Published : 03 Jun 2026, 10:24 AM
সংবাদ সম্মেলনে লম্বা সময় ধরে কথা বলছিলেন কেন উইলিয়ামসন। এক পর্যায়ে তিনি বললেন, “আপনারা তো আমার লাঞ্চে দেরি করিয়ে দিচ্ছেন… খুব একটা ভালো কাজ হচ্ছে না কিন্তু…!”
তার রসিকতায় মৃদু হাসির ঢেউ বয়ে গেল সংবাদ সম্মেলন কক্ষে। উইলিয়ামসন কথাটি বলেছিলেন মজা করেই, তবে সত্যি বলতে, লর্ডসের লাঞ্চের প্রতি বাড়াত টান আছে প্রায় সবারই। ইতিহাস ও ঐতিহ্যের জন্য যেমন এই ভেন্যু বিখ্যাত, তেমনি অনেকে মনে করেন, লর্ডসের লাঞ্চও ক্রিকেট বিশ্বের সেরা ও সবচেয়ে মুখরোচক!
সেই লাঞ্চের স্বাদ উইলিয়ামসন পেয়েছেন বহুবার। তবে আর খুব বেশি পাবেন না। বৃহস্পতিবার শুরু হতে যাওয়া ইংল্যান্ড-নিউ জিল্যন্ড লর্ডস টেস্টই ক্রিকেট তীর্থে তার শেষ টেস্ট ম্যাচ।
বয়স ৩৫ পেরিয়ে গেছে। যদিও খুব বেশি নয়, তবে তিনি নিজেই নানা সময়ে বলেছেন, ক্যারিয়ার গোধূলিতে চলে এসেছেন। এই বছরের পর এখনও পর্যন্ত আইসিসির ভবিষ্যৎ সফর সূচি চূড়ান্ত হয়নি। নিউ জিল্যান্ড আবার কবে ইংল্যান্ড সফরে যাবে, নিশ্চয়তা নেই।
উইলিয়ামসন নিজেও নিউ জিল্যান্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেছেন বেশ আগেই। দেশের হয়ে খেলেন কেবল বেছে বেছেই।
লর্ডসের স্বাদ প্রথম পেয়েছিলেন উইলিয়ামসন ২০১২ সালে। গ্লস্টারশায়ারের হয়ে প্রো৪০ টুর্নামেন্টে খেলেছিলেন মিডলসেক্সের বিপক্ষে। প্রথমবার এখানে টেস্ট খেলেছিলেন তিনি ২০১৩ সালে। তার নিজের সেটি ছিল ২৪তম টেস্ট। এবার খেলবেন ক্যারিয়ারের ১১০তম টেস্ট।
টেস্টের বাইরে এখানে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলেছেন একবারই। ২০১৪ সালে সেই ম্যাচে খেলেছিলেন ইয়র্কশায়ারের হয়ে।
লর্ডসকে তিনি ‘হোম ভেন্যু’ হিসেবেও পেয়েছিলেন গত মৌসুমে। মিডলসেক্স কাউন্টি দলের হয়ে খেলেছেন তিনি, পাশাপাশি দা হান্ড্রেড টুর্নামেন্টে খেলেছেন লন্ডন স্পিরিটের হয়ে। জিম্বাবুয়ে সফরে নিউ জিল্যান্ডের টেস্ট বাদ দিয়ে ওই দুই টুর্নামেন্টে খেলেছিলেন তিনি।
এবার এই ভেন্যুতে নিজের শেষ টেস্টের আগে উইলিয়ামসন তুলে ধরলেন, এখানে খেলতে পারাটা কেন বিশেষ কিছু।
“এটা সবসময়ই স্পেশাল এক টেস্ট। গোটা ক্যারিয়ারে ফিরে তাকালে ... এটা নির্ভর করে আপনি কতদিন ধরে খেলছেন তার উপর... কিন্তু হ্যাঁ, আমি বেশ কিছুদিন ধরে খেলছি এবং লর্ডসে এসে খেলার সুযোগ হাতে গোনা কয়েকটিই পাওয়া যায়।"
