Published : 18 May 2026, 08:33 PM
চট্টগ্রাম নগরীর টাইগার পাস মোড়ে দুপুরে জুলাই আন্দোলনের ‘গ্রাফিতি’ আঁকা নিয়ে কিছু ‘শিক্ষার্থীর’ সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি ও আটকের ঘটনার পর রাতে আবার নগরীতে ‘গ্রাফিতি’ আঁকার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগরের নেতারা।
সোমবার বিকালে নগরীর ষোলশহর স্টেশনে এক সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মহানগরের সদস্য সচিব আরিফ মঈনুদ্দীন বলেন, “রাত ৮টায় টাইগার পাস মোড়ে এবং আগামীকাল (মঙ্গলবার) শহর জুড়ে গ্রাফিতি আঁকা হবে।”
এদিকে ‘গ্রাফিতি’ মুছে ফেলা নিয়ে এনসিপি ও ছাত্রদলের মধ্যে রোববার রাতে উত্তেজনার পর টাইগার পাস সড়কে সব ধরনের মিছিল-মিটিংয়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে নগর পুলিশ যে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল, তা সোমবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
মেয়রের প্রটোকল সহকারী সাইফুল করিম জানান, সন্ধ্যা ৭টায় সিটি করপোরেশনের প্রধান ফটক থেকে মেয়র শাহাদাত হোসেন গ্রাফিতি আঁকার উদ্বোধন করবেন।
চট্টগ্রাম নগরীর টাইগার পাস এলাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কয়েকটি পিলারে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সম্প্রতি হলুদ ও সাদা রঙ করা হয়, যেগুলোতে জুলাই আন্দোলনের ‘গ্রাফিতি’ ছিল।
জুলাই আন্দোলনের গ্রাফিতি সিটি করপোরেশনের নির্দেশে মুছে ফেলা হয়েছে এমন অভিযোগে রোববার সন্ধ্যার পর প্রতিবাদে নামেন এনসিপি নেতাকর্মীরা। এ সময় বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল নেতাকর্মীরাও রাস্তায় নেমে আসলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
এরমধ্যে সোমবার সকাল থেকে জিইসি থেকে দেওয়ানহাট পর্যন্ত সড়কে সব ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয় নগর পুলিশের পক্ষ থেকে। তবে দুপুরে এক দল ‘শিক্ষার্থী’ মুছে ফেলা পিলারগুলোতে ‘গ্রাফিতি’ আঁকার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।
একপর্যায়ে পুলিশ ৩ জনকে আটক করলেও শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মুখে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি নেতা আরিফ মঈনুদ্দীন বলেন, “সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন টাকার জন্য জুলাই গ্রাফিতি মুছে ফেলেছেন। ‘কনটাক্ট ফর অ্যাড’ লেখা হয়েছে।
“উনি গতকাল থেকে নাটক করছেন। উনি বলেছেন ছাত্রদলকে দিয়ে গ্রাফিতি করানো হবে। কিন্তু ‘কন্টাক্ট ফর অ্যাড’ লেখাটা এখনো রয়ে গেছে। উনি মিথ্যা বলছেন। মুছলে আবার করে ফেলতেন। বিজ্ঞাপনের জন্য উনি এটা করেছেন।”
এর আগে রোববার রাতে এনসিপি ও ছাত্রদল-যুবদল নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনার পর সোমবার সকাল ১০টায় টাইগার পাস থেকে লালখান বাজারমুখী সড়কের পাশে দেয়ালে গ্রাফিতি আঁকার কর্মসূচি দিয়েছিল সিটি করপোরেশন।
সকালে আর এই কর্মসূচি হয়নি। তবে বেলা ১১টার দিকে টাইগার পাস থেকে আমবাগানমুখী সড়কে অবস্থিত অস্থায়ী নগর ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেন মেয়র শাহাদাত হোসেন।
‘গ্রাফিতি’ মোছার জন্য মেয়রকে দায়ী করে আরিফ মঈনুদ্দীন বলেন, “উনি বলেছেন সামনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমরা রাজনীতি করছি। রাজনীতি উনি শুরু করেছেন। গ্রাফিতি কি আমরা মুছেছি? আমরা কি লাগিয়েছি ‘কন্টাক্ট ফর অ্যাড’? উনি যদি দুপুরের মধ্যে আবার আঁকা শুরু করতেন, তাহলে তো আমরা রাজনীতি করার সুযোগ পেতাম না।”
সকালের ঘটনা নিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের বাধা দেওয়ার পর আমরা বলেছি জনগণ নেমে যান, তখন কিছু শিক্ষার্থী নিজেদের সচেতন জায়গা থেকে সতস্ফূর্তভাবে এখানে এসেছিল। সেখানে আমাদের মাত্র একজন সমর্থক ছিল। অন্যরা আমাদের পার্টির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত না। সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ করার জন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছিল। গ্রাফিতি আঁকার জন্য করেনি। কিন্তু সেটাতে কেনো বাধা দেবে?”
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরের আহ্বায়ক মীর মোহাম্মদ শোয়াইব বক্তব্য দেন।
পুরনো খবর
চট্টগ্রামে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে গ্রাফিতি আঁকার চেষ্টা, শিক্ষার্থী