১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

চট্টগ্রামে জোড়া খুনে ছিলেন ৭ জন, গ্রেপ্তারের পর একজনের জবানবন্দি

ওসি ইখতিয়ার জানান, গভীর রাতে গ্রেপ্তার সজীব সোমবার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম মো. মোস্তফার আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

চট্টগ্রামে জোড়া খুনে ছিলেন ৭ জন, গ্রেপ্তারের পর একজনের জবানবন্দি
পুলিশ বলছে, হত্যকাণ্ডে কারা অংশ নিয়েছিলেন, তাদের নামও আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে বলেছেন সজীব।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 07 Apr 2025, 08:34 PM

Updated : 10 Sep 2026, 12:38 PM

চট্টগ্রামে ধাওয়া করে প্রাইভেট কার থামিয়ে গুলি চালিয়ে দুই জনকে খুনের ঘটনায় তিনটি মোটর সাইকেলে সাত জন অংশ নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। 

সোমবার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত একজনের আদালতে দেওয়া জবানবন্দির পর পুলিশ এ তথ্য জানায়। 

তবে তথ্যটি আরও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাকলিয়া থানার ওসি ইখতিয়ার উদ্দিন। 

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে ওসি বলেন, রোববার গভীর রাতে নগরীর সদরঘাট এলাকা থেকে মো. সজীব (২৯) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

“সোমবার সকালে তাকে নিয়ে অভিযান চালিয়ে ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর খাজা রাস্তার মাথা এলাকার একটি গ্যারেজ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটর সাইকেল উদ্ধার করা হয়।” 

এ নিয়ে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে উল্লেখ করে ওসি ইখতিয়ারের দাবি, তাদের মধ্যে দুজন ‘সরাসরি হত্যাকাণ্ডে’ অংশ নিয়েছিলেন এবং আরেকজন পরিকল্পনাকারী ছিলেন। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত তিনটি মোটর সাইকেলের দুইটি জব্দ করা হয়েছে। 

পুলিশের দাবি, সিসি ক্যামেরার ফুটেজে চেক শার্ট পরা মোটরসাইকেল আরোহীকে দেখা গেছে, তিনিই সজীব, যাকে রোববার গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দাবি, সিসি ক্যামেরার ফুটেজে চেক শার্ট পরা মোটরসাইকেল আরোহীকে দেখা গেছে, তিনিই সজীব, যাকে রোববার গ্রেপ্তার করা হয়।

ওসি ইখতিয়ার বলেন, গ্রেপ্তার সজীব সোমবার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম মো. মোস্তফার আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।   

জবানবন্দিতে সজীব বলেছেন, তিনটি মোটর সাইকেলে করে তারা ৭ জন সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছিলেন। দুইটি মোটর সাইকেলে দুই জন করে এবং একটিতে তিন জন ছিলেন। 

কারা অংশ নিয়েছিল তাদের নামও জানিয়েছেন সজীব। 

বেলাল ও মানিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে আছেন এবং জবানবন্দিতে দেওয়া সজীবের তথ্যগুলো যাচাই করা হচ্ছে বলে জানান ওসি। 

গত ৩০ মার্চ ভোর রাতে নগরীর চকবাজার চন্দনপুরা এলাকায় ধাওয়া করে প্রাইভেট কারে গুলি করে দুই জনকে হত্যা করা হয়। আহত হন আরও দুই জন।

নিহতরা হলেন- বখতেয়ার হোসেন মানিক ও মো. আব্দুল্লাহ। তাদের বয়স ৩০ থেকে ৩৬ এর মধ্যে। আহতরা হলেন- রবিন ও হৃদয়।

হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পর ১ এপ্রিল সন্ধ্যায় সাতজনের নাম দিয়ে নগরীর বাকলিয়া থানায় মামলা করেন নিহত বখতেয়ার উদ্দিন মানিকের মা ফিরোজা বেগম। 

তিনি অভিযোগ করেন, কারাগারে থাকা ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ ছোট সাজ্জাদ ও তার স্ত্রীর 'পরিকল্পনায়' খুনের ওই ঘটনা ঘটে। 

মামলায় সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ ও তার স্ত্রী শারমিন আক্তার তামান্নার পাশাপাশি মো. হাসান, মোবারক হোসেন ইমন, রায়হান ও বোরহানসেহ সাত জনকে আসামি করা হয়।

এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার নগরীর চান্দগাঁও খাজা রোড ও ফটিকছড়ির কাঞ্চন নগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে বেলাল ও মানিক নামে দুই জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। 

কারাগারে থাকা ছোট সাজ্জাদকেও পুলিশ এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে। 

সিসি ক্যামেরার ফুটেজে সজীবকে কোমর থেকে অস্ত্র বের করে আরেকজনের হাতে দিতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সিসি ক্যামেরার ফুটেজে সজীবকে কোমর থেকে অস্ত্র বের করে আরেকজনের হাতে দিতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ওসি ইখতিয়ার বলেন, “সজীবসহ গ্রেপ্তার তিন জন এজাহার নামীয় আসামি না হলেও তদন্তে তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে একটি মোটর সাইকেল চালিয়েছিলেন সজীব, আরেকটি চালিয়েছিলেন বেলাল।”

পুলিশের দাবি, ঘটনার দিন ফুলহাতা চেক শার্ট পরিহিত সজীব মোটর সাইকেল চালিয়েছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজে সজীবকে ঘটনাস্থলে কোমর থেকে অস্ত্র বের করে আরেকজনের হাতে দিতে দেখা গেছে।

আরও পড়ুন:

চট্টগ্রামে জোড়া খুনের ঘটনায় দুইজন গ্রেপ্তার 

চট্টগ্রামে জোড়া খুনের মামলায় ছোট সাজ্জাদ গ্রেপ্তার, অন্য মামলায় রিমান্ড

'ছোট সাজ্জাদ ও স্ত্রীর পরিকল্পনায়' গাড়িতে জোড়া খুন: নিহতের মা

শীর্ষ সন্ত্রাসী সরোয়ারকে 'টার্গেট করেই' গাড়িতে গুলি

চট্টগ্রামে প্রাইভেট কার থামিয়ে গুলি করে ২ জনকে হত্যা