Published : 12 Mar 2026, 09:02 PM
আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে দেশের সমুদ্রসীমায় অবস্থানরত জ্বালানিবাহী জাহাজের নিরাপত্তা আরও জোরদার করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।
এর অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে নৌবাহিনীর টহল ও নজরদারি কার্যক্রম আরও জোরদার করার বিষয়টি বৃহস্পতিবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর-আইএসপিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নৌবাহিনী সব সময় বাংলাদেশের জলসীমায় অবস্থানরত এলএনজি, এলপিজি ও অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজসমূহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আসছে।
“বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এ সংক্রান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।”
ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতার মধ্যে দেশে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তেল ডিপোগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শনিবার সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাব দিয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগকে চিঠি দিয়েছে।
আইএসপিআরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে দেশের সমুদ্রসীমায় অবস্থানরত জ্বালানিবাহী জাহাজসমূহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌবাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
“এর অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর সংলগ্ন এলাকা, গভীর সমুদ্র এবং দেশের জ্বালানি পরিবহন সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে নৌবাহিনীর টহল ও নজরদারি কার্যক্রম আরও জোরদার করেছে।”
দেশের সমুদ্রসীমা ও সমুদ্র পথের নিরাপত্তায় নৌবাহিনী সার্বক্ষণিক নিয়োজিত রয়েছে তুলে ধরে আইএসপিআর বলেছে, বাণিজ্যিক জাহাজসমূহের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমকে সুসংহত রেখেছে এই বাহিনী।
“নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ, দ্রুতগামী বোট মোতায়নের পাশাপাশি মেরিটাইম প্যাট্রোল এয়ারক্রাফট ও হেলিকপ্টার এর মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে।”

সমুদ্রপথে সার্বক্ষণিক টহল, আকাশ থেকে নজরদারি এবং সন্দেহজনক জাহাজ বা নৌযান পর্যবেক্ষণের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এর ফলে জ্বালানিবাহী জাহাজসমূহের নিরাপদ চলাচল, নোঙর এবং বন্দরে প্রবেশ ও বহির্গমন নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।
মূলত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এবং দেশের জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থার সার্বিক নিরাপত্তা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে এ বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা বলেছে আইএসপিআর।
সমুদ্রপথে সম্ভাব্য যেকোনো ধরনের চোরাচালান, অপতৎপরতা বা অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকাগুলোতে নৌবাহিনীর বিশেষ অপারেশনাল টিম প্রস্তুত রয়েছে বলেও আইএসপিআর বলেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ নৌবাহিনী জ্বালানি সরবরাহে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ, কোস্ট গার্ড, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট জ্বালানি সংস্থাসমূহের সাথে সমন্বয় সাধন করে কাজ করছে। এর ফলে দেশের জ্বালানি আমদানি, সংরক্ষণ ও পরিবহন ব্যবস্থার নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হয়েছে।