Published : 18 May 2026, 11:51 AM
চট্টগ্রামে জুলাই আন্দোলনের গ্রাফিতি মুছে ফেলা নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ছাত্রদলের মধ্যে উত্তেজনার পর সেই সড়কে সব ধরনের মিছিল-মিটিংয়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে পুলিশ।
সোমবার সকাল থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত নগরীর জিইসি মোড় থেকে দেওয়ানহাট পর্যন্ত মূল সড়ক ও আশেপাশের এলাকায় এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর জারি করা গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জিইসি মোড় থেকে দেওয়ানহাট পর্যন্ত মূল সড়ক ও আশেপাশের এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তার জন্য চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ ১৯৭৮ এর ৩০ ধারা প্রদত্ত ক্ষমতাবলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
নগরীর টাইগারপাস এলাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কয়েকটি পিলারে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে হলুদ ও সাদা রং করা হয়, যেগুলোতে জুলাই আন্দোলনের চিত্রকর্ম ছিল।
সিটি করপোরেশনের নির্দেশে সেই চিত্রকর্ম মুছে ফেলা হয়েছে এমন অভিযোগে রোববার সন্ধ্যার পর বিক্ষোভে নামেন এনসিপির নেতাকর্মীরা।
এনসিপির বিক্ষোভ থেকে মেয়র শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ার প্রতিবাদে একই এলাকায় রাতে মিছিল করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
একপর্যায়ে রাত ১১টার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা টাইগার পাস এলাকায় এবং ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা লালখান বাজার মোড়ে অবস্থান নেয়। এসময় দুই পক্ষের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
পরে রাত ১২টার দিকে সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন লালখান বাজার মোড়ে গিয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন।
এসময় মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, “চব্বিশের আন্দোলনে আমি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। শহীদ ওয়াসিম আকরাম আমার কর্মী। জুলাই-অগাস্টের সেন্টিমেন্ট আমার চেয়ে বেশি কেউ ধারণ করে না। মায়াকান্না যারা দেখাতে আসেন, আমার সঙ্গে দেখাবেন না।
“ওই দেয়ালে প্রচুর পোস্টার পড়েছিল। গ্রাফিতি মুছে গিয়েছিল। দুপুরে এনসিপির ছেলেরা এসেছিল, তাদের বলেছি, নতুন করে আর্ট কলেজের ছেলেদের দিয়ে গ্রাফিতি করে দেব। সিটি করপোরেশন অথবা আমি নিজে টাকা দিব। তারা হাসি মুখে চলে গেছে।”
এরপর রাত পৌনে ১টায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মেয়রের উদ্যোগে সোমবার সকাল ১০টায় টাইগার পাস থেকে লালখান বাজার মোড় পর্যন্ত সড়কের দেয়ালে গ্রাফিতি অঙ্কন কার্যক্রম আয়োজন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন-
চট্টগ্রামে জুলাইয়ের গ্রাফিতি মোছা নিয়ে এনসিপি ও ছাত্রদলের উত্তেজনা