Published : 17 Mar 2026, 11:48 PM
কক্সবাজারের টেকনাফের পাহাড়ি এলাকা থেকে দুই কিশোরকে উদ্ধারের পর পুলিশ বলছে, তাদের মালয়েশিয়া ‘পাচার’ করা হয়েছিল। অভিযানের মুখে তাদের সেখান থেকে ‘ফেরত’ পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার টেকনাফের বড়ইতলী এলাকার পাহাড় থেকে তিন রোহিঙ্গাকে গ্রেপ্তারের পর দুই কিশোরকে উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশের দাবি।
রাতে তাদের চট্টগ্রামে এনে নগরীর চান্দগাঁও থানায় সংবাদ সম্মেলনে আসেন নগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আমিনুল ইসলাম।
তিনি জানান, গত ১ ফেব্রুয়ারি নগরীর চান্দগাঁও থানার মৌলভী পুকুরপাড় এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় দুই কিশোর। এ ঘটনায় প্রথমে চান্দগাঁও থানায় নিখোঁজের ডায়েরি করা হয়। পরে ২৬ ফেব্রুয়ারি মানব পাচার আইনে মামলা করেন নিখোঁজ এক কিশোরের বাবা।
এ মামলার তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ প্রথমে চট্টগ্রাম থেকে দুইজন এবং পরে চাঁদপুরের মতলব থেকে মামুন ও কক্সবাজারের উখিয়া থেকে মোস্তফা নামে আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করে।
তাদের মধ্যে মোস্তফা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর তদন্ত করে তাদের উদ্ধার করা হয় বলে উপকমিশনার আমিনুল বলেছেন।
পুলিশ জানায়, আসামী মোস্তফা ‘মালয়েশিয়ায় শিশু পাচারকারী চক্রের’ সদস্য। তার জবানবন্দির পর কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান চালানো হয়।
পুলিশের দাবি, তাদের চাপের কারণে দুই কিশোরকে মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে ‘ফেরত’ পাঠানো হয়। মঙ্গলবার সকালে টেকনাফ উপজেলার বড়ইতলী পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে সাব মিয়া (৩৫), শাহ আলম (৩৫), মোহাম্মদ হোসেন (৪১) নামে তিন রোহিঙ্গাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের হেফাজত থেকে দুই কিশোরকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম নিয়ে আসা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চান্দগাঁও থানার এসআই জায়েদ আব্দুল্লাহ বিন ছরওয়ার বলেন, দুই কিশোরকে টেকনাফে নিয়ে ৬/৭ দিন পাহাড়ের আস্তানায় আটকে রাখা হয়। পরে সেখানে থেকে ট্রলারে মালয়েশিয়া নেওয়া হয়।
তিনি বলেছেন, এই চক্রে বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের অপরাধীদের সঙ্গে রোহিঙ্গারা জড়িত।
দুই কিশোর সাংবাদিকদের বলেছেন, গ্রেপ্তার মোস্তফা ও মামুন তাদের এক বন্ধুর পরিচিত। তারা বেড়ানোর কথা বলে তাদেরকে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে তাদের ‘মালয়েশিয়ার দালালের’ হাতে তুলে দেওয়া হয়।
তারা বলেছে, তাদের আটকে রেখে মারধর করা হতো এবং পরিবারের কাছে টাকা দাবি করা হতো।
দুই কিশোরের শরীরে আঘাতে চিহ্ন দেখা গেছে।