Published : 08 Jan 2026, 06:18 PM
চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামি এলাকায় বাংলাদেশ চা বোর্ডের মালিকানাধীন ৬৫ শতক জমি অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের কাট্টলী সার্কেলের সহকারি কমিশনার (ভূমি) হুছাইন মুহাম্মদের নেতৃত্বে এ অভিযান চালানো হয়।
জমিটি ইস্পাত প্রস্তুতকারক রতনপুর স্টিল রিরোলিং মিলস লিমিটেডের (আরএসআরএম) অঙ্গ প্রতিষ্ঠান মেসার্স মডার্ন স্টিল মিলস লিমিটেডকে ভাড়া দিয়েছিল চা বোর্ড।
চো বোর্ডের দাবি, ভাড়ার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও জমিটি চা বোর্ডকে ফেরত দেয়নি ওই প্রতিষ্ঠান। ভাড়া বাবদ চা বোর্ডের পাওনা দুই কোটি ২৪ লাখ টাকাও পরিশোধ করেনি।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের উপ-পরিচালক (বাণিজ্য) মুহাম্মদ মদহুল কবীর চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “জায়গা ছেড়ে দিতে ও বকেয়া ভাড়ার জন্য গত প্রায় ৪ বছরে চা বোর্ড বারবার চিঠি দিয়েছে। কিন্তু তারা জমি ছাড়েনি।
“হাই কোর্ট গত বছরের ১ জুন মেসার্স মডার্ন স্টিল মিলস লিমিটেডকে এক মাসের মধ্যে চা বোর্ডের সব পাওনা পরিশোধের আদেশ দেয়। কিন্তু তারা সেটাও করেনি।”
নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী মাজার সংলগ্ন এলাকায় বাংলাদেশ চা বোর্ডের মালিকানাধীন ৬৫ শতক খালি জায়গা ২০০৮ সালে মর্ডান স্টিল মিলস লিমিটিডকে ভাড়া দেয়া হয়েছিল।
এরপর ২০১৮ সালে চুক্তি নবায়ন করা হয়। তখন চা বোর্ডের প্রধান কার্যালয় নির্মাণ ও কর্মচারীদের আবাসন নির্মাণের জন্য ২০২২ সালে জমিটি ছেড়ে দেয়ার শর্তে চুক্তি নবায়ন হয়েছিল।
কিন্তু ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর ওই ভাড়ার চুক্তি শেষ হলেও জমি ফেরত পায়নি চা বোর্ড। পরে জমি ফিরে পেতে আদালতে যায় সরকারি সংস্থাটি।
এ বিষয়ে জানতে আরএসআরএমের পরিচালক মারজানুর রহমানের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
অভিযানের শেষে বিকাল ৫টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রামের কাট্টলী সার্কেলের সহকারি কমিশনার (ভূমি) হুছাইন মুহাম্মদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আদালতের নির্দেশে আমরা এখানে এসে জমিটি চা বোর্ডকে বুঝিয়ে দিয়েছি।”
উদ্ধার হওয়া জমিতে মডার্ন স্টিল মিলস লিমিটেডের প্রতিষ্ঠিত একটি বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন আছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ চা বোর্ডের উপ-পরিচালক (বাণিজ্য) মুহাম্মদ মদহুল কবীর চৌধুরী বলেন, “জমিতে ছোট একটি সাব স্টেশন আছে। তবে ওই প্রতিষ্ঠানের কাছে জনতা ব্যাংক বড় অংকের ঋণের টাকা পাওনা থাকায় কয়েকবছর আগে ব্যাংক সেটি সিল করে দেয়। সেটি তখন থেকে বন্ধ অবস্থায় পড়ে আছে।”
বৃহস্পতিবারের উচ্ছেদ অভিযানে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে ছিল সেনাবাহিনী ও পুলিশ।