সাবেক এমপি নদভীর বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা
আইআইইউসির বিওটি চেয়ারম্যান থাকাকালে নদভী এবং অন্যরা মিলে সম্মানীর নামে ১০ কোটি টাকা ‘আত্মসাত’ করেন বলে দুদকের অভিযোগ।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনে সাড়া দিয়ে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভীর বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত।
চট্টগ্রাম মহানগরের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক নুরুল ইসলাম বুধবার এ আদেশ দেন।
দুদকের আইনজীবী কাজী সানোয়ার আহমদ লাভলু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দুদক উনার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করছে। এই আবেদন অনুসন্ধানের প্রাথমিক পদক্ষেপের অংশ। আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।”
দুদকের আবেদনে বলা হয়, আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী চট্টগ্রামের আন্তর্জাতিক ইসলামী ইউনিভার্সিটির (আইআইইউসি) বোর্ড অব ট্রাস্টিজের (বিওটি) চেয়ারম্যান ছিলেন। ওই সময় তিনি এবং অন্যরা মিলে সম্মানীর নামে ১০ কোটি টাকা ‘আত্মসাত’ করেন।
দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা উপ-পরিচালক মো. নাজমুচ্ছায়াদাত বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে এই আবেদন করেন।
অন্যদিকে বুধবার সাবেক সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভীকে পাঁচটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।
এর মধ্যে নগরীর ডবলমুরিং থানায় একটি ও চান্দগাঁও থানায় আরেকটি হত্যা মামলা এবং কোতোয়ালি, পাঁচলাইশ ও চান্দগাঁও থানার একটি করে মোট তিনটি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলা রয়েছে।
বুধবার সকালে কড়া পুলিশি প্রহরায় নদভীকে চট্টগ্রাম আদালতে হাজির করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে এসব মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়।
চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি মফিজুল হক ভুঁইয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শুনানি শেষে পাঁচ মামলায় উনাকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেয়া হয়।”
শুনানি শেষে কড়া প্রহরা দিয়ে নদভীকে কারাগারে নিয়ে যায় পুলিশ।
গত বছরের ৫ অগাস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ায় বিভিন্ন ঘটনায় নদভীর বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছিল। এছাড়া নগরীর বেশ কয়েকটি মামলাতেও আসামি নদভী।
দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর ঢাকায় গত ১৫ ডিসেম্বর গ্রেপ্তার হন তিনি।
২০১৪ ও ২০১৮ সালে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসন থেকে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ছিলেন আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হলেও স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে তিনি হেরে যান।
পুরনো খবর
