Published : 03 Jul 2024, 08:48 PM
সরকারি দপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত বা আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন করপোরেশনে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর চাকরিতে 'বৈষম্যমূলক কোটা পদ্ধতি' বাতিল করে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের দাবিতে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী।
বুধবার বেলা ১২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার থেকে তারা মিছিল শুরু করে প্রশাসনিক ভবন, কলা অনুষদ, বুদ্ধিজীবী চত্বর, কাটা পাহাড় ও জিরো পয়েন্ট মোড় হয়ে ১ নম্বর গেইট সংলগ্ন চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কে অবস্থান নেয়।
বেলা দেড়টা পর্যন্ত প্রায় দেড় ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কের হাটহাজারী প্রান্ত ও নগর প্রান্তে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।
‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর ব্যানারে এই অবরোধ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের ‘সারা বাংলা খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে’, ‘কোটা সন্ত্রাস বন্ধ করো’, ‘মেধা না কোটা? মেধা- মেধা’, ‘মেধাবীদের কান্না, আর না, আর না’, ‘কোটার বিরুদ্ধে - লড়াই হবে একসাথে’ স্লোগান দিতে শোনা যায় এ সময়।

কর্মসূচি থেকে চার দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হল-
• ২০১৮ সালে ঘোষিত সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র বহাল রাখতে হবে।
• ২০১৮ এর পরিপত্র বহাল সাপেক্ষে কমিশন গঠন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি চাকরিতে (সকল গ্রেডে) অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাদ দিতে হবে। সংবিধান অনুযায়ী কেবল অনগ্রসর ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনা করা যেতে পারে।
• সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার করা যাবে না।
• কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্য পদগুলোতে মেধা অনুযায়ী নিয়োগ দিতে হবে। দুর্নীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক আমলাতন্ত্র নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী তাসনুভা জাহান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "কোটা নামক বৈষম্যের বিরুদ্ধে সারাদেশের শিক্ষার্থীরা জেগে উঠেছে। ৫৬ শতাংশ কোটা থাকলে মেধার মূল্যায়ণ কিভাবে করবে? দেশের বেকার সমস্যার সমাধান কি এইভাবে হবে? আমরা কোটা বৈষম্যের অবসান চাই, যাতে প্রতিটি শিক্ষার্থী যোগ্যতা অনুসারে সমান সুযোগ পায়।"
এদিকে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে দুই পাশে গাড়ি চলচাল বন্ধ হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
হাটহাজারী থানার এসআই নাজমুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "আমরা সেই সময় স্পটে উপস্থিত ছিলাম। চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি রাস্তাটি আন্দোলনের কারণে প্রায় ৪০-৫০ মিনিট বন্ধ ছিল। শিক্ষার্থীরা উঠে যাওয়ার পরপরই ১০ মিনিটের মধ্যে আমরা রাস্তা যান চলাচল স্বাভাবিক করে আনতে পেরেছিলাম।"
গত ৫ জুন হাইকোর্ট রায় দিয়ে ২০১৮ সালের পরিপত্র বাতিল করার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আন্দোলন শুরু হয়।
এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করলেও এবার সড়ক অবরোধের মত কর্মসূচি পালন করলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা।