Published : 05 Jan 2026, 02:45 PM
জলাতঙ্ক মোকাবিলায় চট্টগ্রামে ১৫ হাজার কুকুরকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
সোমবার বেলা ১১টার দিকে নগরীর আদালত ভবন চত্বরে ‘দেশ থেকে জলাতঙ্ক নিমূর্লের লক্ষ্যে সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যাপকহারে কুকুরের টিকাটান ২০২৬’ এর উদ্বোধন করেন মেয়র শাহাদাত হোসেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, “চট্টগ্রাম শহরে অনেকেরই অভিযোগ আছে যে কুকুর বেড়ে গেছে। কুকুরের জন্য হাঁটতে পারছে না, কুকুর কামড় দিচ্ছে, জলাতঙ্ক রোগ হচ্ছে। এখানে আবার কিছু সমস্যাও আছে। যার কারণে কুকুর নিধনও করা যায় না।
“এয়ারপোর্টও আমাদের বারবার বলে, কুকুরগুলোকে কি করা যায়? এখানে কুকুর মারলেও দেখবেন আবার অনেক আন্দোলন। কুকুর নিধন করা অপরাধ। তাই কুকুর নিধন না করে ভ্যাকসিনেশনের আওতায় আনা।”
‘জলাতঙ্ক প্রাণঘাতি একটি রোগ’ মন্তব্য করে মেয়র বলেন, “যদি মনে হয় কোনো কুকুর জলাতঙ্কে আক্রান্ত, তাহলে তার আশেপাশে যাবেন না। কুকুরের মুখ থেকে লালা পড়লে, অস্থির চলাফেরা, লোকজনকে কামড়াতে চায় এবং হাঁটতে সমস্যা হয় এমন কুকুর র্যাবিস ভাইরাসে আক্রান্ত।
“যে কোনো কুকুর কামড়ালে জলাতঙ্ক হয় না। যেসব কুকুর র্যাবিস ভাইরাসে আক্রান্ত তারা কাউকে কামড়ালে এই রোগ হয়।”
নগরীর প্রতিটি এলাকায় ৭০ শতাংশ কুকুরকে ভ্যাকসিনেশনের আওতায় আনার লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন তিনি।
শাহাদাত হোসেন বলেন, “সেটা হলে হার্ড ইমিউনিটি ডেভেলপ করবে। যাতে ভাইরাস আর ছড়াতে পারবে না। তারপরও যদি কোথাও কুকুরের মধ্যে লক্ষণ দেখেন তাহলে আমাদের স্বাস্থ্য বিভাগকে জানান। সেটিকে ভ্যাকসিনেশনের আওতায় আনব।
“কুকুরের সাথে সদাচরণ করা উচিত। কাউকে কুকুর কামড় দিলে ১৫ মিনিট ধরে সাবান দিয়ে ক্ষতস্থান ধুয়ে ফেলবেন। এবং ক্ষতস্থান আয়োডিন বা বিটাডিন দিয়ে জীবানুমক্ত করবেন। এরপর অতিদ্রুত টিকা গ্রহণের জন্য হাসপাতালে চলে যাবেন।”
তিনি বলেছেন, সিটি করপোরেশন পরিচালিত মেমন হাসপাতালে র্যাবিস ভ্যাকসিন আছে।

সোমবার থেকে শুরু হওয়া টিকাদান কর্মসূচি চলবে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত। এ লক্ষ্যে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে ৪৬টি টিম গঠন করা হয়েছে।
প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত এই টিকাদান চলবে।
২০২৩ সালের শেষদিকে নগরীর সাড়ে ১৩ হাজার কুকুরকে টিকা দিয়েছিল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন।
নগরীর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তথ্য অনুসারে, গত ৫ বছরে সেখানে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন নেওয়া রোগীর সংখ্যা চারগুণ বেড়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, ২০২১ সালে সেখানে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন নিয়েছে ৬ হাজার ৭০৯ জন। ২০২২ সালে ভ্যাকসিন নেয় প্রায় ৮ হাজার জন।
২০২৩ সালে ১৪ হাজার ৩৩০ জন এবং ২০২৪ সালে প্রায় ২৪ হাজার জন রোগী ভ্যাকসিন নিয়েছে।
সবশেষ ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ২৬ হাজার জন ভ্যাকসিন নেয়। গত ৫ বছরের ভ্যাকসিন নেয়াদের সিংহভাগই কুকুর ও বিড়ালের কামড় ও আঁচড়ে আক্রান্ত। এছাড়া অল্প কিছু সংখ্যক ব্যক্তি অন্য প্রাণির কামড়ে আক্রান্ত হয়।
সোমবারের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার, সাধারণ সম্পাদক হাসান আলী চৌধুরী, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি তারেক আহম্মেদ, আইনজীবী কামরুল ইসলাম সাজ্জাদ।