১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলায় বাদীর জেরা সমাপ্ত

চিন্ময়ের পক্ষে বুধবার আদালতে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিল না।

আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলায় বাদীর জেরা সমাপ্ত
আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 20 May 2026, 04:14 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:18 PM

চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার বাদী আলিফের বাবা জামাল উদ্দিনের জেরা শেষ হয়েছে।

বুধবার চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাহিদুল হকের আদালতের আসামি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর পক্ষে বাদীকে জেরার দিন ধার্য ছিল।

তবে চিন্ময়ের পক্ষে বুধবার আদালতে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিল না। অথচ তার পক্ষে তিনটি আবেদন করা হয়েছিল। আইনজীবী না থাকায় এসব আবেদন শুনানি না করে নামঞ্জুর করার আদেশ দেয় আদালত।

বাদীর আইনজীবী ও আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আলিফের বাবা ও মামলার বাদী আজ ষষ্ঠবারের মত জেরার জন্য আদালতে উপস্থিত হন।

“আসামি চিন্ময় দাসের আইনজীবী আবারও সময়ের আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে আগামী ২৪ জুন নতুন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেছেন।”

চিন্ময় দাসের আইনজীবী আদালতে জামিন, জেরা করার জন্য সময়ের প্রার্থনা এবং চিন্ময় দাসের শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে চিকিৎসার জন্য লিখিত আবেদন করেছিলেন।

বাদীর আইনজীবী রায়হান বলেন, “আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় আদালত আবেদন তিনটির শুনানি না করে নামঞ্জুর করেছেন। অন্য আসামিদের পক্ষে আগেই জেরা শেষ হওয়ায় আজ আদালত বাদীর জেরা সমাপ্ত ঘোষণা করেছেন।”

জানতে চাইলে চিন্ময় দাসের আইনজীবী অপূর্ব ভট্টাচার্য্য বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি ঢাকায় থাকায় আজ শুনানিতে উপস্থিত হতে পারিনি। তবে তিনটি আবেদন করেছিলাম। সেগুলো নামঞ্জুর করে বাদীর জেরা ক্লোজ করেছেন আদালত।”

বুধবার শুনানিতে অন্য আসামিরা উপস্থিত থাকলেও আসামি চিন্ময় দাসকে আদালতে আনা হয়নি। তিনি ভার্চুয়ালি শুনানিতে যুক্ত ছিলেন।

শুনানি চলাকালে ভার্চুয়ালি হাজির চিন্ময় দাস আদালতের কাছে কারাগারে তার মা ও আশ্রমের দুই সন্ন্যাসীর ১৫ দিন অন্তর সাক্ষাতের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। আদালত এ বিষয়ে জেল সুপারের সাথে আলোচনা করে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত দেওয়ার কথা বলে।

শুনানি শেষে অন্য আসামিদের আদালত ভবনের নিচে নামানোর সময় সিঁড়িতে আসামিদের স্বজনদের সাথে পুলিশের ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে পুলিশ প্রহরায় আসামিদের প্রিজন ভ্যানে তুলে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।  

এরআগে ২৯ এপ্রিল আসামি চিন্ময় দাসের পক্ষে বাদীকে জেরার দিন ধার্য থাকলেও সেদিন তার পক্ষে সময়ের আবেদন করা হয়েছিল। তার আগে গত ৮ এপ্রিলও চিন্ময় দাসের পক্ষে কোনো আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

এ মামলার অভিযোগ থেকে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর অব্যাহতি চেয়ে উচ্চ আদালতে আবেদন করার কথা গত ১৮ ফেব্রুয়ারি আদালতের শুনানিতে জানিয়েছিলেন তার আইনজীবী অপূর্ব ভট্টাচার্য্য।

নিহত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন এ হত্যা মমামলার বাদী। গত ২ ফেব্রুয়ারি তার সাক্ষ্য শেষ হয়।

চিন্ময় দাসসহ ৩৯ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে গত ১৯ জানুয়ারি এ মামলার বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত।

মামলার প্রধান আসামি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী।

মামলার প্রধান আসামি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী।

২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন নাকচ করে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশের পর চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে প্রিজন ভ্যান ঘিরে বিক্ষোভ করেন তার সমর্থকরা।

আড়াই ঘণ্টা পর পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে চিন্ময়কে কারাগারে নিয়ে যায়।

বিক্ষোভকারীরা আদালত সড়কে রাখা বেশ কিছু মোটরসাইকেল ও যানবাহন ভাঙচুর করে। এরপর আদালতের সাধারণ আইনজীবী ও কর্মচারীরা মিলে তাদের ধাওয়া করে।

ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে রঙ্গম কনভেনশন হল সড়কে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

ওই ঘটনায় ২৯ নভেম্বর নগরীর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন। ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১৫/১৬ জনকে সেখানে আসামি করা হয়। আসামিরা সবাই ছিলেন নগরীর রঙ্গম কনভেনশন হল সংলগ্ন বান্ডেল সেবক কলোনির বাসিন্দা।

তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (কোতোয়ালি) মাহফুজুর রহমান মোট ৩৮ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। তাতে প্রধান আসামি করা হয় চিন্ময় দাসকে।

ঘটনার সময় পুলিশ হেফজতে থাকা চিন্ময়কে কেন প্রধান আসামি করা হল, সেই ব্যাখ্যায় তদন্ত কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান বলেন, “সেদিন জামিন আবেদন নামঞ্জুর হওয়ার পর তিনি আদালত প্রাঙ্গণে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন। তার বক্তব্যের কারণে অন্য আসামিরা উত্তেজিত হয়ে আইনজীবীর উপর হামলা চালায় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

“হুকুমদাতা হিসেবে চিন্ময় দাস এই মামলার প্রধান আসামি। ইতোপূর্বে গ্রেপ্তার আসামিদের জবানবন্দি ও জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে হামলার ঘটনায় যারা জড়িত ছিল তাদের অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়েছে।”

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ‘সারাদেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির লক্ষ্যে’ সেদিন আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে হত্যা করা হয়।