Published : 23 Sep 2024, 01:26 AM
গান গেয়ে গেয়ে চট্টগ্রামে এক যুবককে পেটানোর ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তা নিয়ে তদন্তে নেমে পুলিশ বলছে, ঘটনাটি গত অগাস্টের; যাতে নিহত যুবক একজন দোকান কর্মচারী।
নিহত শাহাদাত হোসেন (২৪) নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি থানাধীন পাঁচবাড়িয়া ইউনিয়নের নদনা গ্রামের বাসিন্দা।
তিনি নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন বয়লার কলোনিতে পরিবার নিয়ে থাকতেন। আর কাজ করতেন একই থানার বিআরটিসি এলাকার ফলমণ্ডিতে।
নগরীর পাঁচলাইশ থানার ওসি মোহাম্মদ সোলাইমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ১৪ অগাস্ট যে ব্যক্তির লাশ বদনা শাহর মাজারের সামনে থেকে উদ্ধার হয় তিনি ছিলেন শাহাদাত হোসেন। যে মারধরের ভিডিও শনিবার ভাইরাল হয়েছে সেটিও তারই ভিডিও। নিহতের স্ত্রী ভিডিও দেখে তা শনাক্ত করেছেন।
জড়িত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, কারা কেন এভাবে তাকে পিটিয়ে হত্যা করল তা নিয়ে তদন্ত চলছে।
পুলিশ সদস্যরা বলছেন, পেটানোর ঘটনাটি ঘটে লাশ উদ্ধারের আগের দিন ১৩ অগাস্ট রাতে নগরীর ২ নম্বর গেট এলাকায়। শাহাদাতের লাশ মেলে পরদিন নগরীর প্রবর্তক মোড় থেকে গোল পাহাড় মোড়ের দিকে যাবার পথে বদনা শাহর মাজারের সামনের রাস্তায়।
১৪ অগাস্ট রাতে সড়কে ট্রাফিকের দায়িত্ব পালনকারী রেডক্রিসেন্ট সোসাইসিটির সদস্যের কাছে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে অদূরের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল।
এর এক মাস ৬ দিন পর ২০ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ২০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন যুবক মিলে একজনকে একটি গোল চত্বরের দুটি স্টিল পোলের সাথে বেঁধে রেখেছেন। যুবকদের কয়েকজনের হাতে লাঠি। প্রায় অন্ধকার সড়কের মাঝখানে ওই গোল চত্বরে বেঁধে রাখা যুবককে ঘিরে গান গাইছে যুবকরা।
'মধু কই কই বিষ খাওয়াইলা' শিরোনামের গান গাইতে গাইতে ওই যুবকদের মধ্যে দু-তিনজন ভিডিও করছিল। বেঁধে রাখা যুবকের মাথা বার বার ঝুকে পড়ছিল। দুজন গিয়ে তার মাথা তুলে দিতেও দেখা গেছে।
বেঁধে রাখা ওই যুবকের পরনে ছিল আকাশি রঙের টিশার্ট এবং ছাই রঙা স্ট্রাইপড প্যান্ট।

পেটানোর ঘটনাস্থল দুই নম্বর গেট এলাকা থেকে যেখানে লাশ পাওয়া যায় সেই বদনা শাহর মাজার গেট প্রায় এক কিলোমিটার দূরে।
লাশ উদ্ধারের পরদিন ১৫ অগাস্ট নগরীর পাঁচলাইশ থানায় শাহাদাতের পরিবার অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেছিল।
শাহাদাতের স্ত্রী শারমিন আকতারের বরাতে পাঁচলাইশ থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "১৩ অগাস্ট দুপুরে কাজে যাবার জন্য বাসা থেকে বের হয়েছিলেন শাহাদাত।
"সন্ধ্যা ৭টার দিকে স্ত্রী ফোন করলে কিছুক্ষণের মধ্যে বাসায় চলে যাবেন বলেছিলেন। কিন্তু পরে শাহাদাতের মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।"
১৪ অগাস্ট রাতে চমেক হাসপাতালে গিয়ে পুলিশের উপস্থিতিতে শাহাদাতের লাশ শনাক্ত করেন তার স্ত্রী শারমীন।
এদিকে ভিডিও ভাইরাল হবার পর শাহাদাতের স্ত্রী শারমিনকে থানায় নিয়ে সেই ভিডিও দেখানো হয়। তিনি ভিডিও দেখে মারধরের শিকার হওয়া ব্যক্তিটি তার স্বামী শাহাদাত বলে শনাক্ত করেন বলে জানিয়েছেন থানার এক পুলিশ সদস্য।
শাহাদাত হোসেনের মাথা, গলাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল, বলেছেন সেই পুলিশ সদস্য।