Published : 19 Jul 2026, 03:08 PM
বছর তিনেক আগে চট্টগ্রামের মুরগি ফার্ম এলাকায় স্কুলছাত্রী আবিদা সুলতানা আয়নী হত্যা মামলার রায় জানা যাবে সোমবার।
চট্টগ্রামের দ্বিতীয় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাইফুর রহমান রায় ঘোষণার এই দিন ঠিক করেন বলে জানান পিপি মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। সবশেষ ১৪ জুলাই যুক্তিতর্ক শুনানি হয়। বিচারক আগামীকাল মামলার রায় ঘোষণার জন্য দিন নির্ধারণ করেছেন।”
২০২৩ সালের ২৯ মার্চ ভোরে পাহাড়তলী থানার সাগরিকা বাই লেইন মুরগি ফার্ম আলমতারা পুকুর পাড় এলাকার ডোবা থেকে ১০ বছর বয়সি শিশু আবিদা সুলতানা আয়নীর লাশ উদ্ধার করা হয়।
তিনি পাহাড়তলী এলাকার আব্দুল হাদি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। পাহাড়তলীর আব্দুর কাজীর দীঘির পাড় এলাকায় তাদের বাসা।
শিশুটির মা মোছাম্মৎ বিবি ফাতেমা (২৬) পোশাক কারখানার কর্মী। শিশুটির বাবা ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন।
২০২৩ সালের ২১ মার্চ বিকাল থেকে আয়নীর খোঁজ পাচ্ছিল না পরিবার। থানায় জিডি করেও সন্ধান না মেলায় ২৮ মার্চ আদালতে গিয়ে অপহরণের মামলা করেন আয়নীর মা। বিচারক তার আর্জি শুনে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করতে পাহাড়তলী থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।
মামলায় প্রতিবেশী সবজি বিক্রেতা ৩৫ বছর বয়সি রুবেলকে আসামি করা হয়। তাকে আটক করার পরই পিবিআই শিশুটির লাশের খবর জানতে পারে। পরদিন আয়নীর লাশ উদ্ধার করা হয়।
মামলার এজাহারে শিশুটির মা বলেন, “ঘটনার দু-তিন দিন আগে স্কুলের এক বান্ধবী বিড়াল কিনেছে জানিয়ে আমার কাছে বিড়াল ছানা কিনে দেওয়ার আবদার করে মেয়ে। তখন বলেছিলাম, বেতন পেলে বিড়াল ছানা কিনে দিব।
“তখন সে বলেছিল, রাস্তার এক তরকারি বিক্রেতা বলেছে, তার এক পরিচিত লোক আছে। সেখান থেকে আমাকে বিড়াল ছানা এনে দেবে।”
২০২৩ সালের ২০ মার্চ রাস্তায় বিড়াল ছানা ধরতে গিয়ে সবজি বিক্রেতা রুবেলের ভ্যানের সঙ্গে ধাক্কা লাগে আয়নীর। বিড়াল ছানা এনে দেবে বলে, তখন শিশুটির সঙ্গে মিনিট পাঁচেক কথাও বলেছিল প্রতিবেশী রুবেল।
পরদিন ২১ মার্চ বিকালে আবার রাস্তায় দেখা হলে শিশুটিকে বিড়াল ছানা দেবে বলে ভ্যান করে নিয়ে যায় ফাঁকা এক বাসায়।
মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক ইলিয়াস খান তখন জানিয়েছিলেন, শিশুটিকে কাজীর দিঘী এলাকাতেই একটি ভবনের চতুর্থ তলায় নিয়ে যায় রুবেল। যেটি তার পরিচিত একজনের খালি বাসা।
ওই বাসায় নিয়ে গিয়ে রুবেল শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। ওই সময় শিশুটি চিৎকার করে দরজা খুলে বাসা থেকে বের হবার চেষ্টা করলে তাকে ভয়ভীতি দেখায় এবং বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য হুমকি দেয়। বিষয়টি অন্যদের জানিয়ে দেবে, সেই ভয় থেকে রুবেল ‘শ্বাসরোধ করে হত্যা করে’ শিশুটিকে।
গ্রেপ্তারের পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে রুবেল এ হত্যাকাণ্ডের কথা ‘স্বীকার করে’ ঘটনার বর্ণনা দেয়।
২১ মার্চ বিকাল সাড়ে ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে শিশুটিকে খুন করা হয়।
পুলিশ জানায়, সেদিন অন্য প্রতিবেশীদের সঙ্গে রুবেলও শিশুটিকে খুঁজেছিলেন। এরপর রাত ৯টার দিকে লোকজন কমে গেলে রুবেল ভ্যান নিয়ে আবার সেই বাসায় যায়। সেখান থেকে শিশুর লাশ বস্তায় ভরে আলমতারা পুকুর পাড় এলাকার ডোবায় ফেলে আসে।
এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক রুবেল কাজীর দিঘী এলাকার বাসিন্দা। সেই এলাকায় ভ্যানে করে সবজি বিক্রি করতেন। তারই প্রতিবেশী পোশাক শ্রমিক মা ও দাদির সঙ্গে থাকত শিশু আয়নী।
আসামি রুবেল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
আরও পড়ুন
বিড়াল ছানার টানই কাল হলো শিশুটির