Published : 13 Mar 2026, 12:19 AM
ফেইসবুক পোস্ট দিয়ে এবং কমেন্ট ও রিঅ্যাক্টের মাধ্যমে ‘ঘৃণা ও বিদ্বেষ’ ছড়ানোর অভিযোগে চট্টগ্রামে সাত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ছাত্রদলের এক কর্মী, যিনি মাস দুয়েক আগে সরকারদলীয় এ ছাত্র সংগঠনে যোগ দেন।
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের সাইবার ট্রাইব্যুনাল কাজী মিজানুর রহমানের আদালতে মামলাটি করেন মো. রিদুয়ান ওরফে রিদুয়ান সিদ্দিকী, যিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রাম ইউনিটের সাবেক সমন্বয়ক এবং সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক।
আসামি সাংবাদিকরা হলেন- দৈনিক চট্টগ্রাম প্রতিদিনের সম্পাদক হোসাইন তৌফিক ইফতেখার, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) যুগ্ম মহাসচিব মহসিন কাজী, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিইউজে) সাধারণ সম্পাদক ও আজকের পত্রিকার চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান সবুর শুভ, সিইউজের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি রতন কান্তি দেবাশীষ, চ্যানেল আইয়ের চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান চৌধুরী ফরিদ, যুগান্তরের চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার এবং সমকালের জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক নাসির উদ্দিন হায়দার।
বাদীর আইনজীবী আরিফ উর রহমান চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "আদালত অভিযোগ গ্রহণ করে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন।"
মামলার আবেদনকারী রিদুয়ানের বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নানুপুরে। গত জানুয়ারিতে তিনি ফটিকছড়ি উপজেলা ছাত্রদলে যোগ দেন।
রিদুয়ান মামলার আবেদনে এর প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, গত ৪ মার্চ তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহিরউদ্দিন স্বপন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব পরিদর্শনে এলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রাম এর পক্ষে তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে ‘চট্টগ্রামে সংঘটিতভাবে গণমাধ্যমে অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর ও নারী আন্দোলনকারীদের লাঞ্চনা এবং ফৌজদারি অপরাধে জড়িত তথাকথিত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বিচারিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে’ একটি স্মারকলিপি দেন।
তিনি বলেন, এসব অভিযোগের বিষয়ে তিনি ৪ মার্চ বেলা ১টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে তথ্যমন্ত্রীকে মৌখিকভাবে জানান এবং সেদিন সন্ধ্যা ৭টায় তা স্মারকলিপি আকারে দেন।
তার অভিযোগ, ওই দিন রাত ১১টায় ফেইসবুকে দেখতে পান সাংবাদিক হোসাইন তৌফিক ইফতেখার তার ও সমন্বয়কদের বিরুদ্ধে ‘ঘৃণা ও বিদ্বেষ প্রকাশ করে’ একটি পোস্ট দেন। ওই পোস্টে সাংবাদিক শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার, নাসির উদ্দিন হায়দার, রতন দেবাশীষ ও মহসীন কাজী বিভিন্ন মন্তব্য করেন এবং সবুর শুভ ও চৌধুরী ফরিদ রিঅ্যাক্ট দেন।
মামলার আবেদনে বলা হয়, এর মাধ্যমে ‘কুৎসিত ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে ঘৃণা ও বিদ্বেষমূলক’ তথ্য ও বক্তব্য প্রকাশ করে বাদীর সামাজিক ও রাজনৈতিক মানহানি করেছেন। সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশের নং ২৫, ২০২৫ এর অধীন ২৬ (১) ও ২৬ (২) ধারার অপরাধ সংঘটন করেছে বলে অভিযোগ করা হয়।
এ বিষয়ে রিদুয়ান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফির ডটকমকে বলেন, আসামিরা ফেইসবুকে পোস্ট দিয়ে তার ও ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়িয়েছেন। এতে তাদের মানহানি হয়েছে।
তার বর্তমান রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়ে রিদুয়ান বলেন, "আমি আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক এবং যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলাম। বর্তমানে ছাত্রদলের রাজনীতি করি। তবে কোনো পদে নেই।"
এদিকে সাত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএফইউজের সহসভাপতি শহীদ উল আলম, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সবশেষ নির্বাচিত কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন মো. রেজা ও সাধারণ সম্পাদক দেবদুলাল ভৌমিক এবং চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী।
রাতে এক যুক্ত বিবৃতিতে তারা বলেন, “গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের আমলেও আগের মতোই বাকস্বাধীনতা, ভিন্নমত ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করার চক্রান্ত করছে সুযোগসন্ধানী একটি চক্র।”
তারা সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।