Published : 05 Oct 2025, 08:21 PM
চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিক আহত হওয়ার ঘটনায় হামলাকারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে সাঁড়াশি অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন মেয়র শাহাদাত হোসেন।
রোববার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে আহত সাংবাদিকদের দেখতে গিয়ে তিনি এই দাবি জানান।
এদিকে এই হামলায় নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়েছে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে)।
দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে চট্টগ্রাম টেলিভিশন রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক (সিটিআরএন)। রোববার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে এই বিক্ষোভ সমাবেশ হয়।
রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, “জঙ্গল সলিমপুর এলাকাটি সন্ত্রাসীদের একটি অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। সাংবাদিক হোসাইন জিয়াদ উনি ব্রেইনে ইনজুরড হয়েছেন। এখন নিউরো সার্জারি ওয়ার্ডে আছেন। আরেকজন চিত্র সাংবাদিক পারভেজ, উনিও আহত হয়েছেন। তার মাথায় স্টিচ দেওয়া হয়েছে। আমি নিজেও দেখলাম।
“ওইখানে যেসব সন্ত্রাসীদের নাম আসছে, অনতিবিলম্বে এসব সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান করতে হবে। সন্ত্রাসীদের কোনো দল, নাম, ধর্ম, বর্ণ নেই। সন্ত্রাসী সন্ত্রাসীই। তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে।”
তিনি বলেন, “সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে স্পষ্ট বলতে চাই, আমরা একটা নিরাপদ নগরীর কথা বারবার বলছি। এখানে সন্ত্রাসীদের কোন স্থান হতে পারে না। প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি, অবিলম্বে তাদের আইনের আওতায় আনার জন্য। প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট থানার প্রতি দাবি জানাচ্ছি, অবিলম্বে সেখানে সাঁড়াশি অভিযানের মধ্য দিয়ে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করার জন্য।
“সেখানে অনেক সন্ত্রাসীর নাম শুনছি। প্রশাসন তাদের নাম জানে, তাদের চেনে। এবং রাজনৈতিক যাদের সম্পৃক্ততা আছে সেসব নেতৃবৃন্দকে রাজনৈতিক দল থেকে বহিষ্কার করা হোক। কোনো ধরনের কোনো আশ্রয় প্রশ্রয় এসব সন্ত্রাসীদের দেওয়া যাবে না। এখানে যদি আমার দলের কারো সংশ্লিষ্টতা থাকে, তাদেরকে দল থেকে বহিষ্কার করার জন্য আমি বলি।”
রোববার সকালে জঙ্গল সলিমপুরের লোহারপুল এলাকায় স্থানীয় সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত হন এখন টিভির চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান হোসাইন জিয়াদ ও ক্যামেরাম্যান মো. পারভেজ।
এখন টিভির প্রতিবেদক ফয়সাল করিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সেখানে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে হঠাৎ ৫০-৬০ জন লোক তাদের ওপর হামলা করে। এসময় তারা দেশীয় অস্ত্র ও গাছের ডাল দিয়ে আঘাত করে। তাদের বহনকারী অটোরিকশাতেও হামলা চালায়।”

ফয়সাল করিমের ভাষ্য, হামলাকারীরা সাংবাদিকদের মোবাইল ও মানিব্যাগও ছিনতাই করে নিয়ে যায়; ভাংচুর করে ক্যামেরা।
এর আগে শনিবার ভোরে জঙ্গল সলিমপুরের আলিনগর এলাকায় ইয়াছিন ও রোকন-গফুর বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে ব্যাপক গোলাগুলি হয়। সেখানে রোকন বাহিনীর এক সদস্য গুলিতে নিহত হন। আহত হন বেশ কয়েকজন।
এ ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতেই রোববার সেখানে গিয়ে হামলার মুখে পড়েন সাংবাদিকরা।
দুই সাংবাদিক আহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সিইউজে সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক সবুর শুভ এক বিবৃতিতে বলেন, “সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলা শুধু ঘৃণ্যই নয়, ন্যক্কারজনক ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত।
“সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। আর রাজনৈতিক দলের নেতাদের প্রশ্রয় পাওয়া এসব সন্ত্রাসীদেরকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারার ঘটনা খুবই দুঃখজনক ও সংশ্লিষ্ট নেতাদের ব্যর্থতার জলন্ত উদাহারণ।”
এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সিইউজে নেতৃবৃন্দ ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার দাবি জানান।
বিবৃতিতে সিইউজে নেতৃবৃন্দ বলেন, “দুই সাংবাদিকের ওপর হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় চট্টগ্রামের সাংবাদিক সমাজকে সাথে নিয়ে সিইউজে কঠোর কর্মসূচি বাস্তবায়নের দিকে অগ্রসর হবে।”
বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব প্রাঙ্গনে সিটিআরএন আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা বলেন, সাংবাদিকদের উপর হামলা ‘গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা’ ছাড়া কিছুই নয়। তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।
অতীতেও বেশ কয়েকবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান পরিচালনার সময় সংবাদ সংগ্রহে গেলে সাংবাদিকরা দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হয়েছেন জানিয়ে সাংবাদিক নেতারা বলেন, এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করে, ‘একটি প্রভাবশালী চক্র’ সংবাদমাধ্যমকে ভয় দেখিয়ে সত্য প্রকাশ ঠেকাতে চায়।
সংগঠনের সদস্য আরিচ আহমদের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম আহবায়ক একে আজাদের সঞ্চালনায় সাংবাদিক মো. শাহনেওয়াজ, ম সামসুল ইসলাম, চৌধুরী ফরিদ, গোলাম মাওলা মুরাদ, শাহনেওয়াজ রিটন, আলমগীর সবুজ, তৌহিদুল ইসলাম, আলিউর রহমান, ফখরুল ইসলাম, হাজেরা শিউলি, এমদাদুল হক, সৈয়দ তাম্মিম মাহমুদ, শফিক আহমদ সাজিব সমাবেশে বক্তব্য দেন।
জঙ্গল সলিমপুরে হামলায় ২ সাংবাদিক আহত
জঙ্গল সলিমপুরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের সময় হামলা
জঙ্গল সলিমপুর: মহাসড়ক অবরোধ দিনভর ভোগান্তি, উচ্ছেদে অনড় প্রশাসন
জঙ্গল সলিমপুরে হবে কারাগার স্টেডিয়াম, সঙ্গে 'ছিন্নমূলদের' পুনর্বাসনও