Published : 09 May 2026, 04:36 PM
বাসা থেকে বের হয়েছিল পান কিনতে; এখন চোখে গুলি নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে শুয়ে আছে ১১ বছরের রেশমী।
চিকিৎসকরা বলেছেন, “জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে শিশুটি। তার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ কাজ করছে না।”
বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার রৌফাবাদ শহীদ মিনার গলিতে দুর্বৃত্তদের ছোঁড়া গুলিতে খুন হয় রাজু নামে এক যুবক। আহত হয় সেখানকার রেশমী আক্তার।
শনিবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, নিচ তলায় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) কাছে মাদুর পেতে বসে আছেন তার বড় ভাই ফয়সাল আহমেদ। সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রীসহ আরও কয়েকজন স্বজন ও প্রতিবেশী।
সাংবাদিক পরিচয় শুনে বলে উঠলেন, “নিউজ করে কী হবে? আমার বোনের অবস্থা ভালো না। চিকিৎসকরা বলেছেন, যেকোনো সময় যেকোনো কিছু হয়ে যেতে পারে।”
ফয়সাল বলেন, “আমরা দুই ভাই, তিন বোন। বড় ভাই গার্মেন্টে চাকরি করেন, আমি আছি একটা মুদি দোকানে। এক বোনের বিয়ে হয়েছে। আর দুই জনের মধ্যে রেশমী সবার ছোট। বায়েজিদ পাহাড়িকা আবাসিক এলাকায় ‘ব্যারিস্টার মিল্কী মেমোরিয়াল স্কুলে’ চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে সে।”
তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে রেশমী বাসা থেকে পান কিনতে দোকানে যাচ্ছিল। এসময় হঠাৎ করে কয়েকটি চালায় মাস্ক পরা কিছু লোক। একটি গুলি রেশমীর বাঁ চোখে লাগে।
“সেদিন এখানে (চমেক) আনার পর আইসিইউতে জায়গা পাইনি। বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম। সেখানে রেখে চিকিৎসা করানোর সামর্থতো আমাদের নেই। তাই আবার গতকাল (শুক্রবার) এখানে নিয়ে এসেছি। এখানে আইসিইউতে রাখা হয়েছে।”
বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি আবদুল করিম জানান, দুর্বৃত্তরা গলিতে প্রবেশ করেই এলোপাথারি গুলি শুরু করে। তার একটি গুলি শিশুটির চোখে লেগেছে।
ঘটনার সময় বাসায় ছিলেন ফয়সালের স্ত্রী তাসিলাম আক্তার।
তিনি বলেন, “বাসার গলির মুখেই দোকান। সে বের হওয়ার পরপরই গুলির শব্দ শোনা যায়। একটি গুলি গিয়ে তার চোখে লাগে। চোখ দিয়ে ব্রেন বের হয়ে আসতেছে। ডাক্তার বলে দিয়েছে তাকে সুস্থ করা যাবে না। অপারেশনও করতে পারেনি। তার চোখের ভেতর গুলি রয়ে গেছে।”
তাসলিমা বলেন, “আমার শ্বশুর পঙ্গু মানুষ। তার দুই পা বাঁকা, খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাটেন। রৌফাবাদে রাস্তার মুখে ভ্যানে শাক বিক্রি করেন।”
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আইসিইউ’র প্রধান অধ্যাপক বাকী বিল্লাহ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “শিশুটির অবস্থা খুব খারাপ। মেডিকেল বোর্ড করা হয়েছে। তার মাল্টি অর্গান ফেইলর, গুলি চোখের ভেতর দিয়ে ঢুকে গেছে, সেখান থেকে ‘ব্রেন মেটার’ বের হচ্ছে। তাকে বিভিন্ন সাপোর্ট দিয়ে রাখা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “এ পরিস্থিতিতে শিশুটির অপারেশন করা যাবে না। তার হার্ট , ফুসফুস সবকিছু সাপোর্ট দিয়ে চালিয়ে রাখা হচ্ছে।”
ঘটনার পরপর নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, নিহত রাজুর বাড়ি রাউজান উপজেলায়। তিনি কয়েকদিন আগে বোনের বাসায় বেড়াতে এসেছিলেন।
রাউজানের কোনো বিরোধে রাজু খুন হতে পারেন বলে ধারণা পুলিশের।
এদিকে ঘটনার দুইদিনেও মামলায় হয়নি রাজু হত্যার। বায়েজিদ থানার ওসি আবদুল করিম জানান, দুপুরে নিহত রাজুর পরিবার থানায় এসেছে। তারা মামলা করবেন।
আরো পড়ুন