Published : 28 Jun 2026, 12:37 PM
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব ও পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে বেঁচে থাকার জন্য দেশের প্রান্তিক অঞ্চলের নারীদের দক্ষ ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন।
তিনি বলেন, "জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে শারীরিক, মানসিক, আর্থিক ও পারিপার্শ্বিক যে পরিবর্তন আসবে, সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় টিকে থাকতে হলে জ্ঞান ও দক্ষতার কোনো বিকল্প নেই। প্রান্তিক অঞ্চলের মা-বোনদের যদি আমরা দক্ষ করে তুলতে পারি, তবে বাংলাদেশ জলবায়ুর যেকোনো দুর্যোগ সফলভাবে মোকাবিলা করতে পারবে।"
রোববার রাজধানীর তেজগাঁও লিংক রোডের ‘আলোকি’ কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত 'এমপাওয়ার: উইমেন ফর ক্লাইমেট-রেজিলিয়েন্ট সোসাইটিজ' (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্পের জাতীয় অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সম্প্রসারণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি কথা বলছিলেন।
জাতিসংঘ নারী উইং এবং জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি যৌথভাবে এই কর্মশালার আয়োজন করে।

নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জাহিদ হাসান বলেন, "আমি নিজে একদম অজপাড়াগাঁ থেকে উঠে এসেছি, খালি পায়ে স্কুলে গিয়েছি। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে এসে আজ এই অবস্থানে আসার পেছনে মূল শক্তি ছিল চ্যালেঞ্জ নেওয়ার অদম্য বাসনা ও মানসিক শক্তি। এটি একটি দীর্ঘ লার্নিং প্রসেস।
“এই প্রোগ্রামে প্রত্যন্ত কুড়িগ্রাম থেকে আসা নারী আজ যেভাবে জিনিয়াসের মত বক্তব্য দিলেন, তা প্রমাণ করে নারীরা সুযোগ ও প্রশিক্ষণ পেলে কতটা আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠতে পারে।"
বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, "প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য কাজ করা, বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী, নারী ও শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করা। সরকারের দেওয়া 'ফ্যামিলি কার্ড' বা 'ফার্মার কার্ড' কোনো অনুদান নয়, বরং এটি সেই পরিবারের নারীর ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য একটি স্থানীয় বিনিয়োগ।"
দুর্নীতি ও সহিংসতার বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, "আমরা দুর্নীতিকে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে চাই। মাদক এবং নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চলবে। কোনো অবস্থাতেই এ ধরনের অপরাধ বরদাশত করা হবে না।"
ইউএন উইমেনের এই প্রকল্পকে দেশের ৫৯৭টি উপজেলায় ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাহিদ হোসেন।
তিনি বলেন, "প্রকল্পের প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায় শেষ হলেও নারীরা যে জ্ঞান অর্জন করেছেন, তা ধরে রাখতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে আমরা আশ্বস্ত করছি, পলিসি লেভেলে আলোচনার মাধ্যমে এই সফল মডেলটি অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া হবে।"
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জলবায়ু সহনশীলতা তৈরিতে নারীদের নেতৃত্বকে সামনে এনে 'এমপাওয়ার' প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের মাঠপর্যায়ের সাফল্য ও অভিজ্ঞতা সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়াই এই কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য।
এছাড়া নীতিপ্রণেতা ও উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বয়ে জলবায়ু কর্মসূচি দেশব্যাপী সম্প্রসারণের নীতিগত সুপারিশমালা তৈরি এবং আন্তর্জাতিক ‘বেইজিং +৩০ অ্যাকশন এজেন্ডা’ অনুযায়ী গ্রামীণ ও আদিবাসী নারীদের সবুজ কর্মসংস্থান ও সম্পদের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টিও এই আয়োজনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
দিনব্যাপী এই কর্মশালায় মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা, সফলতার গল্প এবং জলবায়ু সহনশীল কার্যক্রমে নারীদের নেতৃত্বকে তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে নাগরিক সমাজ, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রায় ২৫০ জন প্রতিনিধি অংশ নেন।