১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

চার-ছক্কার তাণ্ডবে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়লেন অ্যালেন

অতিমানবীয় ব‍্যাটিংয়ে ক্রিস গেইলের রেকর্ড নিজের করে নিলেন নিউ জিল‍্যান্ডের এই ওপেনার।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 05 Mar 2026, 12:42 AM

Updated : 26 Aug 2026, 03:05 PM

অবিশ্বাস্য এক ঝড়ো ইনিংসে সব যেন তছনছ করে দিলেন ফিন অ্যালেন। চার-ছক্কার তাণ্ডবে প্রতিপক্ষের বোলারদের নিয়ে ছেলেখেলা করলেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকাকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পথে গড়লেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড।

আসরের প্রথম সেমি-ফাইনালে বুধবার ৩৩ বলে অসাধারণ রেকর্ডটি গড়েন অ্যালেন। তিন অঙ্ক ছুঁতে ১০টি চার ও আটটি ছক্কা হাঁকান তিনি।

২০ ওভারের ক্রিকেটের বিশ্বকাপে আগের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড ক্রিস গেইলের; ২০১৬ আসরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪৭ বলে রেকর্ডটি গড়েন তিনি। এই তালিকায় পরের স্থানেও এই ক্যারিবিয়ান মহাতারকা, ২০০৭ আসরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৫০ বলে সেঞ্চুরি করেন তিনি।

কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে বুধবার প্রথম সেমি-ফাইনালে উইকেট ছিল ব্যাটিং সহায়ক। কিন্তু আগে ব্যাটিংয়ে নেমে তা কাজে লাগাতে পারেনি প্রোটিয়ারা, করতে পারে ১৬৯ রান।

শিশিরের কারণে পরে ব্যাটিং আরও সহজ হয়ে যায়। তবুও, লক্ষ্য তো খুব ছোট ছিল না। কিন্তু অ্যালেন ও সাইফার্টের ব্যটে সেটাই হয়ে গেল মামুলি।

ঝড়ো গতিতে রান তাড়ার শুরুটা হয় সাইফার্টের ব্যাটে, প্রথম ওভারে দুটি চার মারেন তিনি। পরের ওভারে একটি বাউন্ডারি মারেন অ্যালেন। তৃতীয় ওভারের প্রথম বলে প্রথম ছক্কা হাঁকান তিনি, ওই ওভারেই একটি করে ছক্কা ও চার মারেন সাইফার্ট।

বাউন্ডারি আসতে থাকে প্রতি ওভারেই। পাঁচ ওভার শেষে সাইফার্টের রান ছিল ২১ বলে ৪১, আর অ্যালেনের ৯ বলে ২১।

এরপর, পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে যে ঝড় তোলেন অ্যালেন, তাতেই যেন পথ হারিয়ে ফেলে গতবারের রানার্সআপরা। কর্বিন বশের প্রথম বল উড়িয়ে সীমানা ছাড়া করার পর, টানা পাঁচটি চার মারেন অ্যালেন। ছাড়িয়ে যান জুটির সঙ্গীকে।

পরের দুই ওভারে তিনটি চার মারার পথে ফিফটিতে অবশ্য আগেই পৌঁছান সাইফার্ট, ২৮ বলে। আর নবম ওভারে ১৯ বলে পঞ্চাশে পা রাখেন অ্যালেন।

ম্যাচ তখন পুরোপুরিই নিউ জিল্যান্ডের দিকে হেলে। দশম ওভারের প্রথম বলে সাইফার্ট ফিরে গেলেও, অ্যালেনের মারমুখী ব্যাটিংয়ে ফল নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা কখনোই জাগেনি।

শেষ দিকে একটা বিষয় নিয়ে রোমাঞ্চ অবশ্য তৈরি হয়, বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রান তোলার হিসাবও হতে থাকে। সেটা হলো, অ্যালেনের সেঞ্চুরি হবে?

১১ ওভার শেষে নিউ জিল্যান্ডের জয়ের জন্য তথন প্রয়োজন ৩৩ রান, অ্যালেনের চাই ৩৫। দ্বাদশ ওভারের তৃতীয় বলে সিঙ্গল দিলেন মাহারাজ। এরপরই নতুন গতি পেল অ্যালেনের রান তোলায়।

পরপর একটি চার ও ছক্কা মেরে ওভারের শেষ বলে সিঙ্গল নিলেন অ্যালেন। পরের ওভারের প্রথম চার বলে টানা দুটি চারের পর মারেন টানা দুটি ছক্কা। তখন হিসাবটা দাঁড়ায় নিউ জিল্যান্ডের জিততে দরকার ১ রান, অ্যালেনের সেঞ্চুরি ছুঁতে প্রয়োজন চার রানের।

মার্কো ইয়ানসেনের বল স্লটে পেয়ে ঠাণ্ডা মাথায় মিড-অফ ফিল্ডারের ওপর দিয়ে বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে জয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি রেকর্ডটিও গড়ে ফেলেন অ্যালেন।

এই প্রতিযোগিতায় নিউ জিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে এতদিন দ্রুততম সেঞ্চুরি ছিল ব্রেন্ডান ম্যাককালামের; ২০১২ আসরে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৫১ বলে তিন অঙ্কে পৌঁছেছিলেন তিনি।

অনেকটা ব্যবধানেই সবাইকে পেছনে ফেলে রেকর্ডটি নিজের করে নিলেন ফিন অ্যালেন। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটা তার তৃতীয় সেঞ্চুরি।

রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরিতে অ্যালেনের 'প্রথম'

বিশ্বকাপে জুটির রেকর্ড সাইফার্ট-অ্যালেনের

অ্যালেনের বিস্ফোরক শতকে দ. আফ্রিকাকে হারিয়ে ফাইনালে নিউ জিল্যান্ড