Published : 06 Mar 2026, 10:35 PM
আসরের শুরুতে ছিলেন একাদশে আসা-যাওয়ার মধ্যে। তবে সবশেষ দুই ম্যাচে দুর্দান্ত দুটি ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়ে হয়েছেন ম্যাচ সেরা। ভারতের বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার নায়ক সাঞ্জু স্যামসন পেতে পারেন দারুণ এক স্বীকৃতি। ‘প্লেয়ার অব দা টুর্নামেন্ট’ এর সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন এই কিপার-ব্যাটসম্যান।
আইসিসি শুক্রবার প্রকাশ করেছে সংক্ষিপ্ত তালিকা। ছয় দেশের আট ক্রিকেটার জায়গা পেয়েছেন এই তালিকায়। সর্বোচ্চ দুই জন করে আছেন দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউ জিল্যান্ডের, ভারতের একমাত্র প্রতিনিধি স্যামসন।
উইল জ্যাকস (ইংল্যান্ড)
৮ ম্যাচ, ২২৬ রান, ৯ উইকেট
বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের আট ম্যাচের মধ্যে ছয়টি জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন জ্যাকস। ‘প্লেয়ার অব দা ম্যাচ’ হয়েছেন তিনি চারটিতে। এর মধ্যে রয়েছে শ্রীলঙ্কা ও নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সুপার এইটের গুরুত্বপূর্ণ লড়াই।
এই অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার ব্যাটিংয়ে ফিনিশারের ভূমিকা পালন করেছেন দারুণভাবে। ১৭৬.৫৬ স্ট্রাইক রেটে রান করেছেন মোট ২২৬। ব্যাট হাতে তার সেরাটা দেখা যায় ইতালির বিপক্ষে; তিনটি চার ও চারটি ছক্কায় ২২ বলে করেন অপরাজিত ৫৩ রান। ৫ উইকেটে ১০৫ থেকে ৭ উইকেটে ২০২ রানের বড় পুঁজি পায় ইংল্যান্ড।
অফ স্পিনে তিনি ছিলেন দারুণ কার্যকর। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চার ওভারে ২২ রানে নেন ৩ উইকেট। এর আগে ব্যাট হাতে খেলেন ২১ রানের ইনিংস। তার আরেকটি দারুণ অলরাউন্ড পারফরম্যান্স দেখা যায় নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে। ২৩ রানে ২ উইকেট নেওয়ার পর, অপরাজিত ৩২ রানের ইনিংসে দলের জয় নিয়ে ফেরেন তিনি।
সেমি-ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে হেরে বিদায় নেয় ইংল্যান্ড
সাহিবজাদা ফারহান (পাকিস্তান)
৭ ম্যাচ, ৩৮৩ রান, ব্যাটিং গড় ৭৬.৬০, স্ট্রাইক রেট ১৬০.২৫
পাকিস্তানের হতাশাজনক বিশ্বকাপ অভিযানে ব্যক্তিগতভাবে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন সাহিবজাদা। ছয় ইনিংসে ৩৮৩ রান করে এখন পর্যন্ত আসরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক এই ওপেনার। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এক আসরে কোনো ব্যাটসম্যানের সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ড এটি।
দুটি সেঞ্চুরি করেন তিনি শ্রীলঙ্কা ও নামিবিয়ার বিপক্ষে। বিশ্বকাপের এক আসরে দুটি সেঞ্চুরি করা প্রথম ব্যাটসম্যানও তিনিই। সুপার এইট থেকে বিদায় নেয় তার দল।
লুঙ্গি এনগিডি (দক্ষিণ আফ্রিকা)
৭ ম্যাচ, ১২ উইকেট, ওভারপ্রতি রান ৭.১৯
দক্ষিণ আফ্রিকার পেস ব্যাটারির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এনগিডি। এই বিশ্বকাপে দলের সবচেয়ে ধারাবাহিক ফাস্ট বোলার ছিলেন তিনি।
কানাডার বিপক্ষে ৪ উইকেট নিয়ে তিনি শুরু করেন আসর। পরের ম্যাচে ৩ উইকেট নেন আফগানিস্তানে বিপক্ষে, যেখানে ডাবল সুপার ওভারে জেতে দক্ষিণ আফ্রিকা। সুপার এইটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেও ৩ উইকেট শিকার করেন তিনি। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে উইকেট না পেলেও, দারুণ বোলিংয়ে চার ওভারে দেন কেবল ১৫ রান।
আসরে টানা সাত জয়ের পর, সেমি-ফাইনালে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে হেরে বিদায় নেয় গতবারের রানার্সআপ দক্ষিণ আফ্রিকা।
এইডেন মার্করাম (দক্ষিণ আফ্রিকা)
