Published : 04 Aug 2025, 06:45 PM
চৌদ্দ বছর আগে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় খালে মাছ ধরা নিয়ে বিরোধের জেরে এক ব্যক্তিকে খুনের দায়ে পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ রোজিনা খান সোমবার এ রায় দেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- আহামদ মিয়া, মো. ইলিয়াছ, নুরুল আবছার, মো. রফিক ও মো. সোলায়মান।
তাদের মধ্যে আহামদ, ইলিয়াছ ও আবছার তিন ভাই। তারা আনোয়ারা থানার পশ্চিম সিংহরা গ্রামের খায়রুজ্জামার ছেলে।
রায় ঘোষণার সময় ইলিয়াছ ও আবছার আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাকি তিনজন পলাতক।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী হাফেজ আহম্মেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “৫ আসামির বিরুদ্ধে ৩০২ ধারায় হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের প্রত্যেককে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।”
অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় মামলার অন্য তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন- আবদুল কুদ্দুছ, মো. এনাম ও মো. আনোয়ার।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, চট্টগ্রামের আনোয়ারা থানার ৮ নম্বর চাতরি ইউনিয়নের পশ্চিম সিংহরা দাশের ভিটা এলাকায় খুন হন আবদু শুক্কুর।
৫৫ বছর বয়সী শুক্কুর পশ্চিম সিংহরা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি জমি বেচাকেনায় যুক্ত ছিলেন।
২০১১ সালের ১৯ অগাস্ট স্থানীয় খালে জাল বসানো নিয়ে শুক্কুরের সঙ্গে আসামিদের ঝগড়া হয়। এর জেরে সেদিন গভীর রাতে ফোন করে কেউ একজন শুক্কুরকে আনোয়ারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মোড়ে যেতে বলে।
সেই রাতে ঘর থেকে বের হওয়ার পর শুক্কুর নিখোঁজ ছিলেন। একদিন পর ওই বছরের ২১ অগাস্ট সকালে স্থানীয় মো. শহীদুল্লাহ নিজের ধানের জমিতে শুক্কুরের লাশ দেখতে পায়।
পরে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মোহাম্মদ মিজান বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে আবদু শুক্কুরকে হত্যা করা হয়েছিল।
এ মামলায় ২০১২ সালে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালতে। ১০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বিচারক সোমবার রায় দিলেন।