Published : 16 Jul 2026, 04:48 PM
নীলফামারীর ডিমলায় বিয়ের মাত্র একদিন পর এক মুয়াজ্জিনের ঝুলন্ত মরদেহ মসজিদ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহ দেখে অসুস্থ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন তার বৃদ্ধ মামা।
বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাকড়া চৌপতি মুনাগাছা বায়তুন নূর জামে মসজিদের ভেতর থেকে মুয়াজ্জিনের মরদেহটি উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন ডিমলা থানার ওসি শওকত আলী সরকার।
মারা যাওয়া মো. আব্দুল মালেক (২৫) মুনাগাছা গ্রামের মৃত নুরুল হকের ছেলে। তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট ছিল মালেক। তাদের বাবা-মা দুইজনেই মারা গেছেন।
মালেক চলমান আলিম পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিলেন। পাশাপাশি পাঁচ বছর ধরে মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে করছিলেন। এর মধ্যে মঙ্গলবার একই গ্রামের জিকরুল হোসেনের মেয়ের সঙ্গে মালেকের বিয়ের কাবিন হয়।
ওই এলাকার বাসিন্দা মো. জলিল উদ্দিন বলেন, রাতে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা নিয়ে সবাই ছিল ব্যস্ত। এর মধ্যেই রাত দেড়টার দিকে খবর আসে মসজিদের ভেতরে মুয়াজ্জিনের ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া গিয়েছে। পরে ডিমলা থানায় খবর দেয়া হলে রাত ৩টা দিকে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
আরেক বাসিন্দা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, বুধবার এশার সময়ও মালেক আযান দিয়েছিল, পরে সবার সঙ্গে নামাজও আদায় করেছিল। রাতে মসজিদের ভিতরে সে কখন গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে তা নিশ্চিতভাবে কেউ বলতে পারেনি।
ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একরামুল হক চৌধুরী বলেন, আব্দুল মালেক ছিলেন ধর্মপ্রাণ ও ভদ্র প্রকৃতির মানুষ। এলাকার সকলের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক ছিল তার। রাতে ভাগ্নের লাশ দেখে অসুস্থ হয়ে পড়েন তার বৃদ্ধ মামা আহিদুল ইসলাম (৬৫)। পরে হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনিও মারা যান।
তিনি আরও বলেন, “বিয়ের মাত্র একদিন পর এমন মর্মান্তিক ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। একই সঙ্গে ভাগনের মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে তার মামার মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।”
তবে মুয়াজ্জিনের মৃত্যুকে এলাকাবাসী ‘রহস্যজনক’ বলে মনে করছে জানিয়ে এই জনপ্রতিনিধি বলেন, “কারণ তার গলায় দড়ি লাগানো থাকলেও তার পা মেঝের সঙ্গে সমান ছিল। দূর থেকে দেখে মনে হচ্ছিল সে দাঁড়িয়ে আছে।”
নিহতরে বড় ভাই মো. রাজ্জাকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “আমার ছোট ভাইয়ের আগের দিন (মঙ্গলবার) রাতে তার বিয়ে হলো, আর পরের দিন (বুধবার) রাতে তার মৃত্যু হলো, এটি একটি রহস্যজনক ঘটনা। আমি এটির সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচারের দাবি করছি পুলিশের কাছে।“
এবিষয়ে ডিমলা থানার ওসি শওকত আলী সরকার বলেন, মুয়াজ্জিন আব্দুল মালেকের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।