প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম আসিয়ান দেশ সফরে লাওস যাচ্ছেন মিন অং হ্লাইং
নতুন বেসামরিক ভূমিকা নেওয়ার পর এটিই কোনো আসিয়ান সদস্য রাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট হ্লাইংয়ের প্রথম সফর।
মিয়ানমারের জান্তাপ্রধান থেকে নির্বাচনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টর দায়িত্ব নেওয়া মিন অং হ্লাইং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক সফরে লাওস যাবেন।
বুধবার দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। নতুন বেসামরিক ভূমিকা নেওয়ার পর এটিই কোনো আসিয়ান সদস্য রাষ্ট্রে হ্লাইংয়ের প্রথম সফর।
সামরিক সরকারের প্রধান থেকে প্রেসিডেন্টের পদে হ্লাইংয়ের পরিকল্পিত রূপান্তরের ৪ মাস পর এই সফরটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর আগে তিনি মিয়ানমারের দুই বৃহৎ প্রতিবেশী ভারত ও চীন সফর করেন।
লাওসের প্রেসিডেন্ট থংলুন সিসুলিতের আমন্ত্রণে হ্লাইং তার স্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদের ঊর্ধ্বতন সদস্য এবং কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে দেশটিতে যাবেন বলে রাষ্ট্র পরিচালিত ‘গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমার’ পত্রিকা জানিয়েছে। তবে প্রতিবেদনে সফরের সুনির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি।
১১ সদস্যের দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর সংস্থা (আসিয়ান) গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত মিয়ানমারের ৩ ধাপের জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলকে স্বীকৃতি দেয়নি। প্রধান বিরোধী দলগুলোকে বাদ দিয়ে হওয়া ওই নির্বাচনে সামরিক বাহিনী সমর্থিত দল বড় ধরনের জয় পায়।
তবে নির্বাচনের পর থেকে আসিয়ানের নেতারা মিয়ানমারের সাথে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। এর অংশ হিসেবে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহামাদ হাসান এবং থাইল্যান্ডের শীর্ষ কূটনীতিক সিহাসাক পুয়াংকেটকাও ইতিমধ্যে রাজধানী নেপিডো সফর করেছেন।
২০২১ সালে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেছিলেন জেনারেল হ্লাইং। সেই অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া বিক্ষোভ পরবর্তীতে এক বিধ্বংসী গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়, যা এখনও চলমান রয়েছে।
অভ্যুত্থানের পরপরই আসিয়ান মিয়ানমারে শান্তি ফেরাতে একটি নিজস্ব পরিকল্পনা বা ‘৫ দফা ঐকমত্য’ কার্যকরের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। সংস্থাটি মিয়ানমারের শাসক জেনারেলদের তাদের শীর্ষ সম্মেলনগুলোতে অংশ নেওয়া থেকেও নিষিদ্ধ করেছিল। এর ফলে গত বছর পর্যন্ত হ্লাইং কূটনৈতিকভাবে মূলত একঘরে ছিলেন।
তবে নির্বাচনে জয়ের পর হ্লাইং জানিয়েছিলেন, আসিয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন তার সরকারের প্রধান অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে অন্যতম।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ এশিয়া উপদেষ্টা রিচার্ড হরসি বলেন, “লাওসে এই রাষ্ট্রীয় সফরটি নেপিডোর ওপর আসিয়ানের চাপানো কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতার নীতি ভাঙার সবচেয়ে স্পষ্ট লক্ষণ।”
তিনি আরও বলেন, “এটি অনিবার্যভাবেই ৫ দফা ঐকমত্যের রাজনৈতিক শক্তিকে দুর্বল করবে। এর মানে দাঁড়াবে আসিয়ানের যে অল্প কয়েকটি দেশ এখনও স্বাভাবিক সম্পর্কের বিরোধিতা করছে, তাদের জন্য এই অবস্থান ধরে রাখা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়বে।”
