Published : 16 Aug 2025, 02:39 PM
শ্রীকৃষ্ণের জন্ম তিথিতে চট্টগ্রাম নগরীতে জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্প্রীতির আহ্বান এসেছে।
শনিবার সকালে নগরীর আন্দরকিল্লা মোড়ে এই অনুষ্ঠান শেষে শোভযাত্রা শুরু হয়। যা নগরীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে জে এম সেন হল প্রাঙ্গনে গিয়ে শেষ হয়। তবে এবার শোভাযাত্রায় লোক সমাগম অন্যান্য বছরের তুলনায় কম দেখা গেছে।
জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির আয়োজনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বলেন, “আজ থেকে যে কয়দিন জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠান উদযাপিত হবে, আমি একান্তভাবে কামনা করি চট্টগ্রামের সব সম্প্রদায়ের মানুষ সম্মিলিতভাবে সম্পৃক্ত থেকে আমাদের আগামীর অগ্রযাত্রাকে শক্তি এবং সাহস যোগাবে।
“যে সমস্ত দাবি এখানে উত্থাপন করা হয়েছে, আশা করছি আগামী দিনের যে নির্বাচিত সরকার আসবে তারা আপনাদেরই সরকার হবে। আপনাদের দাবি পূরণে তারা কাজ করবে।”
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, প্রায় ৫ হাজার ২শ বছর আগে ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। তার জন্মতিথিকেই জন্মাষ্টমী হিসেবে পালন করে থাকেন অনুসারীরা।

প্রেম, সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা, দুষ্টের দমন এবং শিষ্টের পালনেই শ্রীকৃষ্ণ অবতাররূপে পৃথিবীতে আবির্ভূত হন বলে ভক্তদের বিশ্বাস।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, “সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই। এই কথাটা যেন আমরা ধারণ করি, লালন করি এবং নিজের জীবনে সেটাকে আমরা যেন পালন করি। এই দেশ হিন্দুর, এই দেশ খ্রিস্টানের, এই দেশ বৌদ্ধের, এই দেশ মুসলমানের। আমার যেটুকু অংশ আমার প্রতিটি ভাইয়ের অংশ ঠিক ততটুকু।
“এই কথাটা যদি আমরা স্মরণ রাখি তাহলে যে সোনার বাংলাদেশের স্বপ্ন আমরা দেখি সেই বাংলাদেশকে অর্জন করতে পারব।”
শোভাযাত্রা উদ্বোধক ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন। আর্শীবাদক ছিলেন পটিয়া পাচুরিয়া তপোবন আশ্রমের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ রবীশ্বরানন্দ পুরী মহারাজ। আরেক বিশেষ অতিথি ছিলেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি দীপক কুমার পালিত।

অনুষ্ঠান শেষে বেলুন উড়িয়ে শোভযাত্রা উদ্বোধন করেন অতিথিরা। এরপর বিভিন্ন যানবাহনে নানা রঙে ও সাজে সজ্জিত ভক্তদের অংশগ্রহণে শুরু হয় জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রা।।
ঢাক-ঢোলসহ নানা বাদ্যযন্ত্রের তালে নেচে গেয়ে ভক্তরা শোভাযাত্রায় অংশ নেয়। শোভাযাত্রাটি আন্দরকিল্লা মোড় থেকে শুরু হয়ে লালদীঘি মোড়, নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন সড়ক ঘুরে জে এম সেন হলে গিয়ে শেষ হয়।
এরপর দুপুরে জে এম সেন হল প্রাঙ্গনে মাতৃ সম্মেলন শুরু হয়। একই জায়গায় বিকালে ধর্ম মহাসম্মেলন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুররী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
রোববার এবং পরদিন সোমবার চলবে ষোড়শপ্রহরব্যাপী মহানাম সংকীর্ত্তন। প্রতিদিন দুপুর ও রাতে ভক্তদের মাঝে বিতরণ করা হবে মহাপ্রসাদ।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, প্রায় ৫ হাজার ২শ বছর আগে ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। তার জন্মতিথিকেই জন্মাষ্টমী হিসেবে পালন করে থাকেন অনুসারীরা।
প্রেম, সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা, দুষ্টের দমন এবং শিষ্টের পালনেই শ্রীকৃষ্ণ অবতাররূপে পৃথিবীতে আবির্ভূত হন বলে ভক্তদের বিশ্বাস।
সনাতন ধর্মালম্বীদের বিশ্বাস জন্মাষ্টমী ব্রত (উপবাস) পালনে সমস্ত পাপমোচন ও পূণ্যলাভ হয়। যারা নিয়মিত এ ব্রত পালন করেন, তাদের সৌভাগ্য, আরোগ্য ও সন্তান লাভ হয়। এছাড়া পরকালে স্বর্গপ্রাপ্তি নিশ্চিত হয়।