৮ ম্যাচ, ২৮৬ রান, ১ উইকেট
কানাডার বিপক্ষে ফিফটি দিয়ে আসর শুরু করেন মার্করাম। সব মিলিয়ে আট ম্যাচের তিনটিতে পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস খেলেন দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক। ৪৭.৬৬ গড় ও ১৬৫.৩১ স্ট্রাইক রেটে ২৮৬ রান করে আসরে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিনিই।
তার সর্বোচ্চ ইনিংস নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে রান তাড়ায় ৪৪ বলে অপরাজিত ৮৬। কিউইদের ১৭৫ রান ১৭ বল হাতে রেখেই পেরিয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। সুপার এইটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে রান তাড়ায় ৪৬ বলে অপরাজিত ৮২ রানের আরেকটি দারুণ ইনিংসে দলকে জিতিয়ে ম্যাচ সেরা হন তিনিই।
রাচিন রাভিন্দ্রা (নিউ জিল্যান্ড)
৮ ম্যাচ, ১১ উইকেট, ১২৮ রান
আগ্রাসী ব্যাটসম্যান ও কার্যকর স্পিনার রাভিন্দ্রা বিশ্বকাপে ব্যাটে-বলে আলো ছড়াচ্ছেন। গ্রুপ পর্বে কানাডার বিপক্ষে রান তাড়ায় ৩৯ বলে অপরাজিত ৫৯ রানের ইনিংসে দলের জয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন তিনি।
সুপার এইটে নিউ জিল্যান্ডের প্রথম ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে যাওয়ার পর, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ম্যাচ সেরা হন রাভিন্দ্রা। ২২ বলে ৩২ রানের ইনিংস খেলার পর, চার ওভারে ২৭ রানে নেন ৪ উইকেট। পরের ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি ১৯ রানে নেন ৩ উইকেট। গুরুত্বপূর্ণ দুটি উইকেট নেন সেমি-ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে।
শাডলি ফন স্কল্কভাইক (যুক্তরাষ্ট্র)
৪ ম্যাচ, ১৩ উইকেট, ওভারপ্রতি রান ৬.৮০
যুক্তরাষ্ট্র গ্রুপ পর্বে থেকে বিদায় নিলেও, ৪ ম্যাচে ১৩ উইকেট নিয়ে এখনও আসরের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি ফন স্কল্কভাইক।
৩৭ বছর বয়সী এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের বিপক্ষে ২৫ রানে ৪ উইকেট নিয় শুরু করেন আসর। তার দারুণ বোলিংয়ে একপর্যায়ে ভারতের স্কোর ছিল ৬ উইকেটে ৭৭।
পরের ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষেও ২৫ রানে ৪ উইকেট শিকার করেন তিনি। পরে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে নেন ৩ উইকেট, নামিবিয়ার বিপক্ষে ২টি।
টিম সাইফার্ট (নিউ জিল্যান্ড)
৮ ম্যাচ, ২৭৪ রান, ব্যাটিং গড় ৪৫.৬৬, স্ট্রাইক রেট ১৬১.১৭
আট ম্যাচের তিনটিতে ফিফটি করেছেন সাইফার্ট। প্রথম দুই ম্যাচে আফগানিস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস (৬৫, ৮৯*) খেলে আসর শুরু করেন তিনি।
তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস সেমি-ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৫৮। ১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ফিন অ্যালেনের সঙ্গে তার ১১৭ রানের বিস্ফোরক উদ্বোধনী জুটি গড়ে দেয় জয়ের ভিত।
সাঞ্জু স্যামসন (ভারত)
৪ ম্যাচ, ২৩২ রান, ব্যাটিং গড় ৭৭.৩৩, স্ট্রাইক রেট ২০১.৭১
আসরের শুরুতে একাদশে জায়গা নিয়মিত ছিল না স্যামসনের। গ্রুপ পর্বে নামিবিয়ার বিপক্ষে ও সুপার এইটে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সুযোগ পেয়ে খুব একটা ভালো তিনি করতে পারেননি।
তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে কোয়ার্টার-ফাইনালে রূপ নেওয়া ম্যাচে রান তাড়ায় ১২ চার ও চার ছক্কায় ৫০ বলে অপরাজিত ৯৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়ে দেন স্যামসন। সেমি-ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আট চার ও সাত ছক্কায় ৪২ বলে ৮৯ রানের ইনিংস খেলে আবারও দলের জয়ের নায়ক তিনিই।