Published : 07 Jan 2026, 10:20 PM
চট্টগ্রাম মহানগরের একটি হাসপাতালে ‘খতনা’ করাতে গিয়ে সাত বছরের শিশু মোহাম্মদ মোস্তফার মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি করেছে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়।
ডেপুটি সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ত্যৌহিদুল আনোয়ারকে প্রধান করে বুধবার ওই কমিটি করা হয়েছে।
সিভিল র্সাজন জাহাঙ্গীর আলম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, কমিটিকে সাত কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
‘খতনা’ করাতে শনিবার সকালে চট্টগ্রাম মহানগরীর বহদ্দারহাট এক কিলোমিটার এলাকার সেইফ আইডিয়েল হেলথ কেয়ার লিমিটেডে ভর্তি করা হয় শিশু মোস্তফাকে।
তার বাবা মোহাম্মদ আবু মুসা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সকালে ভর্তি করানোর পর আমার ছেলেকে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। সেখানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ জুনাইদ চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে অপারেশন হয়।”
তিনি বলেন, “সন্ধ্যায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলে, আমার ছেলেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে চমেকে নিয়ে যায় এবং সেখানকার আইসিইউতে ভর্তি করানো হয়। রাতের ১০টার দিকে জানানো হয় আমার ছেলে মারা গেছে। হাসপাতালের ডেথ সার্টিফিকেটে মৃত্যুর কারণ হিসেবে ‘হার্ট অ্যাটাকের’ কথা লেখা আছে।”
ঘটনাটি শনিবারের হলেও বিষয়টি সামাজিক যোগায়োগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে মঙ্গলবার।
এ ঘটনা নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের প্রধান হারুনুর রশীদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “শিশুটিকে আনার পরপরই লাইফ সাপোর্টে দেওয়া হয় এবং মারা যায়। কী সমস্যা হয়েছিল সেটা যারা অপারেশন করেছেন, তারাই বলতে পারবেন।”
এ বিষয়ে সেইফ আইডিয়েল হেলথ কেয়ার লিমিটেডের বক্তব্য জানতে পারেনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
শিশুটির বাবা মুসা বলেন, “আমার ছেলের প্রশ্রাবের রাস্তায় সমস্যা ছিল। সেটি অপারেশন করানোর জন্য নিয়ে গিয়েছিলাম, সঙ্গে খতনাও করানোর কথা ছিল।
“আমার ছেলে মারা গেছে, আমার সব শেষ হয়ে গেছে। আল্লাহর ইচ্ছা ছিল, তাই সে মারা গেছে। আমার কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নাই।”
‘আক্ষেপ করে’ তিনি বলেন, এ ঘটনায় তিনি কোনো মামলাও করবেন না।