Published : 16 Feb 2023, 06:58 PM
চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও থানার বলিরহাট এলাকায় বিস্ফোরণে আটজন আহত হয়েছেন।
বুধবার গভীর রাতের ওই বিস্ফোরণ সেপটিক ট্যাংক থেকে হয়েছে বলে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ধারণা। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিস্ফোরণের বিষয়ে জানতে পেরে ঘটনাস্থলে যান তারা।
আহতরা হলেন- স্থানীয় মো. ইদ্রিসের স্ত্রী মায়মুনা আক্তার, মেয়ে ডলি আক্তার, পুত্রবধূ সোমা আক্তার, ডলি আক্তারের ছেলে জাহিদুল ইসলাম এবং তাদের প্রতিবেশী নূর নাহার বেগম, নূর নাহারের দুই মেয়ে সানজিদা আক্তার ও রিনা আক্তার, ছেলে মো. হৃদয়। তারা আবদুর রউফ সড়কের পাশাপাশি দুটি ঘরের বাসিন্দা।
আহতরা বৃহস্পতিবার ভোরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
ঘটনাস্থলে দেখা যায়, ইদ্রিসের একতলা সেমিপাকা বাড়িটির দুপাশের দেয়াল বিস্ফোরণে ভেঙে পড়েছে। অন্য দেয়ালগুলোতে ফাটল। ঘরের জিনিসপত্র কিছু বাইরে গিয়ে পড়েছে। ইদ্রিসের ঘরের ভেঙে পড়া একপাশের দেয়াল গিয়ে পড়েছে পাশের নূরনাহার বেগমের বেড়ার ঘরের ভিতরে।
স্থানীয়রা জানান, রাত ৩টার দিকে ওই বাড়িতে বিস্ফোরণের শব্দ হয়। তখন আগুন ধরে গিয়েছিল। এলাকার মানুষজন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
কালুরঘাট ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার বাহার উদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সকাল ১০টার পর খবর পেয়ে আমরা সেখানে গিয়েছিলাম। ওই সেমিপাকা ঘরের সেপটিক ট্যাংক একটি পাইপ দিয়ে পাশের নালার সাথে যুক্ত। ওই নালা দিয়ে আবার গ্যাসের লাইন গেছে।
“বিস্ফোরণে ঘরটির দেয়াল পড়ে গেছে। এমনকি ঘরের ভিতরে থাকা শোকেস বিস্ফোরণে বাইরে গিয়ে পড়েছে। আহতদের মধ্যে চার-পাঁচজনের শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়েছে। সম্ভবত বিস্ফোরণে আগুন লেগে গিয়েছিল। সেটা স্থানীয়রা নিভিয়েছে।”
কী কারণে বিস্ফোরণ, এ প্রশ্নের উত্তরে বাহার উদ্দিন বলেন, “স্থানীয়রা দাবি করছেন, গ্যাস পাইপ লাইনে লিকেজ ছিল। যা থেকে বের হওয়া গ্যাস সেপটিক ট্যাংকের পাইপ দিয়ে সেখানে গিয়ে জমা হয়ে থাকতে পারে।
“রাতে কেউ বিদ্যুতের সুইচ চাপলে হয়ত বিস্ফোরণ হয়েছে। তবে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না কীভাবে বিস্ফোরণ বা কেন বিস্ফোরণ হয়েছে। সেটা তদন্তের পর বলা যাবে।”
তবে ওই বাড়িতে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) কোনো গ্যাস সংযোগ নেই বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা।
কেজিডিসিএলের মহাব্যবস্থাপক (বিপণন) প্রকৌশলী মো. শফিউল আজম খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সেখানে আমাদের কর্মকর্তারা গিয়ে দেখেছেন। ওই বাড়িতে কোনো গ্যাস সংযোগ নেই। আর সেখানে গ্যাস লাইন লিকেজ হলেও সেটা ওই বাড়ির সেপটিক ট্যাংকে যাওয়ার সুযোগ নেই।”