Published : 06 Mar 2026, 09:12 PM
টানা তিন শূন্যে শুরু বিশ্বকাপ অভিযান। এরপর, এক ম্যাচে সেরা সময়ের ঝলক দেখিয়ে ফের ব্যর্থতার বৃত্তে বন্দি হয়ে গেছেন আভিশেক শার্মা। তবুও তার ওপর আস্থা হারাচ্ছেন না কাপিল দেব। ফাইনালের জন্যও টিম ম্যানেজমেন্টকে বাঁহাতি ওপেনারের ওপর ভরসা রাখতে বলেছেন ভারতের বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক।
এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রতিপক্ষের বোলারদের গুঁড়িয়ে দেবেন, উপহার দেবেন বিস্ফোরক সব ইনিংস; আভিশেককে নিয়ে এমন প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু টুর্নামেন্ট শুরু হতেই সেই আশায় গুঁড়ে বালি। অভিষেক বিশ্বকাপে প্রথম তিন ইনিংসেই রানের খাতা খুলতে পারেননি তিনি।
সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ দিয়ে প্রথম রানের দেখা পেলেও, খেলতে পারেননি বড় ইনিংস। পরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চারটি করে ছক্কা-চারে ৩০ বলে ৫৫ রান করে ফর্মে ফেরার আভাস দেন আভিশেক। কিন্তু ফের ব্যর্থতার বলয়ে ঢুকে গেছেন তিনি।
সবশেষ দুই ম্যাচে তার রান যথাক্রমে ১০ ও ৯। তাই ফাইনালে আভিশেককে একাদশে রাখা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কিন্তু, কঠিন সময় কাটানো এই ক্রিকেটারের কাঁধে আস্থার হাত রাখছেন কাপিল। ভারতের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ে নেতৃত্ব দেওয়া অলরাউন্ডার বলেন, আভিশেকেরও নিজের সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস রাখা উচিত।
“দলের ওপর আস্থা রাখতে হবে, এবং ম্যানেজমেন্টের তার খেলোয়াড়দের ওপর ভরসা রাখা উচিত। আভিশেকেরও নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে যে, ‘আমি পারফর্ম করতে পারি এবং আমি করব।’ একটি ম্যাচ এখনও বাকি, সেটা ফাইনাল।”
সেমি-ফাইনালে ২৫৩ রান করেও ইংল্যান্ডকে হারাতে বেগ পেতে হয় ভারতের। রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে সাত রানে জিতে ফাইনালে জায়গা করে নেয় শিরোপধারীরা। দলের এই জয়ে শেষ দিকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন জাসপ্রিত বুমরাহ। ১৮তম ওভারে মাত্র ৬ রান দিয়ে ম্যাচের ভাগ্য অনেকটা গড়ে দেওয়া তারকা পেসারের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন কাপিল।
“বুমরাহ বিশ্বের এক নম্বর বোলার এবং সে সেরা। কেন সে সেরা? কারণ সে চাপের সময় নিজেকে মেলে ধরে এবং সে যেভাবে বোলিং করে, সবার কাছ থেকেই সম্মান প্রাপ্য তার।”
সবচেয়ে বড় অবদান অবশ্য সাঞ্জু স্যামসনের। টুর্নামেন্টের শুরুতে যার জায়গা হয়নি একাদশে, সেই তিনিই পরপর দুই ম্যাচে দারুণ দুটি ইনিংস খেলে ভারতকে ফাইনালে তোলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে রান তাড়ায় অপরাজিত ৯৭ রান করার পর, সেমি-ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে করেন ৮৯ রান।
ফর্মের কারণে শুরুতে সুযোগ না পাওয়া স্যামসনই এখন ভারত দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে উঠেছেন। তাকে স্তুতির জোয়ারে ভাসিয়েছেন কাপিল। ছন্দহীন আভিশেকও তাই যে যেকোনো সময় জ্বলে উঠতে পারে, মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি।
“সাঞ্জু অসাধারণ ক্রিকেটার, বড় ক্রিকেটারও মাঝেমধ্যে কক্ষচ্যূত হতে পারে, যেমনটা আভিশেকের ক্ষেত্রে হয়েছে…আর গত দুই ম্যাচে সাঞ্জু চমৎকার ক্রিকেট খেলেছে।”
আহমেদাবাদে আগামী রোববার বিশ্বকাপের ফাইনালে নিউ জিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ভারত।