৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

সরকারি চাকরিতে থেকে আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ: সরাইলের ওসিকে নোটিস

ওসির দাবি সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে তিনি সদস্য পদ স্থগিতের আবেদন করেছিলেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 30 Oct 2026, 08:25 PM

Updated : 30 Oct 2026, 08:34 PM

সরকারি চাকরি করার পরও চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতিতে সদস্য পদ বহাল থাকায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার ওসিকে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে সংগঠনটি।

তবে সরাইল থানার ওসি মনজুর কাদের ভুঁইয়ার দাবি, সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে তিনি আইনজীবী সমিতির সদস্য পদ স্থগিতের আবেদন করেছিলেন।

গত ২২ অক্টোবর রাতে সরাইল থানায় গিয়ে ওসি মনজুর কাদেরের সঙ্গে বাদানুবাদে জড়ান ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনটি সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ নিয়ে গঠিত।

রুমিনের সঙ্গে ওসির এই বাদানুবাদের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতিতে মনজুর কাদের ভুঁইয়ার সদস্য পদ থাকার বিষয়টি নজরে আসে বলে জানান সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মঈনুদ্দীন। এরপর গত সোমবার ওসি মনজুরকে এ বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয় সমিতির পক্ষ থেকে।

এ প্রসঙ্গে জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মঈনুদ্দীন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সরাইল থানার ওসি মনজুর কাদের ভুঁইয়াকে আমরা শোকজ নোটিস পাঠিয়েছি। তার সদস্যপদ স্থগিত হয়নি। তিনি চট্টগ্রাম বারের সদস্য।

“সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার সঙ্গে ঘটনার বিষয়টি ভাইরাল হওয়ার পর ওসির সদস্য থাকার বিষয়টি আমাদের নজরে আসে। পরে কম্পিউটারে তালিকা অনুসন্ধান করে আমরা দেখতে পেয়েছি, তার নাম সদস্য তালিকায় আছে। সরকারি চাকরিতে থাকা কেউ চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য পদে থাকার বিধান নেই।”

এ বিষয়ে ওসি মনজুর কাদের বলেন, “আমি ২০০২ সালে চট্টগ্রাম বারের সদস্য হয়েছিলাম। তবে চাকরি পাওয়ার পর বার কাউন্সিলের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বারের কাছে সদস্যপদ স্থগিত চেয়ে আবেদন করি। সে সময় সমিতির সদস্য হিসেবে থাকা আমার বকেয়াও পরিশোধ করে দিই।

“এরপরও কিভাবে আমার সদস্য পদ রয়েছে, সেটা জানি না। সেটা সমিতি বলতে পারবে। যাদের সদস্য পদ আছে কিন্তু প্র্যাকটিস করছেন না, এমন অনেককেই সমিতির পক্ষ থেকে নোটিস দেওয়া হচ্ছে। তার মধ্যে আমাকেও নোটিস পাঠানো হয়েছে।”

সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে আইনজীবী সমিতির সদস্য পদ স্থগিত চেয়ে করা আবেদনটির কপি তার কাছে আছে দাবি করে ওসি মনজুর বলেন, “চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নোটিস পেয়েছি। আমার আবেদনের কপিসহ আনুষাঙ্গিক তথ্যাদি নোটিসের জবাবের সঙ্গে সমিতি বরাবরে পাঠিয়ে দেব।”

সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মঈনুদ্দীন বলেন, “সদস্যপদ ত্যাগ করা নিয়ে এখন পর্যন্ত আমরা ৩০ জনকে নোটিস দিয়েছি। এদের মধ্যে কেউ জবাব দিয়েছে। তাদের মধ্যে ৫/৬ জনের সদস্যপদ স্থগিত হয়েছে। কিছু লোকজন জবাব দিয়েছে, তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আইন ককর্মকর্তা হিসেবে আছে। তাদের সদস্যপদ বহাল থাকবে।”

এরআগে ২৪ জুন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সেখানে সমিতিতে তালিকাভুক্ত নন-প্র্যাক্টিশনার সদস্য যারা বিভিন্ন সরকারি বা আধা সরকারি বা বেসরকারি বা স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বীমা, অর্থ বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বা কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পূর্ণ দিবস বা খণ্ডকালীন চাকরি করেন তাদের নিজ দায়িত্বে ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে সদস্যপদ স্থগিত করার অনুরোধ করা হয়।

সমিতির গঠনতন্ত্র অনুসারে, আইন বিষয়ে শিক্ষকতা ও কোনো প্রতিষ্ঠানে আইন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ব্যক্তিরা প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র জমা দিয়ে সদস্যপদ বহাল রাখতে পারবেন বলে ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

পুরনো খবর:

ওসির সঙ্গে রুমিনের বাদানুবাদ, বললেন ‘আপনি বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন’