Published : 12 Aug 2025, 06:36 PM
ফিশিং বোটে ‘নিষিদ্ধ ট্রলিং’ সরঞ্জাম স্থাপনের এক ভারতীয় কারিগরসহ চারজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার শেখেরখিল এলাকায় সোমবার গভীর রাতে সেনাবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের যৌথ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার চারজন হলেন- বরগুনা জেলার বাসিন্দা অমল চন্দ্র (৪৫), মোংলার বাসিন্দা নাথন বিশ্বাস (৬০), সাতক্ষীরা বাসিন্দা আকাশ বিশ্বাস (৩৫)। গ্রেপ্তার অপর জনের নাম পণ্ডিত বিশ্বাস (৩৮)।
পণ্ডিত বিশ্বাস ট্রলিং জাল তৈরির অন্যতম কারিগর জানিয়ে কোস্ট গার্ড বলছে, পণ্ডিত ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার বাসিন্দা।
মঙ্গলবার কোস্ট গার্ডের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শেখেরখীল এলাকার একটি গুদামে ফিশিং বোটের নিষিদ্ধ ‘আর্টিসনাল ট্রলিং সরঞ্জাম’ তৈরির কাজ চলছে- এমন খবর পেয়ে সেনাবাহিনীসহ যৌথ অভিযানে যায় কোস্ট গার্ড।
“অভিযানে ট্রলিং জাল তৈরির সময় সাতটি অবৈধ ট্রলিং জাল ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।”
কাঠের তৈরি মাছ ধরার বোটে ট্রলিং সরঞ্জাম ও ছোট ফাঁসের ‘বেহুন্দি জাল’ স্থাপন করে ‘ট্রলিং ট্রলারে’ রূপান্তর করা হয়। এতে করে সাগরে মাছ ধরার সময় প্রবাল, সামুদ্রিক গাছপালা ও পোনামাছ ধ্বংস হয়ে যায়। এতে সাগরের ইকোসিস্টেমের ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং বঙ্গোপসাগরে মাছের শূন্যতার শঙ্কা রয়েছে।
গুদাম মালিক মান্নান মিয়ার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পণ্ডিত বিশ্বাসের ভারতীয় পাসপোর্ট জব্দ করা হয় জানিয়ে কোস্ট গার্ড বলছে, পণ্ডিত দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি ট্রলারে নিষিদ্ধ আর্টিসনাল ট্রলিং সরঞ্জাম স্থাপন করে আসছিলেন।
গত ২ মে পণ্ডিত বিশ্বাস সাতক্ষীরা ভোমরা স্থল বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। প্রথমে বরগুনার পাথরঘাটা এলাকায় অবস্থান করে ২৫ জুলাই তিনি বাঁশাখালীতে আসেন এবং বিভিন্ন ফিশিং বোটে ট্রলিং সরঞ্জাম স্থাপনের কাজ করেন।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে পণ্ডিত নিয়মিত বাংলাদেশে যাতায়াত করেন বলে ভাষ্য কোস্ট গার্ডের। অভিযানে গুদাম থেকে ৩৪টি ইয়াবা, গাঁজা ও নগদ টাকা জব্দ করা হয়।