Published : 10 Dec 2025, 06:14 PM
চট্টগ্রামের ডিসি হিলের মূল ফটকের সামনে ‘গাড়িচাপায়’ একটি অন্তঃসত্ত্বা কুকুরের মৃত্যুর ঘটনায় আদালতে মামলার আবেদন করা হয়েছে।
বুধবার চট্টগ্রামের চতুর্থ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তফার আদালতে এ আবেদন করেন প্রাণিকল্যাণ সংগঠন ‘ঋদ্ধম্ম ফাউন্ডেশন’ এর পরিচালক তোফাইল আহম্মদ।
মামলার আবেদনে গাড়িচালক ও ডিসি হিলের একজন নিরাপত্তা কর্মীকে আসামি করা হলেও তাদের নাম উল্লেখ করা হয়নি। আবেদনটি আমলে নিয়ে তদন্ত করে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

তোফাইল আহম্মদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গত ৪ ডিসেম্বর রাতে ডিসি হিলের প্রধান ফটক ও সড়কের মাঝের অংশের রাস্তায় একটি অন্তঃসত্ত্বা কুকুর বসেছিল। তখন ডিসি হিল থেকে একটি সরকারি গাড়ি বের হচ্ছিল। কোনো হর্ন না দিয়ে এবং না থামিয়ে কুকুরটির উপর চালিয়ে দেয় চালক।
“কুকুরটিকে চাপা দেওয়ার পরে চালক একটু দেখেওনি কী হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে ডিসি হিলের ভেতর থেকে আরো কয়েকটি কুকুর এগিয়ে আসে। কিন্তু দারোয়ান গাড়িচাপা পড়া কুকুরটিকে না দেখে গেইট লাগিয়ে দেয়। এরপর সেখানেই কুকুরটি মারা যায়।”
নগরীতে অসহায় ও অসুস্থ প্রাণীদের নিয়মিত খাবার ও চিকিৎসা দেন জানিয়ে তোফাইল বলেন, “কিছুদিন আগেও কুকুরটি অসুস্থ হয়ে পড়ায় সেটিকে চিকিৎসা দিয়েছিলাম। এরপর সেটি সুস্থ হয়ে ওঠে। মাঝেমধ্যে সেটিকে আমি খাবার দিতাম।
“৫ ডিসেম্বর রাতে ডিসি হিল এলাকায় গিয়ে ওই কুকুরটিকে খুঁজেও আর দেখা পাইনি। পরে আশেপাশের লোকজনকে জিজ্ঞেস করে আগের দিন রাতে ওই ঘটনার বিষয়ে জানতে পারি।”
ডিসি হিলের উপরের অংশে চট্টগ্রামে প্রশাসনের দুই শীর্ষ কর্মকর্তা বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের বাসভবন। পাহাড়ের নিচের অংশে নগরবাসীর জন্য হাঁটার রাস্তা ও নজরুল মঞ্চ রয়েছে।
রাত ৮টার পর ডিসি হিলের মূল ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়। শুধু দুই বাসভবনে যানবাহন আসা যাওয়ার সময় মূল ফটক খুলে দেয় নিরাপত্তা কর্মীরা।
গাড়িচাপায় কুকুর মারা যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তাতে দেখা যায় ঘটনাটি রাত ১১টা ৪৪ মিনিটের।

ভিডিওতে দেখা যায়, একটি পিকআপটি বের হওয়ার আগে একজন নিরাপত্তাকর্মী ডিসি হিলের মূল ফটকের বাম পাশের অংশটি খুলে দেন। প্রায় সঙ্গে সঙ্গে অন্তঃসত্ত্বা কুকুরটি ওই খোলা অংশ দিয়ে বের হয়ে ফটকের সামনের ঢালু অংশে বসে। এর তিন সেকেন্ড পরেই পিকআপটি মূল ফটক দিয়ে বেরিয়ে আসে এবং কুকুরটিকে চাপা দেয়। এরপর গাড়িটি ডান পাশের সড়ক ধরে চলে যায়।
অন্তঃসত্ত্বা কুকুরটি গাড়িচাপা পড়ার পরপরই ডিসি হিল থেকে আরো দুটি কুকুর বেরিয়ে আসে কুকুরটির কাছে। পেছনে থাকা নিরাপত্তাকর্মী কয়েক সেকেন্ড পরই মূল ফটকটি বন্ধ করে দেন।
এ ঘটনায় আদালতে মামলার আবেদনের পর বাদীপক্ষের আইনজীবী নাজবীন সুলতানা জেনী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আদালত আমাদের করা আবেদনটি আমলে নিয়েছেন। তিনি পুলিশকে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছেন।
“পাশাপাশি আসামিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত।”
তোফাইল আহম্মদ বলেন, “যতটুকু জানতে পেরেছি গাড়িটি সরকারি গাড়ি এবং সেটি জেলা প্রশাসকের বাসভবনে এসেছিল। তবে গাড়ি চালককে আমরা শনাক্ত করতে পারিনি। নিরাপত্তা কর্মীকেও শনাক্ত করতে পারিনি। তাই মামলায় তাদের নাম তুলে ধরিনি।
“এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে আমরা জানতে পারি, ওই গাড়ি চালককে শোকজ করা হয়েছে। কিন্তু জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়েও ওই শোকজের কোনো কপি আমরা পাইনি।”