২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

আলিফ হত্যা মামলা: আরেক প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্যগ্রহণ

আসামিদের পক্ষে ওই সাক্ষীকে দীর্ঘক্ষণ জেরা করা হয়েছে।

আলিফ হত্যা মামলা: আরেক প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্যগ্রহণ

নিহত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 29 Oct 2026, 06:32 PM

Updated : 29 Oct 2026, 06:57 PM

চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় প্রত্যক্ষদর্শী আরেকজন আইনজীবী সাক্ষ্য দিয়েছেন।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ফজলে খোদা মো. নাজির এর আদালতে বৃহস্পতিবার মামলার চতুর্থ সাক্ষী এই আইনজীবী সাক্ষ্য দেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী ও আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শরীফ মামলার সাক্ষ্য দিয়েছেন। তিনি ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী। আসামিদের পক্ষে তাকে দীর্ঘক্ষণ জেরা করা হয়েছে।

“আসামি সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পক্ষে তার আইনজীবী জেরা করার জন্য সময় প্রার্থনা করেছেন। যদিও তার আইনজীবী আগের ৩ জন সাক্ষীকে জেরা করেননি।”

এদিকে মামলার শুনানি উপলক্ষে এ দিন বেলা পৌনে ১২টায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ছাড়া অন্য আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। বেলা ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম চলে। শুনানিতে আসামি চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত করা হয়।

শুনানি শেষে আবার আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়।

এ দিন হাজিরার সময় আসামিদের মধ্যে ৭ জনকে ডাণ্ডাবেড়ি পড়ানো হয় তথ্য দিয়ে আইনজীবী রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বলেন, “এ নিয়ে তারা কিছুটা হট্টগোল করে। আজকের কার্যক্রম শেষে আদালত ৩০ নভেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন।”

আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার ২৭ জন আসামি কারাগারে আছেন। পলাতক আসামি ১২ জন।

২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন নাকচ করে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় আদালত। এ সময় চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণ থেকে প্রিজন ভ্যানে চিন্ময়কে পুলিশ নেওয়ার সময় বিক্ষোভ করেন তার সমর্থকরা।

পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছুঁড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে চিন্ময়কে কারাগারে নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা আদালত সড়কে রাখা বেশ কিছু মোটরসাইকেল ও যানবাহন ভাঙচুর করে। এরপর আদালতের সাধারণ আইনজীবী ও কর্মচারীরা মিলে তাদের ধাওয়া করে।

ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে রঙ্গম কনভেনশন হল সড়কে আইনজীবী আলিফকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

ওই ঘটনায় ২৯ নভেম্বর নগরীর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন। ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১৫/১৬ জনকে সেখানে আসামি করা হয়। আসামিরা সবাই ছিলেন নগরীর রঙ্গম কনভেনশন হল সংলগ্ন বান্ডেল সেবক কলোনির বাসিন্দা।

তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (কোতোয়ালি) মাহফুজুর রহমান মোট ৩৮ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। তাতে প্রধান আসামি করা হয় চিন্ময় দাসকে।

ঘটনার সময় পুলিশ হেফজতে থাকা চিন্ময়কে কেন প্রধান আসামি করা হল সে ব্যাখ্যায় তদন্ত কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান বলেন, “সেদিন জামিন আবেদন নামঞ্জুর হওয়ার পর তিনি আদালত প্রাঙ্গণে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন। তার বক্তব্যের কারণে অন্য আসামিরা উত্তেজিত হয়ে আইনজীবীর উপর হামলা চালায় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

“হুকুমদাতা হিসেবে চিন্ময় দাস এই মামলার প্রধান আসামি। ইতোপূর্বে গ্রেপ্তার আসামিদের জবানবন্দি ও জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হামলার ঘটনায় যারা জড়িত ছিল, তাদের অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়েছে।”