“আমার মনে হয়, তারা যেভাবে ঐতিহ্যটা ধরে রেখেছে, তা বেশ স্পেশাল। এটা লর্ডসের নিজস্বতা। একে ঘিরে থাকা ইতিহাস, এর পেছনে যে প্রচেষ্টা, এই সবকিছুর জন্যই খানে এসে অন্য সব মাঠের সঙ্গে পার্থক্যগুলো লক্ষ্য করা যায়।”

উইলিয়ামসন বললেন, এখানে প্রথমবার খেলতে এলে সবাই অনুভব করতে পারে বিশেষত্বগুলো এবং এরপর থেকে এখানে খেলতে মুখিয়ে থাকে।
“লং রুম দিয়ে হেঁটে মাঠে যাওয়া, সদস্যের কয়েকজনের সঙ্গে হঠাৎ দেখা হয়ে যাওয়া, আর অবশ্যই দুপুরের খাবার তো অসাধারণ। এখানে স্মরণীয় অনেক কিছুই আছে। তবে খেলার জন্য এটা একটা বিশেষ জায়গা এবং আমার মনে হয়, প্রথমবার এসে প্রত্যেকেই তা অনুভব করে এবং পরের প্রতিটি সুযোগকেই মূল্য দেয়।”
“এখানে যে অভিজ্ঞতাটা হয়, তা অসাধারণ। আমি জানি ড্রেসিং রুমের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারের জন্য এটা প্রথমবার এবং তারা এই সম্ভাবনা নিয়ে বেশ রোমাঞ্চিত।”
লর্ডসে উইলিয়ামসনের টেস্ট রেকর্ড অবশ্য খুব সমৃদ্ধ নয়। তার ক্যারিয়ার গড় যেখানে ৫৪.৫৯, এখানে চার টেস্টের আট ইনিংসে তার গড় ৩২।
তবে লর্ডসের বিখ্যাত অনার্স বোর্ডে তার নাম উঠেছে। ২০১৫ সালে এখানে তিনি করেছিলেন সেঞ্চুরি। সাচিন টেন্ডুলকার, ব্রায়ান লারা, রিকি পন্টিংয়ের মতো কিংবদন্তিরা যে স্বাদ পাননি।
ওই ম্যাচটিতে অবশ্য শেষ দিনের ব্যাটিং ব্যর্থতায় হেরে গিয়েছিল নিউ জিল্যান্ড। তবে সেই স্মৃতি এখনও দোলা দেয় উইলিয়ামসনকে।
“অনার্স বোর্ড এমন একটা কিছু, যা নিয়ে সবাই অনেক কথা বলে। সত্যি বলতে, এটা একটা অসাধারণ ক্রিকেট ম্যাচও ছিল। আমরা শেষ পর্যন্ত হেরে গেলেও ৭০০ রান করেছিলাম এবং ২০টি উইকেট নিয়েছিলাম - অন্য কোনো দিন হলে আমরা এতেই বেশ খুশি থাকতাম।”
“এটা ছিল এক অনন্য অভিজ্ঞতা, কারণ পিচটা বেশ ভালো ছিল, কিন্তু তারপর এক পর্যায়ে আকাশ মেঘলা হলো, (কৃত্রিম) আলো জ্বলে উঠল এবং হঠাৎ করেই পরিস্থিতিটা সত্যিই খুব কঠিন হয়ে গেল। বিশেষ করে ইংল্যান্ডে ডিউক বলের ক্ষেত্রে এই ধরনের কিছু বৈশিষ্ট্যই দেখা যায়। যদিও বেশ আগের কথা, তবে বেশ স্মরণীয় ছিল এবং এখনও তা হৃদয়ে লালন করি যত্নে।”