Published : 09 Mar 2026, 08:12 AM
এই বিশ্বকাপ জুড়ে আভিশেক শার্মার ফর্ম নিয়ে ছিল তুমুল আলোচনা। ম্যাচের পর ম্যাচ খেলেও তিনি ঠিক জ্বলে উঠতে পারছিলেন না। সেই তিনিই ফাইনালে ঝড়ো ফিফটি করে দলের শিরোপা জয়ে রাখেন উল্লেখযোগ্য অবদান। কঠিন সময়ে পাশে থাকার জন্য টিম ম্যানেজমেন্টের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন ভারতীয় ওপেনার।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অনেক দিন ধরেই দাপট দেখাচ্ছিলেন আভিশেক। বিশ্বকাপের ঠিক আগে ঘরের মাঠে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজেও তার ব্যাটে ছিল রানের জোয়ার। বিশ্বকাপেও তাকে ঘিরে ছিল প্রবল প্রত্যাশা। কিন্তু অভাবনীয়ভাবে প্রথম তিন ম্যাচেই শূন্য রানে আউট হন তিনি।
প্রথম সাত ম্যাচে তিনি ফিফটি করতে কেবল একটি, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। ফাইনালের আগ পর্যন্তও একাদশে তার জায়গা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল নিয়মিত। ব্যাটিং গ্রেট সুনিল গাভাস্কার থেকে শুরু করে সাবেক আরও কয়েকজন ভারতীয় ক্রিকেটার পরামর্শ দেন তাকে একাদশ থেকে বাদ দিতে।
সেই আভিশেক রোববার শিরোপা লড়াইয়ে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ছয় চার ও তিন ছক্কায় ২১ বলে ৫২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন ভারতের। প্রথম তিন ব্যাটসম্যানের পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস ও শিভাম দুবের ক্যামিওতে ২৫৫ রানের পুঁজি গড়ে সুরিয়াকুমার ইয়াদাভের দল। পরে জাসপ্রিত বুমরাহর দারুণ বোলিংয়ে ৯৬ রানের বড় জয়ে প্রথম দল হিসেবে টানা দুইবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়ে ভারত।
ম্যাচের শেষটাতেও ছিল আভিশেকের অবদান। তার বলেই শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্যাচ দেন জ্যাকব ডাফি।
শিরোপা জয়ের প্রতিক্রিয়ায় আভিশেক বললেন, তাকে নিয়ে বাইরে অনেক আলোচনা হলেও কোচ ও অধিনায়ক তার প্রতি আস্থা হারাননি।
“আমি আগেও এটা বলতে চেয়েছিলাম, তবে আজ বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য সেরা দিন: কোচ ও অধিনায়ক আমার ওপর আস্থা রেখেছিলেন। এমনকি আমাকে নিয়ে আমার নিজেরই সংশয় তৈরি হয়েছিল, কারণ আমার জন্য টুর্নামেন্টটা সহজ ছিল না। আমার প্রথম বিশ্বকাপ, আগে কখনও এমন অভিজ্ঞতা আমার হয়নি।”
“বছর ধরে আমি দলের জন্য এত ভালো করছিলাম, কিন্তু বড় মঞ্চে ভালো করতে পারছিলাম না। তবে খেলোয়াড় ও কোচরা আমার ওপর যে বিশ্বাস দেখান... আমি মাঝে মাঝে আবেগতাড়িত হয়ে পড়ছিলাম। আমি সব ম্যাচেই ভালো করতে চাচ্ছিলাম, কিন্তু পারছিলাম না। তারপর আমি কোচ বা অধিনায়কের সঙ্গে কথা বলতে চাইতাম। তারা সবসময় একটা কথাই বলতেন: ‘তুমি আমাদের বড় ম্যাচ জিতিয়ে দেবে।’ আমি শুধু সেই দিনের জন্য অপেক্ষা করতে চেয়েছি। এর চেয়ে ভালো দিন আর চাইতে পারি না।”