Published : 13 May 2026, 09:59 PM
নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে অবৈধ দখল, অপরিকল্পিত হকার ব্যবসা এবং প্লাস্টিক-পলিথিন বর্জ্যকে চিহ্নিত করেছেন মেয়র শাহাদাত হোসেন।
বুধবার নগরীর টাইগার পাসে অস্থায়ী নগর ভবনে ১৯ সদস্যের সমন্বয়ক কমিটির প্রথম সভায় মেয়র এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।
নগরীর সব খাল ও পানি নিষ্কাশন নালা সারা বছর সচল রাখা, জলাবদ্ধতা নিরসন, বিভিন্ন উন্নয়ন ও সেবামূলক কাজের সমন্বয় জোরদারে সম্প্রতি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এই সমন্বয় কমিটি গঠন করে।
সভায় মেয়র শাহাদাত বলেন, “ইদানিং আমরা লক্ষ্য করছি, নগরীতে রাস্তায় হকার ব্যবসা ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। অনেকেই ফুটপাত ও সড়ক দখল করে ব্যবসা করছেন এবং যত্রতত্র ময়লা ফেলছেন।
“এসব বর্জ্য পরিষ্কার করতে আমাদের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের দিনরাত কাজ করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ ছাড়া বিকল্প নেই। বর্ষাকাল সামনে রেখে জোনভিত্তিক ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করতে হবে। যারা সড়ক দখল করে ব্যবসা করছে এবং অপরিকল্পিতভাবে ময়লা ফেলছে, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।”
চলতি মৌসুমেই চট্টগ্রাম নগরীকে জলাবদ্ধতা থেকে ৭০-৮০ শতাংশ মুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করার কথা বলেন মেয়র।
তিনি বলেন, “এ বছর প্রবর্তকে যে পানি উঠেছে, সেটাকে একটা দুর্ঘটনা বলব আমি। কারণ যে ভারি বৃষ্টি হয়েছে, সেটা আসলে বৈশাখের জন্য বেমানান। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হঠাৎ করে এ ধরনের ঘটনা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে সেটা হতে পারে।
“গত বছরে ৫০-৬০ ভাগ জলাবদ্ধতা আমরা কমাতে সক্ষম হয়েছি। এইবার ইনশাল্লাহ আমাদের কমিটমেন্ট ৭০-৮০ ভাগ জলাবদ্ধতা মুক্ত চট্টগ্রাম। আমরা এই ব্যাপারে বদ্ধপরিকর।”
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান নুরুল করিম সভায় বলেন, “প্রবর্তক এলাকায় দুটি ভবন (হিজড়া খালের পাড়ে) অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। একটি প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির ভবন এবং আরেকটি ইউএস কর্নার সংলগ্ন স্ট্রাকচার। ভবনগুলোর অবস্থা দেখে মনে হয়েছে, যে কোনো সময় ধসে পড়ে মানুষের প্রাণহানির কারণ হতে পারে।
“বিশেষ করে সামান্য ভূমিকম্প হলেও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ভেঙে ফেলা ভবনটির অবশিষ্ট অংশ এখনও দাঁড়িয়ে আছে, সেটি দ্রুত অপসারণ করা প্রয়োজন।”
মেয়র শাহাদাত সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলীকে আগামী ১০ দিনের মধ্যে ভবন দুটি ভেঙে ফেলার উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দেন।
অন্যদের মধ্যে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামসুল আলমসহ সমন্বয় কমিটির সদস্যরা এবং বিভিন্ন সেবা সংস্থার উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় বক্তব্য দেন।