১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

ব্যানারে মেসির ব্যাঙ্গাত্মক ছবি: লোহাগড়ায় আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের হাতাহাতি, আহত ৪

পরিস্থিতির অবনতি হলে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী তখন ব্যবস্থা নেবে বলে দুই পক্ষকে হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 09 Jun 2026, 04:08 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:22 PM

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় আর্জেন্টিনার তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসির ব্যাঙ্গাত্মক ছবির ব্যানার টানানো এবং সেই ব্যানার ছিড়ে ফেলাকে কেন্দ্র করে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। 

সোমবার দুপুরের এই ঘটনায় চারজন ‘সামান্য’ আহত হন। পরে রাতে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের হস্তক্ষেপে বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি ‘নিষ্পত্তি করা হয়েছে’ বলে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এটিএম জাহেদ জানিয়েছেন।

উপজেলার সদর ইউনিউয়নের কালোয়ারপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। 

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কয়েকদিন আগে ব্রাজিল সমর্থক কিছু কিশোর-তরুণ একটি ব্যানার টানায়। ওই ব্যানারে একটি ছবিতে দেখা যায়, আর্জেন্টিনার ফুটবলার লিওনেল মেসি জার্মানির একজন ফুটবলারের পায়ে তার ঠোঁট স্পর্শ করছেন। তাতে ব্রাজিল ফুটবল দলের অর্জন হিসেবে পাঁচটি বিশ্বকাপ ও ব্রাজিলের ফুটবলার পেলের হাতে তিনটি বিশ্বকাপ সম্বলিত ছবিও আছে। ব্যনারের নিচের দিকে আর্জেন্টিনার অর্জন হিসেবে ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ খ্যাত গোল দেওয়ার ছবি এবং ব্রাজিলকে জার্মানির দেওয়া সাত গোলের প্রতীক হিসেবে সাতটি ফুটবলের ছবি ছাপানো হয়। 

জাহেদ জানিয়েছেন এই ব্যানার টানানোর পর স্থানীয় আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। ব্যানারটি নামিয়ে ফেলার দাবি ওঠে।

“এতে ব্রাজিল সমর্থকরা রাজি হয়নি বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। পরে আবুল কাশেম নামের এক আর্জেন্টিনার সমর্থক ব্যানারটি ছিড়ে ফেলেন। এতে ব্রাজিলের সমর্থকরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। পরে কয়েকজন ব্রাজিল সমর্থক মিলে আবুল কাশেমকে মারধর করে; এসময় দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতি হয়।”

এতে আবুল কাশেম. মো. তৌহিদ. মো. জিসান ও বশির উদ্দিন নামের চারজন আহত হয়। 

এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিষয়টি মিটমাট করতে স্থানীয় বিএনপি নেতারা হস্তক্ষেপ করেন বলে জানিয়েছেন জাহেদ। 

তিনি বলেন, “ফুটবল খেলার ব্যানার টানানো নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত হয়। যারা ব্যানার ছাপিয়ে টানিয়েছে তারা সবাই স্থানীয় কম বয়সী ছেলে। এটা নিয়ে আর্জেন্টিনার সমর্থকরা ক্ষুব্ধ হয়।

“ঘটনার বিষয়ে জানতে পেরে দ্রুত দুই পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের শান্ত থাকতে বলি। সন্ধ্যার পর সবার সঙ্গে বসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব বলে তাদের জানিয়ে সাময়িকভাবে তাদের শান্ত করি। পরে সন্ধ্যায় স্থানীয় মুরুব্বিদের সাথে নিয়ে বসে তাদের মিটমাট করে দিই। যারা আবুল কাশেমকে মারধর করেছে তারা উনার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। সবাইকে বলেছি খেলা নিয়ে আর যেন কোন অপ্রীতিকর ঘটনা সৃষ্টি না হয় সে বিষয়ে সজাগ থাকতে।” 

জাহেদের ভাষ্য, খেলা নিয়ে পরবর্তীতে আর কোন উত্তেজনা হলে এবং পরিস্থিতির অবনতি হলে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী তখন ব্যবস্থা নেবে বলে দুই পক্ষকে বৈঠকে হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।