হাসারাঙ্গাকে নিয়ে চাতুরির আশ্রয় নেওয়া হয়নি, দাবি শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের

বিশ্বকাপে নিষেধাজ্ঞা এড়াতেই টেস্ট অবসর ভেঙে বাংলাদেশ সিরিজে ফেরানো হয়েছে এই লেগ স্পিনারকে, এমন অভিযোগ উড়িয়ে দিল শ্রীলঙ্কা।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 21 March 2024, 04:44 AM
Updated : 21 March 2024, 04:44 AM

ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গাকে নিয়ে চলমান বিতর্কে অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাখ্যা দিতে বাধ্য হলো শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি)। তাদের দাবি, অবসর ভেঙে এই লেগ স্পিনারের টেস্টে ফেরার সঙ্গে তার নিষেধাজ্ঞার কোনো সংযোগ নেই।

সাদা বলের ক্রিকেটে বেশি মনোযোগ দিতে এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে আরও বেশি সম্পৃক্ত হতে গত অগাস্টে টেস্ট ক্রিকেট ছেড়ে দেন হাসারাঙ্গা। তবে এবার বাংলাদেশে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের দলে তাকে রাখা হয়। এসএলসি জানায়, অবসর ভেঙে টেস্টে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শ্রীলঙ্কার টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক।

দল ঘোষণার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে আইসিসির নিষেধাজ্ঞার খবরও জানা যায়। বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে অসদাচরণের জন্য ম্যাচ ফির ৫০ শতাংশ জরিমানা করা হয় তাকে, পাশাপাশি নামের পাশে যোগ করা হয় তিনটি ডিমেরিট পয়েন্ট। তাতে হাসারাঙ্গার মোট ডিমেরিট পয়েন্ট পৌঁছে যায় আটে।

নিয়ম অনুযায়ী, আট ডিমেরিট পয়েন্ট মানে দুটি টেস্ট কিংবা চারটি ওয়ানডে বা চারটি টি-টোয়েন্টি থেকে নিষিদ্ধা হওয়া। নিষেধাজ্ঞার পর যে সংস্করণের খেলা আগে পড়বে, সেটাতেই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়।

বাংলাদেশ সফরের পর শ্রীলঙ্কার পরের সিরিজ আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এই সফরের টেস্ট দলে না থাকলে তাই বিশ্বকাপের প্রথম চারটি ম্যাচে বাইরে থাকতে হতো হাসারাঙ্গাকে।

ক্রিকেট বিশ্বজুড়েই আলোচনা চলতে থাকে, বিশ্বকাপে নিষেধাজ্ঞা এড়াতেই হাসারাঙ্গার আচমকা এমন টেস্টে অবসর ভেঙে ফেরা। বাংলাদেশের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচটি ছিল গত সোমবার। সেদিনই ম্যাচ শেষে তার ডিমেরিট পয়েন্ট ব্যাপারটি নিশ্চিত হয়ে যায়। আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য অনেক সময় দুই-একদিন সময় নেয় আইসিসি। ওয়ানডে সিরিজ শেষ হওয়ার পরপরই টেস্ট সিরিজের দল ঘোষণা করে শ্রীলঙ্কা। পরদিন আসে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা। দুটির সংযোগ খোঁজা তাই অনেকটা অবধারিতই।

হাসারাঙ্গা প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে কোনো ম্যাচ খেলেননি গত এক বছরে। হুট করে এবার তার টেস্টে ফেরা নিয়ে তাই সংশয়ের উপকরণ থেকে যায় বটে।

তবে এসএলসি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচের দুই দিন আগেই ই-মেইলে হাসারাঙ্গা বোর্ডকে জানিয়েছেন, তার ফিটনেসের অবস্থার উন্নতি হয়েছে এবং তিনি টেস্টে ফিরতে ইচ্ছুক।

শ্রীলঙ্কার নির্বাচক কমিটির সদস্য ও সাবেক রহস্য স্পিনার অজান্তা মেন্ডিস তো ক্রিকেট ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফোকে জানান, হাসারাঙ্গা আরও আগেই তাদেরকে জানান টেস্টে ফেরার ইচ্ছের কথা।

“প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সে আমাদের বলেছে, আবার টেস্ট খেলতে চায়। আমি জানি, এখন ব্যাপারটা অন্যরকম লাগছে। তবে শেষ ওয়ানডের বেশ আগেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে যায়।”

ব্যাপারটি আইসিসিও খতিয়ে দেখছে এবং এসএলসির সঙ্গে যোগাযোগ করছে বলে জানিয়েছে ইএসপিএনক্রিকইনফো। তবে পেছনের উদ্দেশ্য যেটাই থাকুক, কোনো আইন যেহেতু ভাঙা হয়নি, আইসিসিরও এখানে কিছু করার নেই।

হাসারাঙ্গা টেস্ট সিরিজের দলে থাকলে আইপিএলের শুরুর ভাগে তাকে পেত না সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। তবে আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিটিও জানত না ২৬ বছর বয়সী লেগ স্পিনারের টেস্টে ফেরার পরিকল্পনার কথা।

শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রে এমন অভিযোগ নতুন নয়। ২০১২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিয়মিত অধিনায়ক মাহেলা জায়াওয়ার্দেনের বদলে একটি ম্যাচে টস করেন কুমার সাঙ্গাকারা। ওই টুর্নামেন্টে আগেই এক ম্যাচে মন্থর ওভাররেটের কারণে জরিমানা হয়েছিল জায়াওয়ার্দেনের। আরেক দফায় একই ঘটনা ঘটলে তার নিষেধাজ্ঞা পাওয়ার শঙ্কা ছিল। সেটা এড়াতেই সাঙ্গাকারাকে এক ম্যাচের জন্য টস করতে পাঠানো হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।