Published : 12 Dec 2025, 06:07 PM
হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্সদের কক্ষকে চিকিৎসার জায়গা হিসেবে তুলে ধরে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বলেছেন, এ জায়গাগুলোকে কখনও ‘পার্টির অফিস’ বানিয়ে ফেলবেন না।
শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সেখানকার চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
উপদেষ্টা বলেন, “আপনারা বলেছেন- ডাক্তারদের রুম হয়েছে, নার্সদের রুম হয়েছে। আমি আপনাদের অনুরোধ করব, এ জায়গাগুলোকে কখনও পার্টির অফিস বানিয়ে ফেলবেন না। এটা পার্টির জায়গা না, এটা দলের জায়গা না।
“এটা চিকিৎসার জায়গা, ‘ডিসকাসনের’ জায়গা। এখানে সমস্যা সমাধানের জায়গা। সেটা যেই দলের হোক না কেন। তার কাজ, সরকারের থেকে বেতন নেন, বেতনটাকে জায়েজ করা।”
তিনি বলেন, “অনেকেই যেটা করেন, যাদেরকে বাইরে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে, একদিন যান, ডিজিটালে একটা উপস্থিতি দেন। দিয়া দুই ঘন্টা বাদে চলে আসেন। এইগুলি সব খবর নিচ্ছি। যাওয়ার আগে ওগুলোর ব্যবস্থা করে যাব। এটা কিন্তু বলে যাচ্ছি।
“যারা এসমস্ত কাজ করছেন। যারা ‘ফুল টাইম’ অফিস যে সময়টা আপনার থাকার কথা, থাকছেন না, তাদের জন্য ব্যাপার আছে।”

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বলেন, “যাদের প্রমোশন হবে, আমরা এবার প্রমোশনের পোস্টিংটা দেব, যেটা বলেছি এটা ‘অটোমেশনে’ হবে। যারা দীর্ঘদিন প্রান্তিক এলাকায় কাজ করেছেন, তারা প্রথম সুযোগটা পাবেন কেন্দ্রে আসার। তো কাজেই এরকম কিছু জিনিস আমরা করছি। আমরা চাচ্ছি, জিনিসগুলোকে ‘নিউট্রলাইজ’ করতে। কোনো রকমের বৈষম্য যেন আমাদের মধ্যে না থাকতে।
“আপনারা বলছেন, ‘পেরিফেরির’ নার্সগুলোকে নিয়ে আসতে। তাহলে ‘পেরিফেরির’ মানুষ কোথায় যাবে? ওরা কোথায় চিকিৎসা নেবে? আর চিটাগংয়ের কথা বলছেন? এখানে আমিও চিটাগংয়ের, আরো অনেকে হয়ত চিটাগংয়ের আছেন। চিটাগংয়ের ছেলে-মেয়েদেরকে আপনারা নার্সিং পড়ান না কেন?”
তিনি বলেন, “আপনার জন্য কেন দিনাজপুর থেকে নার্স এসে কক্সবাজারে চাকরি করবে, টেকনাফে কাজ করবে, চট্টগ্রামে কাজ করবে। কতবছর থাকবে সে আপনার এখানে। আপনাদের ছেলেমেয়েদেরকে কেন আপনারা নার্সিং পড়াতে চান না? সবাই তো খালি ইউনিভার্সিটি, জেনারেল লাইনে পড়াচ্ছেন। এসব লাইনে দিচ্ছেন না কেন?
“এখানে তো দিলেই চাকরি। লাখ লাখ কেয়ার গিভার জাপান, ইউকে নিয়ে যাবে। কেয়ার গিভার আপনারা বানাচ্ছে না কেন? সবাই খালি চাকরি খোঁজে। কিসের চাকরি খোঁজে। এটাই তো ভোকেশনাল ট্রেনিং। এই কাজটা শেখান, বাইরে পাঠান। কতদিন আর হাতের মধ্যে শাড়ির আঁচলা বাঁধিয়া রাখবেন।”
সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন।
তার আগে উপদেষ্টা চমেক হাসপাতালের ক্যাথ ল্যাবের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। তার আগে সকালে তিনি এমবিবিএস ও বিডিএস এর ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।