Published : 19 May 2026, 12:01 AM
চট্টগ্রামে জুলাই আন্দোলনের ‘গ্রাফিতি’ ও দেয়াল লিখন মোছা নিয়ে প্রায় ২৪ ঘণ্টা ধরে উত্তেজনার পর টাইগার পাস এলাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পিলারে পৃথকভাবে গ্রাফিতি লিখন কর্মসূচি পালন করেছে সিটি করপোরেশন ও জাতীয় ছাত্রশক্তি।
সোমবার রাত ৮টার দিকে দুই পক্ষের লোকজনই এক্সপ্রেসওয়ের কাছাকাছি অবস্থানে আলাদাভাবে নানা ধরনের দেয়াল লিখন করে; যেটিকে তারা ‘গ্রাফিতি’ বলছে। তবে এসময় নতুন করে কোনো উত্তেজনা দেখা যায়নি।
সিটি করপোরেশনের তরফে গ্রাফিতি আঁকা কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বক্তব্য দেওয়ার সময় তার সঙ্গে সিটি করপোরেশনের লোকজন ছাড়াও ছাত্রদল-যুবদলের নেতাকর্মীরা ছিলেন।
উদ্বোধনকালে মেয়র বলেন, যারা জুলাই চেতনাকে ধারণ করে তারা যেকোন জায়গায় গ্রাফিতি আঁকতে পারবে। জুলাইয়ের চেতনার সঙ্গে থাকতে হবে।
জুলাই-অগাস্টের চেতনার সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থাকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “জুলাইয়ের চেতনার বিরুদ্ধে যারা কথা বলবে, তাদের রুখে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছি। পুরো চট্টগ্রামের যে পিলারগুলো আছে, সেখানে যে পোস্টারগুলো আছে সেগুলো উঠিয়ে রং করেন এবং নান্দনিকভাবে গ্রাফিতি অঙ্কন করেন।”
অপরদিকে এ স্থানের কিছুটা দূরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহযোগী সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তি চট্টগ্রামের ‘গ্রাফিতি পুনলিখন’ কর্মসূচি হয়। সিটি করপোরেশনের ‘গ্রাফিতি’ মুছে ফেলা এবং পুলিশি ‘হামলার’ প্রতিবাদে তারা এ কর্মসূচি পালন করে।
চট্টগ্রাম নগরীর টাইগার পাস এলাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পিলারে সোমবার রাতে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে জুলাই আন্দোলনের ‘গ্রাফিতি’ আঁকা কর্মসূচি উদ্বোধন করেন মেয়র শাহাদাত হোসেন।
এর আগে দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর টাইগার পাস মোড়ে জুলাই আন্দোলনের ‘গ্রাফিতি’ আঁকা নিয়ে কিছু শিক্ষার্থীর সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি ও আটকের ঘটনার পর রাতে আবার নগরীতে ‘গ্রাফিতি’ আঁকার ঘোষণা দেন এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরের নেতারা।
এর মধ্যেই ‘গ্রাফিতি’ মুছে ফেলা নিয়ে এনসিপি ও ছাত্রদলের মধ্যে রোববার রাতে উত্তেজনার পর টাইগার পাস সড়কে সব ধরনের মিছিল-মিটিংয়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে নগর পুলিশ যে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল, তা সোমবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে প্রত্যাহার করা হয়।
অপরদিকে রাতে সিটি করপোরেশনের তরফে গ্রাফিতি কর্মসূচি পালনের কথা জানানো হয়।
নগরীর টাইগার পাস এলাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কয়েকটি পিলারে সম্প্রতি হলুদ ও সাদা রঙ করে সিটি করপোরেশন। এগুলোতে জুলাই আন্দোলনের ‘গ্রাফিতি’, দেয়াল লিখন ও বিভিন্ন স্লোগান ছিল।
সিটি করপোরেশনের নির্দেশে এগুলো মুছে ফেলা হয়েছে অভিযোগে রোববার সন্ধ্যার পর প্রতিবাদে নামেন এনসিপি নেতাকর্মীরা। এসময় কাছাকাছি স্থানে বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল নেতাকর্মীরাও রাস্তায় নেমে আসলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
এরমধ্যে সোমবার সকাল থেকে জিইসি থেকে দেওয়ানহাট পর্যন্ত সড়কে সব ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয় নগর পুলিশের পক্ষ থেকে। তবে দুপুরে এক দল ‘শিক্ষার্থী’ পিলারগুলোতে ফের ‘গ্রাফিতি’ আঁকা ও স্লোগান লেখার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।
একপর্যায়ে পুলিশ ৩ জনকে আটক করলেও শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মুখে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।