Published : 29 Jun 2026, 04:55 PM
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অবস্থিত জাহাজভাঙা শিল্পে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ২৮ দুর্ঘটনায় অন্তত ৩ শ্রমিক নিহত ও ২৫ জন আহত হয়েছেন।
এরমধ্যে ২১টি দুর্ঘটনা দিনে এবং ৭টি রাতে হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রায় ৮০ শতাংশ ঘটেছে গার্ডার বা ভারী বস্তু পড়ে যাওয়া, ক্রেন-হুক-অয়্যার দুর্ঘটনা এবং গ্যাস ও অগ্নিকাণ্ড সংক্রান্ত কারণে।
সোমবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস) ‘জাহাজভাঙা শিল্প সেক্টরে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত অর্ধ বার্ষিক দুর্ঘটনা প্রতিবেদন’-এ এই তথ্য উপস্থাপন করে।
সকালে সীতাকুণ্ডের ইপসা এইচআরডি সেন্টারে এক সভায় প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন বিলস চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সমন্বয়ক ফজলুল কবির মিন্টু।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জাহাজভাঙা শিল্পে কাটারম্যান, কাটার হেলপার, ক্রেন হেলপার, ওয়্যার গ্রুপ, ফিটারম্যান ও লোডিং গ্রুপের শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে কাজ করেন।
দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে- অনিরাপদ আচরণ, অনিরাপদ কর্মপরিবেশ, ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামের (পিপিই) অভাব, তদারকির ঘাটতি এবং পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাবকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে হংকং কনভেনশন, আইএলও গাইডলাইনস এবং বেসেল কনভেনশন বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
একই সঙ্গে শ্রমিকদের জন্য পিপিই এর বাধ্যতামূলক ব্যবহার, গ্যাস টেস্ট, পারমিট টু ওয়ার্ক (পিটিডব্লিউ), নিরাপদ ক্রেন পরিচালনা, নিয়মিত টুলবক্স মিটিং এবং জরুরি মহড়াসহ বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে।
এছাড়া শ্রমিকদের নিয়মিত নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ, ঝুঁকি রিপোর্টিং ব্যবস্থা চালু, নিরাপদ কর্মপদ্ধতি অনুসরণ, মালিক ও সরকারের প্রতি নিরাপত্তা খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কার্যকর তদারকি, আইন প্রয়োগ এবং প্রতিটি দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিতের জন্য আহ্বান জানানো হয়।
সভায় প্রধান অতিথি সীতাকুণ্ড উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “জাহাজভাঙা শিল্প বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও শিল্পায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তবে এই শিল্পের টেকসই বিকাশ নিশ্চিত করতে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।
“আশা করি বিলস এর এই অর্ধ বার্ষিক প্রতিবেদন মালিক, শ্রমিক ও সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করবে এবং শিল্পে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সহায়ক হবে।”
সভায় সভাপতির বক্তব্যে জাহাজভাঙা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফোরামের আহ্বায়ক তপন দত্ত বলেন, “প্রতিটি কর্মক্ষেত্রের দুর্ঘটনাই প্রতিরোধযোগ্য। নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা শুধু শ্রমিকের অধিকার নয়, বরং শিল্পের টেকসই উন্নয়ন ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির অন্যতম পূর্ব শর্ত।”
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বিলস এলআরএসসি সেন্টার কোঅর্ডিনেশন কমিটির চেয়ারম্যান এ এম নাজিম উদ্দিন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলতাপ হোসেন, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা তজাম্মল হোসেন, সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা লুতফুন্নেসা বেগম, সাংবাদিক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, জাহাজভাঙা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফোরামের সদস্য দিদারুল আলম চৌধুরী, ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের সদস্য মো. আলী, মো. ইদ্রিস, মানিক মণ্ডল, জামাল উদ্দিনসহ শ্রমিক প্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।