত্রিমভাবে তৈরি হয়েছে, সেভাবে তো পাম্পগুলো দিতে পারছে না। দীর্ঘ লাইন আছে। সেটা আমিও দেখছি। বিগত দিনে এই সংকট যখন ছিল না তখন যে চাহিদা ছিল, পেট্রোল পাম্পগুলোতে যে পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হত এখন তার চেয়ে আরও বেশি করে করা হচ্ছে।
“কিন্তু দেখা যাচ্ছে তাতে চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। এই কৃত্রিম একটা সংকট তৈরি করার চেষ্টা আছে। আপনারা দেখবেন, অনেক জ্বালানি বিভিন্ন জায়গা থেকে উদ্ধারও করা হয়েছে। সেটা মজুদ থাকার কথা ছিল না। এবং সেটা দেখবেন যে লাখ লাখ লিটারও হবে।”
তিনি বলেন, “মানুষের চাহিদা পূরণ করার দায়িত্ব আমাদের রয়েছে। চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করার জন্য বাস্তবিকভাবে যা যা করার দরকার, তা সরকার করছে। একই সাথে যারা ব্যবহার করেন জ্বালানি, তাদের একটু সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানাব। এই সংকটে এগিয়ে আসতে হবে।
“কেউ যাতে অবৈধভাবে মজুদ না করেন। একটা সংকট সৃষ্টির অপচেষ্টা যাতে না থাকে সে ব্যাপারে আমরা যাতে সচেতন হই। তাহলে যেটুকু সংকট আছে সেটা কেটে যাবে।”
ন্যাশনাল মেরিটাইম ইন্সটিটিউটের ‘প্রি-সী রেটিং’ কোর্সের ২৮তম ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থীদের সমাপনী প্যারেডে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী।