Published : 30 Dec 2025, 03:41 PM
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে চট্টগ্রাম নগরীর নাসিমন ভবনে শোকের ছায়া নেমেছে।
মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর নূর আহমদ সড়কের ওই ভবনে নগর বিএনপির কার্যালয়ে জড়ো হন নেতাকর্মীরা।
সেখানে খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন বিএনপি, যুবদল, মহিলা দল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী ও অনুসারীরা।
এসময় উপস্থিত সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “আজকে বাংলাদেশের মানুষ খাঁটি দেশপ্রেমিক নেত্রীকে হারিয়েছি। উনি শুধু বিএনপির নেত্রী নন; তিনি ছিলেন বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের নেত্রী। দেশে যখনই কোনো দুর্যোগ হয়েছে, তখনই তিনি মানুষের কাছে ছুটে গেছেন।
“উনি দেশের মানুষের কথা সারাজীবন চিন্তা করেছেন। বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি আজীবন দেশের মানুষের ভোটের অধিকার, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য আপোষহীন সংগ্রাম করে গেছেন। তিনি দীর্ঘদিন দেশ ও জাতির জন্য নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং গণতন্ত্র, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।”
চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সাবেক এ সভাপতি বলেন, “এক গভীর রাজনৈতিক সংকট ও অনিশ্চয়তার সময়ে নেতৃত্বের ভার কাঁধে নিয়ে তিনি জনগণকে সংগঠিত করেন এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় আপসহীন অবস্থান গ্রহণ করেন।
“উনার এই নেতৃত্ব বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও অনুপ্রেরণামূলক অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে।”
৪০ দিন ধরে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়াকে মঙ্গলবার ভোর ৬টায় মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ‘আপসহীন নেত্রী’ অভিধা পাওয়া খালেদা জিয়া বিএনপির নেতৃত্ব দিয়েছেন ৪১ বছর। তিনি পাঁচবারের সংসদ সদস্য, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, আর বিরোধী দলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেছেন দুইবার।
নগর বিএনপির নেতা আবুল হাশেম বক্কর বলেন, “নেত্রী আমাদের শিখিয়ে গেছেন- আপসহীনতা। উনি যে আদর্শ রেখে গেছেন, তা আমরা পালন করব। সামনে নির্বাচনের এক কঠিন সময়। উনাকে খুব বেশি যখন প্রয়োজন, তখনই তিনি বিদায় নিলেন।
“কোনো স্বৈরাচারের সাথে, কোনো শক্তির সাথে তিনি আপস করেননি। হাজার বছর ধরে তিনি মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন।”
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিএনপি সাত দিনব্যাপী শোক কর্মসূচি পালন করবে বলে জানান তিনি।
চট্টগ্রাম-৯ আসনের বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ান বলেন, “গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন নেত্রী। উনাকে হারিয়ে আমরা আজ দিশেহারা। উনার স্বপ্নের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় আমরা কাজ করে যাব।

“আগামীর বাংলাদেশে বেগম খালেদা জিয়া চিরকাল প্রাসঙ্গিক থাকবেন। গণতন্ত্রের ইতিহাসে উনার যে অবদান তা মানুষের হৃদয়ে তিনি চির জাগরুক হয়ে থাকবে।”
নগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন দিপ্তী বলেন, “আমাদের নেত্রীর দেশপ্রেম অতুলনীয়। তিনি ছিলেন আপোসহীন নেত্রী। উনি সারাটা জীবন দেশের মানুষের জন্য উৎসর্গ করেছেন। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য তিনি লড়াই করেছেন।
“উনি বলেছেন, এই দেশই আমার একমাত্র ঠিকানা। তিনি নিজের কথা রেখেছেন। উনার আদর্শ ধারণ করে গণতন্ত্রের পথে আমরা এগিয়ে যেতে চাই। দেশের আজ যে ক্রান্তিকাল চলছে তাতে উনার আদর্শ ধারণ করে আমরা কাজ করব।”
উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, “নেত্রীর মৃত্যু অপূরণীয় ক্ষতি। চট্টগ্রামে ফ্যাসিবাদীরা নুরুল আলম নুরুকে হত্যা করেছিল। সেই ঘটনা আমি নেত্রীর সাথে দেখা করে জানিয়েছিলাম। তিনি সেদিন বিমর্ষ হয়ে পড়েন। নুরুর পরিবারকে তিনি ৩৫ লাখ টাকা দিয়েছিলেন।
“উনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ফ্যাসিস্টের পতন হয়েছে। উনার নেতৃত্বেই গণতন্ত্রে উত্তরণ হবে মনে করেছিলাম। সেটা আর হলো না।”
নাসিমন ভবন প্রাঙ্গনে নগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জি এম সালাউদ্দিন কাদের আসাদ বলেন, “দেশনেত্রী কোনো দিন দেশ ছেড়ে যাননি। তিনি ছিলেন আপসহীন। বাংলাদেশে গণতন্ত্রের লড়াইয়ে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন অবিসংবাদিত।
“২০১৮ সালের পর থেকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক ভাবে তাকে কারাগারে রেখে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে।”
নাসিমন ভবন প্রাঙ্গণে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। দলের নেতাকর্মীরা বুধবার ঢাকায় অনুষ্ঠেয় খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।