Published : 02 Apr 2026, 10:07 PM
চট্টগ্রামের সম্মিলিত পহেলা বৈশাখ উদযাপন এবারও ডিসি হিলে হচ্ছে না। এর পরিবর্তে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে করার কথা বলছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ।
গত বছর ডিসি হিলে হামলার কারণে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের প্রায় পাঁচ দশকের রেওয়াজ ভাঙে। সেবার ডিসি হিলে নববর্ষ উদযাপন করতে পারেনি সম্মিলিত পহেলা বৈশাখ উদযাপন পরিষদ। এ বছরও ওই আয়োজনে ডিসি হিলে হচ্ছে না।
বৃহস্পতিবার বিকালে চট্টগ্রামের থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বাংলা সন ১৪৩৩ বরণ সংক্রান্ত প্রস্তুতি সভা করেছে পহেলা বৈশাখ উদযাপন পরিষদ।
পরিষদের সদস্য সচিব মোহাম্মদ আলী টিটো বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “১৯৭৮ সাল থেকে ডিসি হিলে আমরা বর্ষবরণ ও বর্ষবিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকি। গত বছর আমরা সব আয়োজন করেও অনুষ্ঠান করতে পারিনি।
“প্রতি বছর ডিসি হিলে অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়ে অবহিত করে আমরা জেলা প্রশাসক বরাবরে চিঠি দিয়ে থাকি। এবারও চিঠি দিয়েছিলাম। প্রতিবারের মত প্রশাসনের সঙ্গে এবার ২৮ মার্চ প্রস্তুতি সভাও আয়োজন করা হয়। কিন্তু সেখানে প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা জানালেন, ডিসি হিলে তারা পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান আয়োজন করবেন।”
টিটো বলেন, সম্মিলিত পহেলা বৈশাখ উদযাপন পরিষদ চট্টগ্রামের সর্বস্তরের সংস্কৃতিকর্মীদের আয়োজন। ১৯৭৮ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে আমরা ডিসি হিলে পহেলা বৈশাখের আয়োজন শুরু করেছিলাম।
“এরপর থেকে প্রতি বছরের আয়োজনে বিভিন্ন মন্ত্রী, মেয়র, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জেলা প্রশাসকসহ সরকারি কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেছেন এবং সহযোগিতা করেছেন। কিন্তু কেউ কখনো আয়োজনে হস্তক্ষেপ করেননি।”
এবার কেন ডিসি হিলে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না সেটি জানাতে আগামী সপ্তাহে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে বলে জানান টিটো।
বৃহস্পতিবারের প্রস্তুতি সভায় পরিষদের সমন্বয়ক সুচরিত দাশ খোকন বলেন, “চট্টগ্রামের সকল সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিল্পীদের উদ্যোগে ১৯৭৮ সালে প্রথম সম্মিলিত পহেলা বৈশাখ উদযাপন পরিষদ চট্টগ্রাম ডিসি হিলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সাল (বাংলা ১৪৩১) পর্যন্ত আমরা একইস্থানে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করেছি।
“চট্টগ্রামসহ দেশের হাজার হাজার মানুষ এই আয়োজনে প্রতিবছর অংশ নিয়ে থাকে। কিন্তু এবার নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে ডিসি হিলে আয়োজন সম্ভব হচ্ছে না। এ বিষয়ে পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলন করে আমরা বিস্তারিত জানাব। তবে আমাদের বর্ষবরণের আয়োজন অব্যাহত থাকবে। তাই চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আমরা এই আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
প্রস্তুতি সভার বিষয়ে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরিষদের সকল সম্মানিত সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে এবারের বর্ষবরণ আয়োজন করা হচ্ছে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে।
প্রস্তুতি সভায় বর্ষবরণের এক দিনের আয়োজন নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন পরিষদের সদস্যরা। সবার সিদ্ধান্তে অনুষ্ঠানের সূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে। ১৪ এপ্রিল ভোর ৬টা থেকে অনুষ্ঠান শুরু হবে, চলবে সেদিন সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত।
প্রস্তুতি সভায় টিটো বলেন, “চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চট্টগ্রামের সকল আন্দোলন সংগ্রামের স্মৃতির স্মারক। শহীদ মিনার আমাদের চেতনার ভরকেন্দ্র। তাই এখানেই আমরা বর্ষবরণের আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
“চট্টগ্রামের সর্বস্তরের মানুষ সবসময় আমাদের সঙ্গে ছিলেন। আশা করি এবারও চট্টগ্রামের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ আমাদের বর্ষবরণ আয়োজনে উপস্থিত হয়ে ও অংশগ্রহণ কর এই আয়োজনকে সফল করবেন। সবাইকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।”
প্রস্তুতি সভায় সম্মিলিত পহেলা বৈশাখ উদযাপন পরিষদের সদস্য সুশান্ত মিত্র, গোলাম বাকি মাসুদ, অলোক ঘোষ পিন্টু, মিলি চৌধুরী, কমল দাশ, কঙ্কন দাশ, মাহবুবুল ইসলাম রাজীব, আবদুল হাদি, অরুণ চক্রবর্তী, প্রণব চৌধুরী, বিশ্বজিৎ পাল, এটিএম সাইফুর রহমান, নাজমা নিপা, সঞ্চিতা দত্ত বেবী, অলিউর রহমান, ফজল আমিন শাওন, মিশফাক রাসেল, শহীদুল করিম চৌধুরী মিন্টু, কে এম রাজীবসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
গত বছর ডিসি হিলে সম্মিলিত পহেলা বৈশাখ উদযাপন পরিষদকে বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু পহেলা বৈশাখের আগের রাতে হামলা চালিয়ে মঞ্চ ভাঙচুরের পর সেই অনুষ্ঠান আর হয়নি।
চট্টগ্রামে নতুন আঙ্গিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণের পর জাতীয় দিবস ছাড়া এই প্রথম কোনো সাংস্কৃতিক আয়োজন হতে যাচ্ছে এবারের বর্ষবরণের অনুষ্ঠান।