ছাত্র-যুবলীগ মাঠে, মামুনুলের ‘খোঁজ নেই’

চট্টগ্রামে প্রতিহত করার ঘোষণার পর থেকে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের অবস্থান জানাতে পারেনি হাটহাজারীতে তার ধর্মীয় সমাবেশের আয়োজক আল আমিন সংস্থা।

চট্টগ্রাম ব্যুরোবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 27 Nov 2020, 06:39 AM
Updated : 27 Nov 2020, 06:39 AM

এদিকে মামুনুল হককেপ্রতিহত করতে সকাল থেকে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন নগর যুবলীগ ওছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সেখানে বিক্ষোভ করছেন যুবলীগের কয়েকশ নেতাকর্মী। দুপুরে নগরছাত্রলীগের কর্মীদের নগরীর অক্সিজেন মোড়ে অবস্থান নেওয়ার কথা রয়েছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুররহমানের ভাস্কর্য স্থাপনে বিরোধীতাকারী মামুনুল হককে চট্টগ্রামে প্রতিহতের ঘোষণা দেওয়াহয় বৃহস্পতিবার বিকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গনে ‘জঙ্গিবাদ বিরোধী ছাত্র ও যুবঐক্য পরিষদ’ নামের সংগঠনের সমাবেশ থেকে। এরপর রাত থেকেই মামুনুল হকের উপস্থিতি নিয়েনানা তথ্য ছড়াতে থাকে।

মামুনুল হক কোথায় জানতেচাইলে মাহফিল আয়োজনকারী আল আমিন সংস্থার সম্পাদক মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরডটকমকে বলেন, গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাতে উনার হাটহাজারী আসার কথা ছিল। 

“গতকাল সন্ধ্যার পরথেকে উনার সাথে আর যোগাযোগ হয়নি। উনার মোবাইল বন্ধ।”

মামুনুল হক চট্টগ্রামেআসবেন কিনা বা এসে পৌঁছেছেন কিনা এমন প্রশ্নে আহসান উল্লাহ বলেন, “যেহেতু যোগাযোগ হচ্ছেনা তাই বলতে পারছি না তিনি কোথায়।”

মামুনুল হকের ফোন বন্ধবলে আহাসন উল্লাহ দাবি করলেও সকাল পৌনে ১১টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত কয়েকবার কল করেসেটি খোলা পাওয়া গেছে। কিন্তু বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুনুল ফোনধরেননি। খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুর রহমানের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করেসাড়া মেলেনি।

হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহীকর্মকর্তা মো. রুহুল আমিনের কাছে জানতে চাইলে তিনিও মামুনুল হকের অবস্থান জানাতে পারেননি।

চট্টগ্রাম রেঞ্জেরডিআইজি আনোয়ার হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “হাটহাজারীতে পরিস্থিতি শান্ত আছে।সেখানে আমাদের লোকজন আছে। আয়োজকদের সাথেও কথা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবরকম প্রস্তুতিআছে। দু্ইদিন যাবত মাহফিল হচ্ছে। আশা করি পরিস্থিতি ভালো থাকবে।”

মামুনুল হক কোথায় বাতার আসার বিষয়ে কোনো তথ্য আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সেটা আয়োজকদের জানার কথা।এ বিষয়ে আমাদের কাছে তথ্য নেই।”

এদিকে মামুনুল হকেরআগমন ঠেকাতে সকাল থেকে নগর যুবলীগ আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চুর নেতৃত্বে বিমানবন্দর সড়কেঅবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন নেতাকর্মীরা।

নেতাকর্মীরা সেখানে‘রাজাকার যেখানে প্রতিরোধ সেখানে, মামুনুল হক যেখানে প্রতিরোধ সেখানে’, ‘মুক্তিযুদ্ধেরহাতিয়ার গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘বীর চট্টলার মাটিতে মামুনুল হকের ঠাঁই নাই’, ‘তুমি কেআমি কে বাঙালি বাঙালি’, ‘আমাদের ধমনীতে শহীদের রক্ত’, ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানদিচ্ছেন।

মহিউদ্দিন বাচ্চু বলেন,“চট্টগ্রামে যেখানেই মামুনুল হককে পাওয়া যাবে সেখানেই প্রতিহত করা হবে। জাতির জনককেনিয়ে যে ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছে মামুনুল হক তারপর কোনোভাবে তাকে চট্টগ্রামে আসতেদেওয়া হবে না।”

সড়কপথে মামুনুল হকহাটহাজারী যেতে পারেন এমন ধারণায় নগরীর অক্সিজেন মোড়ে অবস্থান নেবে নগর ছাত্রলীগেরকর্মীরা।

নগর ছাত্রলীগের সাধারণসম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর বলেন, “বিমানবন্দরে পতেঙ্গা থানা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাআছেন। আমরা মহানগরের নেতাকর্মীরা অক্সিজেন মোড়ে অবস্থান নেব।”

শুক্রবার দুপুর দুইটায়হাটহাজারী পাবর্তী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তিনদিনের তাফসীরুল কুরআন মাহফিলের সমাপনীদিনে তিনজন প্রধান বক্তার একজন মামুনুল হক।

আল আমিন সংস্থার ব্যানারেমূলত হেফাজতে ইসলাম সংশ্লিষ্টদের ওই আয়োজনে মামুনুল হককে সংবর্ধনা দেওয়া হবে বলেও সামাজিকযোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার আছে।

হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রহিসেবে পরিচিত হাটহাজারী বড় মাদ্রাসায় সাম্প্রতিক ঘটনাবলী, প্রয়াত আমীর শাহ আহমদ শফীরনেতৃত্ব নিয়ে বিরোধ, নেতৃত্ব ছেড়ে দেওয়া, শফীর জানাজায় জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিএবং আমীর পদে জুনাইদ বাবুনগরীর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় মামুনুল হকের নেপথ্যের ভূমিকারকথা বারবার আলোচনায় এসেছে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসেরভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মামুনুল হক সদ্যঘোষিত হেফাজতে ইসলামের কমিটিতে যুগ্ম মহাসচিবের পদ পেয়েছেন। 

নভেম্বরের দ্বিতীয়সপ্তাহে ঢাকার বিএমএ মিলনায়তনে রাজধানীর ধোলাইরপাড়ে জাতির পিতার ভাস্কর্য স্থাপনেরবিরোধীতা করে তা অবিলম্বে বন্ধের দাবি করে মামুনুল হক।

ওই মন্তব্যের পর সরকারবা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তেমন কোনো প্রতিবাদ লক্ষ্য করা যায়নি।

এরপর ১৫ নভেম্বর চট্টগ্রামেএক অনুষ্ঠানে শিক্ষা উপমন্ত্রী ও চট্টগ্রাম-৯ আসনের সাংসদ মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলবলেন, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধীতাকারীরা ক্ষমা না চাইলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়াহবে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক