Published : 22 May 2026, 09:49 PM
চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকায় সাড়ে তিন বছর বয়সি শিশুকে ‘ধর্ষণের’ অভিযোগে গ্রেপ্তার মনির হোসেন পুলিশের কাছে ‘দোষ স্বীকার’ করেছেন; আদালতেও ‘স্বীকারোক্তিমূলক’ জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার বিকালে এই আসামিকে চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিকের আদালতে হাজির করার পর তিনি ‘স্বীকারোক্তিমূলক’ জবানবন্দি দেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন মো. কবির ভূঁইয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের জিজ্ঞাসাবাদে মনির হোসেন শিশুটিকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। পরে তাকে আদালতে নেওয়া হলে সেখানেও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
তিনি বলেন, “পরে আদালতের নির্দেশে আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”
বাকলিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় ওই শিশুকে স্থানীয় ডেকোরেটের কর্মচারী ৩২ বছর বয়সি মনির হোসেন ‘ধর্ষণ’ করেছেন বলে বৃহস্পতিবার বিকালে এলাকায় খবর ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে।
পুলিশ মনিরকে থানায় নেওয়ার চেষ্টা করলে এলাকাবাসী বাধ সাধেন, বলেন—তারাই ওই যুবকের ‘শাস্তি’ নিশ্চিত করবেন।
দুই ঘণ্টারও বেশি সময়ের চেষ্টায় সন্দেহভাজনকে নিয়ে আসতে না পেরে পুলিশ সন্ধ্যায় টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। স্থানীয়রা জড়ো হয়ে পুলিশের গাড়ি ঘিরে ফেলে। দফায় দফায় সংঘর্ষে বাকলিয়া এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশের একটি বড় ট্রাকে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। এসময় সাংবাদিকসহ অন্তত ৪০ জন আহত হন।
এই ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে সে দিন গভীর রাতে বাকলিয়া থানায় মামলা করেন।
এই মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এই মামলার তদন্ত কাজ এবং ডিএনএ পরীক্ষাসহ সবকিছু দ্রুততম সময়ে শেষ করার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।”
উপকমিশনার হোসাইন কবির ভূঁইয়া শুক্রবার দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন, “শিশুটির বাবা গতকাল ঢাকায় ছিলেন এবং মা ছিলেন গার্মেন্টেসে। তারা কেউ বাসায় না থাকলে এ দম্পতির তিন সন্তান তাদের নানীর কাছে থাকেন।
“এ সুযোগে সন্দেভাজন মুনির কৌশলে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা বা ধর্ষণ করেছে। তবে বিষয়টি মেডিকেল প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
শিশুটিকে উদ্ধারের পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। শিশুটি এখনো সেখানে চিকিৎসাধীন।
আগের খবর:
বাকলিয়ার ঘটনায় ধর্ষণের মামলা পরিবারের, হামলার মামলা করবে পুলিশ
শিশু ‘ধর্ষণের’ সন্দেহভাজনকে নিয়ে বাকলিয়া ছেড়েছে পুলিশ, গাড়িতে আগুন
চট্টগ্রামে শিশু ‘ধর্ষণের’ সন্দেহভাজনকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, ঘেরাওয়ের মুখে পুলিশ