Published : 01 Mar 2026, 03:21 PM
বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে পাকিস্তান, আরেকটি আইসিসি টুর্নামেন্টের সেমি-ফাইনালে খেলা হচ্ছে না; তাতে হৃদয় ভাঙার কথা বলেছেন দেশটির সাবেক ক্রিকেটারদের অনেকেই। কিন্তু বাসিত আলির খারাপ লাগছে না একটুও। এটাকে তো পাকিস্তান দলই মনে করেন না তিনি! সাবেক এই ব্যাটসম্যানের মতে, ‘মাইক হেসনের দল’ শেষ চারে খেলার যোগ্যই ছিল না।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটে শনিবার শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েও মূল লক্ষ্য পূরণ হয়নি পাকিস্তানের। রান রেটে পিছিয়ে থাকায় আসর থেকে বিদায় নিয়েছে তারা। তাদেরকে টপকে এই গ্রুপের দ্বিতীয় সেরা দল হয়ে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে নিউ জিল্যান্ড। তিনটি ম্যাচই জিতে গ্রুপ সেরা হয়েছে ইংল্যান্ড।
বিশ্বকাপের জন্য পাকিস্তানের ঘোষিত দলই পছন্দ হয়নি বাসিতের। এটিকে কোনো জাতীয় দল নয়, বরং ফ্র্যাঞ্চাইজি দল মনে হয়েছে তারা। আর তাই এই দল নিয়ে ভালো কিছুর প্রত্যাশাও ছিল না ১৯ টেস্ট ও ৫০ ওয়ানডে খেলা মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান।
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে পাকিস্তান দলের নানা দিক নিয়ে প্রায়ই আলোচনা-সমালোচনা করে থাকেন বাসিত। বিশ্বকাপ থেকে পাকিস্তানের বিদায় নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার পর ৫৫ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার দল নির্বাচনের দিকে আরেকবার আঙুল তুললেন।
“আমার কোনো আফসোস নেই, আর এখানে লজ্জিত হওয়ারও কিছু নেই। দল ঘোষণার পরই বলেছিলাম, এটা পাকিস্তান দল নয়। এই দলে পছন্দ-অপছন্দের অনেক বিষয় কাজ করেছে।”
“হার নিয়ে আমি চিন্তিত নই। কারণ আমাদের তো জেতার সামর্থ্যই নেই। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ফাহিম ছক্কা মেরেছিল বলে জিতেছিলাম আমরা। সবারই ব্যাটিং পজিশন উপর-নিচ হয়, কিন্তু ফাহিম আশরাফকে উপরে খেলানো হয় না, কারণ সে তো পছন্দ নয়। এটা মাইক হেসনের দল, পাকিস্তানের দল বলবেন না।”
সেমি-ফাইনালে খেলতে হলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জিততে তো হতোই, সঙ্গে রান রেটের কঠিন সমীকরণও মেলাতে হতো পাকিস্তানকে। কিন্তু ম্যাচ জিতলেও, রান রেটে কিউইদের পেছনে ফেলতে পারেনি তারা।
সাহিবজাদা ফারহানের সেঞ্চুরি ও ফাখার জামানের সঙ্গে তার রেকর্ড গড়া জুটিতে ২১২ রানের পুঁজি গড়ে পাকিস্তান। শেষ দিকে রান না আসায় তাদের সংগ্রহ আরও বড় হয়নি। ১৭৬ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর ৩৪ রানের মধ্যে আরও সাত উইকেট হারায় পাকিস্তান। শেষ চারে ওভারে ৩৫ রান করতে পারে তারা।
বাসিতের মতে, যোগ্য দল হিসেবেই শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে নিউ জিল্যান্ড।
“শেষ চার ওভারে ৩৬ রানের জায়গায় যদি ৬৫ রান করতে পারত পাকিস্তান, তাহলেও তারা সেমি-ফাইনাল খেলার যোগ্য ছিল না। কারণ নিউ জিল্যান্ড তাদের চেয়ে অনেক ভালো। কিউইরা তাদের চেয়ে ভালো ক্রিকেট খেলেছে, পরিশ্রমও বেশি করেছে। যখন ক্রিকেট আসে, তখন নিউ জিল্যান্ডের মানসিকতা দৃঢ় হয়ে যায়।”
এরপরই দলের খুঁটিনাটি নিয়ে কথা বলেন বাসিত। শুরুতেই তিনি শূলে চড়ান প্রধান কোচ মাইক হেসনকে। টি-টোয়েন্টির জন্য বাবর আজমকে উপযুক্ত মনে না হলে, তাকে কেন দলে রাখা হলো সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
“সে (হেসন) প্রকাশ্যে বাবরকে যেভাবে অপমান করেছে, পিসিবি তাকে কিছু জিজ্ঞেসই করেনি যে, কেন এভাবে সবার সামনে এসব বলল। সে বলেছে, পাওয়ার প্লেতে বাবরের অভিপ্রায় ঠিক নেই ও স্ট্রাইক রেট খুব কম। দশ ওভারের পর সে চলে না, তাহলে তাকে দলে নেওয়া হলো কেন? যারা দলে নিয়েছে, আর যিনি সমর্থন করেছেন, প্রধান কোচের কথা বলছি, তাদের থেকে জবাব কে নেবে?”
“আমি বহুবার টিভিতে বলেছি, বাবরকে চার নম্বরে খেলাবেন না, এই জায়গা তার জন্য নয়। সেই ত্যাগটুকু আপনারা করেননি যে, ছেলেটা তিনে খেলুক ও কিছু রান করুক। আপনাদের উদ্দেশ্যই সৎ ছিল না।”
বাসিত সরাসরিই বলেন, দলের মধ্যে ছিল স্বজনপ্রীতি। সেসবের কিছু উদাহরণও তুলে ধরেন পাকিস্তানের সাবেক এই ক্রিকেটার।
“ভারতের বিপক্ষে উসমান খান ৪৪ রান করল, এরপর তাকে আর উপরে খেলানো হলো না, নিচেই নামিয়ে দেওয়া হলো কেবল। সত্যি বলতে, সে পছন্দের নয়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আবরার আহমেদকে খেলানো উচিত ছিল তাদের।”
অধিনায়কত্ব হারাবেন সালমান আলি আগা, পাকিস্তান ক্রিকেটে চলছে এমন আলোচনা। শাদাব খানকে পরিবর্তী অধিনায়ক হিসেবে দেখছেন সাবেকদের কেউ কেউ। এই প্রসঙ্গ টেনে দেশটির সাবেক ক্রিকেটারদের ধুয়ে দেন বাসিত।
“সিরিয়াসলি, লজ্জা থাকা উচিত আপনাদের। দেশের জন্য ভালো উপদেশ দিন। আপনারা এই দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এটাই কি আমাদের প্রাপ্য?”