১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

ডাকেট ১৪১, রোহিত ১৩৮, ৭৪৭ রানের ওয়ানডে ম্যাচ জিতে সিরিজ ইংল্যান্ডের

লর্ডসে রান উৎসবের ম্যাচে ভারতকে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজ জিতল ইংল্যান্ড।

ডাকেট ১৪১, রোহিত ১৩৮, ৭৪৭ রানের ওয়ানডে ম্যাচ জিতে সিরিজ ইংল্যান্ডের
হারে শুরুর পর টানা দুই ম্যাচ জিতে সিরিজ নিজেদের করে নিল ইংল্যান্ড। ছবি রয়টার্স

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 20 Jul 2026, 05:31 AM

Updated : 11 Sep 2026, 03:41 PM

দুই দলেরই প্রথম তিন ব্যাটসম্যান ছাড়ালেন পঞ্চাশ। একজন করে পেলেন সেঞ্চুরি। বিশাল রান তাড়ায় অনেকটা সময় পর্যন্ত সম্ভাবনা জিইয়ে রাখলেও, শেষ পর্যন্ত পরিষ্কার ব্যবধানেই হেরে গেল ভারত। হারে শুরুর পর দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজ জিতল ইংল্যান্ড।

লর্ডসে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডেতে হ্যারি ব্রুকের দলের জয় ২৭ রানে।

তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতল স্বাগতিকরা।

ক্রিকেট তীর্থে রোববার ৫০ ওভারে ইংল্যান্ড করে ৩৮৭ রান। ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডেতে তাদের সর্বোচ্চ স্কোর এটি। শেষ পাঁচ ওভারে তোলে তারা ৮২ রান।

জবাবে রোহিত শার্মার সেঞ্চুরিতে ৩৮ ওভারে ১ উইকেটে ২৫৩ রানের শক্ত অবস্থানে ছিল ভারত। ৯ উইকেট হাতে নিয়ে তখন ৭২ বলে প্রয়োজন ছিল ১৩৫ রান। কিন্তু পরের ওভারে রোহিত ফেরার পর আর পেরে ওঠেনি সফরকারীরা।

অবসরের গুঞ্জনের মাঝে সমালোচকদের জবাব দিয়ে ১৭ চার ও পাঁচ ছক্কায় ১১০ বলে ১৩৮ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন রোহিত। 

ইংল্যান্ডের হয়ে সেঞ্চুরি করেন বেন ডাকেট। ১৮ চার ও এক ছক্কায় ১৩৫ বলে ১৪১ রান করেন বাঁহাতি ওপেনার।

আরেক ওপেনার জেকব বেথেল ১১ চার ও দুই ছক্কায় ৯৩ বলে করেন ৯১ রান। পরে বোলিংয়ে সাত ওভারে কেবল ৪৯ রান দিয়ে রোহিতের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেন তিনি। ম্যাচ সেরার পুরস্কার ওঠে তার হাতেই।

ম্যাচে রান হয়েছে মোট ৭৪৭। লর্ডসে কোনো ওয়ানডেতে দুই দল মিলিয়ে সর্বোচ্চ রান এটিই। গত বছর ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচের ৬৫৫ রান ছিল আগের সর্বোচ্চ।

ইংল্যান্ডের যেকোনো মাঠে ওয়ানডে ম্যাচে এর চেয়ে বেশি রানের ঘটনা আছে একটি- ২০১৫ সালে ওভালে নিউ জিল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের ম্যাচের ৭৬৩ রান।

রান তাড়ায় শুবমান গিলের সঙ্গে ভারতকে ভালো শুরু এনে দেন রোহিত। ১৪৭ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েন দুজন। ৮৪ বলে ৭৭ রান করে ফেরেন অধিনায়ক গিল।

দ্বিতীয় উইকেটে ভিরাট কোহলির সঙ্গে আরেকটি শতরানের জুটি গড়েন রোহিত। ৫০ বলে পঞ্চাশ ছোঁয়া এই ওপেনার সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ৮৪ বলে। লর্ডসে ওয়ানডেতে ভারতের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান তিনি।  

তিন অঙ্ক ছুঁয়ে ছুটছিলেন রোহিত। কিন্তু বেথেলকে একটি ছক্কার পরের বলে বোল্ড হয়ে যান তিনি।

ইশান কিষান ও শ্রেয়াস আইয়ার টিকতে পারেননি। লর্ডসে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের ১০ ইনিংসে প্রথম ফিফটি করে কোহলি থামেন ৭৪ রানে। ভারতও কার্যত লড়াই থেকে ছিটকে পড়ে। তার ৬০ বলের ইনিংসটি গড়া চারটি চার ও তিনটি ছক্কায়।

লেজের ব্যাটসম্যানদের লড়াইয়ে পরাজয়ের ব্যবধানই শুধু কমাতে পারে ভারত।

৭৫ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের সফলতম বোলার স্যাম কারান। 

এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামে ইংল্যান্ড। ১৯২ রানের উদ্বোধনী জুটিতে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন ডাকেট ও বেথেল। লর্ডসে ওয়ানডেতে প্রথম দেড়শ ছোঁয়া উদ্বোধনী জুটি এটি। 

বেথেলকে ফিরিয়ে মাথাব্যথার কারণ হয়ে ওঠা জুটি ভাঙেন প্রাসিধ কৃষ্ণা।

দ্বিতীয় উইকেটে জো রুটের সঙ্গে ১০১ রানের আরেকটি বড় জুটিতে দলকে এগিয়ে নেন ডাকেট। লর্ডসে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড গড়ে বিদায় নেন তিনি ৪৪তম ওভারে। 

ব্রুক ভালো করতে পারেননি। প্রথম ইংলিশ ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডেতে টানা ছয় ইনিংসে পঞ্চাশ ছোঁয়ার কীর্তি গড়েন রুট। 

শেষ দিকে ঝড় তোলেন জস বাটলার। চারটি চার ও ও তিনটি ছক্কায় ১৩ বলে ৪১ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।

৯ চারে ৪৮ বলে ৭৪ রানে অপরাজিত থাকনে রুট। তিন ম্যাচে ২৪৯ রান করে সিরিজ সেরার পুরস্কার জেতেন তিনিই।

ভারতের গুরনুর ব্রার ১০ ওভারে ৯৭ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকেন। ওয়ানডেতে ভারতীয় বোলারদের মধ্যে এক ইনিংসে তার চেয়ে বেশি রান দেওয়ার নজির আছে কেবল দুজনের।

ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ ৪-০ ব্যবধানে জয়ের পর ওয়ানডে সিরিজও নিজেদের করে নিল ইংল্যান্ড।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ইংল্যান্ড: ৫০ ওভারে ৩৮৭/৩ (ডাকেট ১৪১, বেথেল ৯১, রুট ৭৪*, ব্রুক ১৪, কারান ৪১*; আর্শদিপ ১০-০-৭২-০, প্রাসিধ ১০-২-৬৯-২, প্রিন্স ১০-০-৭৯-১, গুরনুর ১০-০-৯৭-০, আকসার ১০-০-৬১-০)

ভারত: ৫০ ওভারে ৩৬০ (রোহিত ১৩৮, গিল ৭৭, কোহলি ৭৪, কিষান ১৪, শ্রেয়াস ০, রাহুল ১২, আকসার ২, গুরনুর ১৮*, আর্শদিপ ১৫*; আর্চার ১০-০-৬৩-১, অ্যাটকিনসন ৬-০-২৪-০, টাং ৫-১-৪৩-০, কারান ১০-০-৭৫-৪, রাশিদ ৮-০-৬৪-১, জ্যাকস ৪-০-৩৮-০, বেথেল ৭-০-৪৯-১)

ফল: ইংল্যান্ড ২৭ রানে জয়ী

সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজ ইংল্যান্ড ২-১ ব্যবধানে জয়ী 

ম্যান অব দা ম্যাচ: জেকব বেথেল

ম্যান অব দা সিরিজ: জো রুট